ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যা শুরু হয়েছে তাতে কত ছাত্র-ছাত্রীর জীবনের স্বপ্ন যে ভেঙে গেছে কাচের মত তার ইয়ত্তা নেই..?? যারা জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে এমন ছাত্র-ছাত্রীরাও চান্স পাবে না!! সারা দেশে এইচ.এস.সি তে জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাই যেখানে ৫১,৪৫৯ …!! যেখানে সরকারি মেডিকেলের আসনসংখ্যা মাত্র ২,৮১১ টি !!!! আর ডেন্টাল কলেজ এবং মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট মিলিয়ে মোট আসনসংখ্যা মাত্র ৫৬৭…!!!!!!! তাহলে প্রশ্ন হল- বাকিদের কি হবে…?? যারা এতদিন অনেক স্বপ্ন লালন করেছে ..? ডাক্তার হবার তাদের সেই স্বপ্ন ভাঙার অধিকার কারো আছে বলে মনে করি না । আর যতই বড় বড় কথা বলুন ? যেকোন বিষয় হুটহাট করে বলে দিবেন!!! এটা আপনাদের মন্ত্রি-সভা নয়…!! আপনারা যা বলবেন সবাইকে তা মেনে নিতে হবে… যেখানে হাজার -হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জীবন বিপন্ন হতে চলেছে সেখানে অনেক কিছু ভাবার আছে..প্রথমত, এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাই ঠিক নেই..!! এইচ.এস.সি পরীক্ষা পদ্ধতিতেই গরমিল আছে।!!আগে সেটা ঠিক করতে হবে।যেখানে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিতে বসে সামান্যতম কিছু জেনে ! যারা জিপিএ ৫.০০ পেতে চায় ..তারা শুধুমাত্র কিছু প্রশ্ন মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে উগরে দিলেই খতম… !!!

দ্বিতীয়্ত , জিপিএ ৫.০০ এ পাওয়ার পর ও তো অনেকে চান্স পাবে না…!! আসনসংখ্যার বিপরীতে জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্তির সংখ্যা প্রায় ৩ গুণের কাছাকাছি….!! তাহলে যারা গোল্ডেন জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে তারাই এগিয়ে থাকবে…!কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে…!! আমাদের শিক্ষকদের খাতা দেখার মধ্যেও গরমিল..!! সবাই সমান নাম্বার দেন না…!! কারো কারো কাছে তো নাম্বার উনাদের নিজস্ব সম্পত্তি মনে করেন….!!এটা আমার কথা নয় । এইচ. এস. সি’র রেজাল্টের দিন এক প্রশ্নের জবাবে, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান বলেছেন- শিক্ষার্থীদের নাম্বার বাড়িয়ে দেয়া হয় না..বরং কোন কোন শিক্ষার্থী যেখানে ৮৫ পাওয়ার কথা সেখানে সে ৬৪ ও পায় !!! তাই এমন ও হাজার ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা এর শিকার।!! তাদের কি হবে ??

তৃতীয়্ত, যারা গতবারের পরীক্ষার্থী..তারা এক বছর ধরে যে অপেক্ষার প্রহর গুনেছে, তাদের প্রতি কি অবিচার করা হচ্ছে না….?? যদি এই ব্যবস্থা করতেই হয় তাহলে এক বছর আগে এর ব্যাবস্থা নিতে হবে…!!আর গরীব মেধাবী ছাত্রদের তো আর বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে পারবে না..?? তারাও বঞ্চিত হচ্ছে…!!

সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের অসংখ্য কম জিপিএ পাওয়া স্বপ্নসারথির স্বপ্ন গুলো তলিয়ে যাবে অকূল পাথারে….!!তাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর এই বিষয়ে আরো ভাবা উচিৎ বলে মনে করি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ করে নেয়া সিদ্ধান্ত কত ছাত্র-ছাত্রীর জীবন যে হুমকির মুখে ?? তা মাথায় রাখা উচিৎ… !! অন্তত কোন ছাত্রের যেন অকাল মৃত্যু না ঘটে সেটাই সবার আগে ভাবতে হবে। এবং সেটা হুটহাট করে কিছু না করাই ভালো!! কারণ, আর যা হোক বাংলাদেশের চিকিৎসা খাত মেধাশূন্য হয়ে হয়ে পড়ুক তা আমরা কেউ-ই চাই না । আশা করি সরকার এর প্রতি সুনজর দিবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জটিল সমস্যার সমাধান করবেন ।