ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

শুরুর কয়েকটি কথাঃ

আমি যদি আজকে আপনাকে ধুম করে একটা প্রশ্ন করে বসি এই বলে যে, এই পৃথিবী নামের গ্রহটির সবচাইতে বিপদসংকুল দেশ কোনটি? কিংবা আপনাকে যদি প্রশ্ন করি, বোমাবাজির দেশ কোনটি? অথবা আপনাকে যদি জিজ্ঞেশ করি এই পৃথিবীতে এমন একটি দেশের নাম বলুন যে দেশটি একটি “ব্যানানা রিপাবলিক” বা ব্যার্থ রাষ্ট্র। আমি জানি আপনি মাথা চুলকোবেন না, দাড়িতে হাত দিয়ে মুখ চুলকে অথবা দাঁতের ভেতর নখ কেটে উত্তর দেবেন না। আপনি আমার তড়িৎ প্রশ্নের মতই তড়িৎ উত্তর দেবেন একটি রাষ্ট্রের কথা বলেই। সেই দেশটির নাম পাকিস্তান। ঘৃণায় আর ক্রোধে কেউ কেউ বলে থাকেন “পাকিংস্তান”বা “বোমাস্তান”।

যে যাই বলুক না কেন, পাকিস্তান তার চিরকালীন আবেদন নিয়েই চলছে দূরন্ত গ্রহানূর মত, উল্কার মত তীব্র গতিতে। এইসব নামকরনে ওদের সমস্যা হয় না, ওরা এজন্য লজ্জিতও নয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই গতিময় দেশটিতে মানুষ গতিময় নয়, গতিময় নয় তার ব্যবসা, বাণিজ্য, দোকান, অফিস আদালত, কল-কারখানা, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়…কিছুই নয়। শুধু একটি ব্যাপার ছাড়া। সেটি হচ্ছে, এই দেশের বোমাবাজেরা অত্যন্ত গতিময়। এরা পাশের বাসায় বোম মেরে প্রতিবেশীকে মেরে ফেলে, এরা স্কুলের শিক্ষককে মেরে ফেলে, আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, কৃষক, ছাত্র, কামার, মুচি, দোকানী, পতিতা, ব্যাবসায়ী, আইনজীবি সবাইকেই এরা মেরে ফেলে বোমা মেরে। এদের যখন দৈনিক কার্যতালিকায় আর কাউকে বোমা মারবার থাকে না, তখন তারা নিজেরাই নিজেদের মেরে ফেলে, যাকে তারা নাম দিয়েছে “আত্নঘাতি বোমা হামলা” নামে। সেটি না হলে তারা এমনিতেই বোমা ফাটায়, মানুষকে আতংকিত করে, ভয় দেখায়। মোট কথা পাকিস্তানের প্রতিটিদিনই এক একটি বোমাময় দিন।

১৯৭১ সালে এরা গুলি ফাটিয়ে আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলেছিলো নৃশংস ভাবে। মেরেছিলো বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে, হাত কেটে, পা কেটে, বুক কেটে, মাথা কেটে। ওদেরই বংশধরেরা আজ বোমা ফাটায় নিজেদের দেশের মানুষদের মেরে ফেলবার জন্য। হয়ত অচিরেই এই দেশটির নাম হবে বোমাস্তান। জাতিসংঘ হয়ত রেজুলেশন পাশ করেই এই দেশটির নাম “বোমাস্তান” করে নেবে, এতে সন্দেহ নেই।

আপনারা এরি মধ্যেই জেনেছেন যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এই বোমাস্তানে যাবে ওদের সাথে একদিনের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও একটি টি টুয়েন্টি ম্যাচ খেলবার জন্য। সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি স্থান থেকে জোরে স্লোগান তোলা হয়েছে যে, আমাদের ছেলেরা যাবে না এই নরকপুরীতে। এই স্লোগানে স্লোগানে ভরে গ্যাছে ফেসবুকের পাতা, ব্লগের পাতা, পত্রিকার পাতা। অথচ এতে করেও আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান পান্ডা আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল ওরফে লোটার টনক নড়েনি। কেন টনক নড়েনি সে কথায় আসবার আগে বাংলাদেশের এই বোমাস্তান সফরের বিষয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন।

যা হচ্ছে পাকিস্তানে এবং যে কারনে পাকিস্তান নিরাপদ নয়ঃ

পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হচ্ছেনা আজকে প্রায় তিন বছরেরো বেশী হয়ে গেলো। কেননা, এর আগেও পাকিস্তান বোমাবাজিতে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো অংশে তারা তাদের পারদর্শিতা খুব একটা দেখায়নি। কিন্তু সেটিও তারা নিশ্চিত করে ২০০৯ সালের মার্চের ৩ তারিখে। এই দিনে তারা পাকিস্তানে সফররত শ্রীলংকা জাতীয়দল বহনকারী ক্রিকেটারদের উপর একটি কাপুরোষিত হামলা চালায়। আসুন সে সময়ে বি বি সি’র করা একটি রিপোর্টের দিকে চোখ বুলাই-

Gunmen have attacked a bus carrying the Sri Lankan cricket team on its way to play in the Pakistani city of Lahore.

At least six policemen escorting the team bus were killed, along with a driver. Seven cricketers and an assistant coach were injured. Pakistani officials said about 12 gunmen were involved and grenades and rocket launchers have been recovered. Officials said the incident bore similarities to deadly attacks in Mumbai in India last November. The Mumbai attacks were blamed on Pakistan-based Islamic militants.

Pakistani cricket was already suffering from serious security concerns. Pakistan invited Sri Lanka to tour only after India’s cricket team pulled out of a scheduled cricket tour on security grounds, following the Mumbai attacks. And International Cricket Council president David Morgan told the BBC it would be “very difficult for international cricket to be hosted in Pakistan for quite some time to come”.

পাকিস্তানের বোমাবাজির কিছু তথ্যপূর্ণ উদাহরণঃ

গত ১০ বছরে পাকিস্তানে বোমা হামলার একটা চিত্র দেখে আমি বিষ্ময়ে হতবাক হয়েছি। আপনারাও এই লিঙ্কে গিয়েই দেখুন, আমাকে কষ্ট করে আর কিছুই বলতে হবে না।

শুধু তাই নয়, আজ ২০১২ সালের মাত্র এপ্রিল মাস চলছে। শুধু এই বছরের চারটি মাসেই পাকিস্তানে সহিংসতায়, ১৮৯ টি বোমা বাজির ঘটনায় মোট মারা গেছে ৩১৯ জন এবং আহত হয়েছে ৬৩৩ জন।

যে কারনে লোটাস কামাল পাকিস্তানে ক্রিকেট দল পাঠাতে এত আগ্রহীঃ

এত তথ্য কি শুধু আমি একাই জানি? যেখানে শুধু “পাকিস্তানে বোমা হামলা” ইংরেজীতে লিখলেই হাজার হাজার লিঙ্ক চলে আসে, যেখানে প্রতিটি দিনের টিভিতে আমরা পাকিস্তানের এসব বোমা হামলা দেখি, পত্রিকায় পড়ি, সেখানে কি কারনে বিসিবির পান্ডা লোটা কামালের এই উদ্যোগ? এর কারন আর কিছুই নয়, এর কারন হচ্ছে “পদ”, পদ পাবার জন্যই এই আত্নাহুতি নেবার প্রস্তুতি। কি সেই পদ? আসুন একটু জানি-

আই সি সি সাধারণত তাদের সভাপতির প্রক্রিয়াটি করে থাকে রোটেশন পদ্ধতিতে। এর মানে হচ্ছে প্রতি বছর দুইটি দেশ থেকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হবে। এই মুহুর্তে এই পদ্ধতির বর্তমান সভাপতি হচ্ছেন ভারতের শরদ পাওয়ার। ভারত করলো কি, এই মূহুর্তে এসে রোটেশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে একে ভোটাভুটির একটি প্রক্রিয়া করতে চাচ্ছে। এইখানে ভারতের চালাকি হচ্ছে, এইবার শরদ পাওয়ার চলে যাবার পর ভোটাভুটিতে তারাই আবার তাদের শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি কাজে লাগিয়ে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে হাত করে তাদেরই কাউকে ভোটে দাঁড় করিয়ে আবারো আই সি সি’র সভাপতির পদটা আকঁড়ে ধরে রাখবে। কিন্তু ভারতের এই চালাকিতে বাঁধ সাধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। কেননা, এইবার রোটেশন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যথাক্রমে সভাপতি ও সহ সভাপতি নির্বাচিত হবার কথা। এবং এই রোটেশন পদ্ধতি যাতে থাকে সেটার জন্য বেশীর ভাগ দেশেরই সম্মতি রয়েছে। এই নতুন প্যানেলের পরবর্তী নির্বাচন হবে ২০১৪ সালে।

এখন কথা হচ্ছে, যদি বাংলাদেশ থেকেই কথা অনুযায়ী সভাপতি নির্বাচিত হয় তাহলে লোটা কামাল কেন পাকিস্তানকে হাতে রাখতে চাইছে? যুক্তি অনুযায়ী তো বাংলাদেশ থেকেই হবে সভাপতি ও পাকিস্তান থেকেই হবে সহ সভাপতি কেননা এর আগের রোটেশনে পাকিস্তান থেকে ছিলো সভাপতি (এহসান মানি) এবং বাংলাদেশ থেকে ছিলো সহ সভাপতি। তারপরেও পাকিস্তানকে খুশি রাখবার কারন হচ্ছে, এরা যদি তাদের শেষ মুহূর্তে তাদের বেঈমানীর সেই ঐতিহ্য আবার বজায় রাখে, তখন কি হবে? এই ভয় থেকেই লোটাস কামাল পাকিস্তানকে হাতে রাখতে চাইছে। লক্ষ্য করে দেখুন যে, পরবর্তী এইসব রোটেশন কিংবা নির্বাচন যাই বলিনা কেন সেটা হবয়ে ২০১৪ সালে। সে সময় লোটা বিসিবির সভাপতি থাকবে কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়। অথচ লোটা ধরেই নিয়েছে সে সময় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকবে, আর ক্ষমতায় থাকলে সেই থাকবে বি সিবির প্রধান পান্ডা। আর বিসিবির প্রধান পান্ডা থাকতে পারলেই আই সি সি’র সভাপতি পদটা বাগানো যাবে। এই ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের এই লেখাটি পড়ুন।

এই হচ্ছে লোটাসের মূল ঘটনা। শুধু মাত্র একটি পদ পাবার জন্য সম্পূর্ণভাবে একটি সন্ত্রাসী ও বোমাবাজীর দেশে আমাদের ক্রিকেটারদের সে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এটা পুরোটাই লোটাসের ব্যাক্তিগত অভিলাষ চরিতার্থের যাত্রা, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নয়।

পাকিস্তানের লাভের হিসাবঃ

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কেন বাংলাদেশের সফর নিয়ে এত উদ্বেলিত কিংবা কেনই বা তারা এভাবে চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশ যাতে পাকিস্তানে যায়? এর কারন খুব সোজা, সেটি হোলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছে যে দেশের বাইরে বড় হওয়া পাকিস্তানীরাই এখন সেখানে যায় না। লন্ডনে বড় হওয়া পাকিস্তানী ছেলে মেয়েদের জিজ্ঞেশ করলেই তা খুব ভালো করে জানা যায়। সম্প্রতি আমি আমার কর্মস্থলের প্রায় ৪ জন পাকিস্তানীকে জিজ্ঞেশ করেছিলাম তাদের দেশের এই রাজনৈতিক ও বোমাবাজির কথা তুলে। প্রত্যেকেই প্রায় একই সুরে আমাকে জানালো যে পাকিস্তান এখন আসলে সুস্থ মানুষের বসবাসযোগ্য একটা দেশ নয়। সে দেশে গেলে কেউ প্রাণ হাতে নিয়ে ফেরত আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

সুতরাং এমন একটি অবস্থায় পাকিস্তান পুরো পৃথিবীকে দেখাতে চায় যে,

“সবাই দেখ, বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানে এসে খেলতে পারে তাহলে তোমরা সবাই পারবে না কেন?”

গত তিন বছরে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ পাকিস্তানে তাদের ট্যুর বর্জন করেছে। এমনকি পাকিস্তানের সাথে সম্পূর্ন অন্য দেশে খেলতে এসেও প্রতিটি দল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা গ্রহন করেছে। কেননা, পাকিস্তান দল মানেই সাথে করে বোমাবাজীর একটা সামান্যতম সম্ভাবনা নিয়ে আসা, ম্যাচ ফিক্সিং এর সাথে জড়িয়ে ফেলা, ঘুষ কেলেংকারী, নারী কেলেংকারী, নিজেদের কোচকে মেরে ফেলা ইত্যাদি ব্যাপারগুলোরও আগমন অবিশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। মোট কথা শুধু একটি সন্ত্রাসী দেশ হিসেবেই শুধু নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কি খেলাধূলায়, কি শিক্ষা, কি রাজনীতি, কি অর্থনীতি, কি জীবন-ধারন প্রতিটি ব্যাপারেই একটা নোংরা পরিবেশ তৈরী করে ফেলে এই পাকিস্তান দেশটি। এমন কোনো অপকর্ম নেই যে তারা করে না। পুরো পৃথিবীতেই তারা একটি ব্যার্থ ও নিঃশেষিত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।

এইসব কারনেই বাংলাদেশকে অনেকটা কন্ডমের মত ব্যাবহার করতে চায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের আস্তরণ গায়ে চাপিয়ে তারা পৃথিবীর সবার কাছ থেকেই সার্টিফিকেট নিতে চায়। তারা বাংলাদেশকে সফরে নিয়ে এসে অন্যান্য দেশকে পাকিস্তানে খেলতে আসার টোপ ফেলতে চায়। এটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার। যেই দেশ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ মানুষকে ভয়াবহ নির্যাতন করে মেরে ফেললো, যেই দেশ বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, সেই পাকিস্তানই আজকে বাংলাদেশকে তাদের চালাকির গুটি হিসেবে সামনে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ দেখুন, অস্ট্রেলিয়া কিন্তু পাকিস্তানে এসে খেলতে রাজাঈ হয়নি। সেক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে পাকিস্তানের সিরিজ, ঠিক একই ব্যাপার ঘটেছে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজেও।

শ্রীলংকার পাকিস্তান সফর এবং সেই সময়ের কিছু দুঃসহ স্মৃতিঃ

- - - -

শেষ কথাঃ

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আজকের এই অবস্থানে এসেছে। অনেক ত্যাগ আর অপেক্ষার পর আমরা পেয়েছি সাকিব, তামিম, নাসির, মুশফিক, মাশরাফি, রুবেল দের। এরা আমাদের কাছে দেবদূতের মতন। কেননা, এত রাজনৈতিক অস্থিরতা, এত সমস্যা, এত উৎকন্ঠার পরেও এই ক্রিকেটাররাই আমাদের জীবনে যে সামান্য কিছু সুখের প্রাপ্তি, তা এরাই এনে দিয়েছেন। আমাদের দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে একই রাস্তায় এনে হাতে হাত ধরিয়ে দিয়েছেন এই ক্রিকেটাররূপী দেবদূতেরাই। একজন সাকিব এখন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। পুরো পৃথিবীর ক্রিকেট প্রেমীরা যখন ক্রিকেটের র্যাং কিং দেখেন তখন দেখতে পান বিশের এক নাম্বার অলরাউন্ডার বাংলাদেশের। এই একটি ছেলে পুরো পৃথিবীতে বাংলাদেশের একজন সত্যকারের এম্বাসেডর, একজন দূত। এরাই আমাদের সত্যকারের সম্পদ। এক একজন একটি তারার তিমির, একটি বাংলাদেশ।

আমার সন্তানটি যখন তার মায়ের পেটে ছিলো তখন বৃটিশ হোম অফিস আমার ভিসা দেয় কিন্তু আমার স্ত্রীর ভিসা রিফিউজ করে। কারন ছিলো, ডিপেন্ডেন্ট ভিসা পেতে হলে, সেই ব্যাক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ভিসা নিয়ে আসতে হবে। এটাই নিয়ম। আমরা যখন কোর্টে আপীল করেছিলাম তখন শুনানীর দিন আমি বিচারককে বলেছিলাম,

“মাই লর্ড, আমি জানি এটি আইন আছে যে, আমার স্ত্রীকে তার কান্ট্রি অফ অরিজিন থেকে ভিসা নিয়ে আসতে হবে। আমি সেটি মানতাম, কারন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের একমাত্র সম্পদ, আমার পূত্র এখন তার মায়ের পেটে। আমি জানি এই মূহুর্তে ভ্রমণ করলে ৯৯% নিশ্চিত যে, সমস্যার কিছু নেই, কিন্তু ১ পার্সেন্ট হলেও সম্ভাবনা রয়েছে যে, আমার সন্তানটির ক্ষতি হতে পারে। এই দেখুন ডাক্তারের ভাষ্য। সুতরাং, আপনি বল্লেও আমি আমার স্ত্রীকে এখন দেশে পাঠাতে পারব না, কেননা আমি আমার সন্তানের জন্য ১ পার্সেন্ট কেন, আধা পার্সেন্টও ঝুঁকি নিতে পারব না। আমার সন্তানের কিছু হলে কি বৃটিশ সরকার আমার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে? সুতরাং, বাকিটা আপনার বিবেচনা মাই লর্ড”

বিচারক অনেক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমার কথায় সামান্য রেগে গেলেও, তিনি তা প্রকাশ করেন নি। কিন্তু দিনের শেষে তিনি আমার কথার উপর ভিত্তি করেই বিশেষ বিবেচনায় আমার স্ত্রীকে ভিসা দিয়েছিলেন। আমি এই ঘটনাটি এখানে এই কারনেই বললাম, কারন, ধরে নিচ্ছি পাকিস্তানে গেলে পুরো পাকিস্তান আর্মি বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা দিবে। ধরে নিচ্ছি হাজার হাজার পাকি পুলিশ দর্শক হয়েই স্টেডিয়ামে আমাদের ছেলেদের নিরাপত্তা দিবে। কিন্তু যেই দেশের মিলিটারী একাডেমীর চিপায় ওসামা বিন লাদেন ঘুমাতে পারে, সেখানে এক পার্সেন্ট হলেও সুযোগ রয়েছে আমাদের অনেক বড় একটি ক্ষতির।

আমি এই এক পার্সেন্ট ঝুঁকি আমাদের দেশের সোনার সন্তানের জন্য কেন নিব? কিসের জন্য নিব?