ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

নিজেকে প্রশ্ন করেছি অনেকবার । আমি কি সুখী ?? আমি কি কিছু পেয়েছি এই দেশের কাছ থেকে ?জানি শুধু আমি নই…?? এই দেশের প্রতিটি মানুষের মনে একই প্রশ্ন !এই দেশ কি দিচ্ছে আমাদের? কিংবা আমাদের প্রতিনিধিরা ?? হ্যাঁ ? তাই তো !! কিছুই তো দিচ্ছে না …!কি আশ্চর্যের কথা!! কিন্তু এটাই বাস্তব।এই দেশের অধিকাংশ মানুষ এটাই মনে করে। কাজেই যে দেশ আমাদের কিছুই দিচ্ছে না।।তাকে নিয়ে শুধু শুধু ভাবতে যাব কেন?? অথচ আমরা কতজন ভেবেছি যে, যে আমরা কি দিয়েছি বা দিচ্ছি…? বড় বাজে কথা ! যখন দেখা যায় রাস্তায় রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারানো আমার-ই কোন ভাইয়ের লাশের দিকে কেউ ফিরেও থাকায় না !!যখন পুলিশের লাঠির আঘাতে জর্জরিত হয় নিরপরাধ তাসলিমা বেগম, কোন কারণ ছাড়াই র‍্যাবের গুলিতে পা হারাতে হয় লিমনদের । শেয়ার বাজারের রাশেদুল কিংবা শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় শিক্ষক কেউ -ই বাদ পড়ে না পুলিশের লাঠির আঘাত থেকে! রাস্তায় ছিনতাই হয় আমারই এক ভাই কাশেমের সঞ্চিত সবকিছু।, তাঁর সর্বস্ব বিক্রি করে আনা টাকা ।শুধুমাত্র কিছু টাকা নয়…?? মৃত্যু হয়েছে অতি সুন্দর কিছু স্বপ্নের । হঠাৎ দেখি বিষপানে আত্মহত্যা করেছে আমারই কোন বোন !!বেকার যুবকদের মাদকাসক্তিই বলে দেয় এই দেশ কতটুকু এগিয়ে ? মাঝে মাঝে শুনি নির্যাতিত কোন নারীর কান্নার রোল ,অনেক সময় শোনা যায় গ্রাম্যসালিশে বিচার হওয়া তরুণী রেশমার আত্মচিৎকার,আবার হঠাৎ শুনি শ্রমিকের বিক্ষোভের সুর। কৃষকেরা হাহাকার করে বলে এই বছর আর চাষ-ই করবো না !!আমাদের কাছে এই খবরগুলো যারা পৌঁছে দেয় ??
গণমাধ্যম?? তাদেরও নিস্তার নেই! নিজ ফ্ল্যাটেই খুন হতে হয় আমাদের সাংবাদিক ভাইবোনদের!পত্রিকায় লেখা কিছু সংবাদের ফলাফল হল সেই সাংবাদিক ভাইয়ের/বোনের বাড়িতে ঘটতে থাকা এই দেশের -ই অসম্ভব রকমের ভাল কিছু মানুষের ভাল কিছু কাজ !!!আমার সেই ভাইয়ের বাড়ির নিরাপত্তার খবর কেউ রাখে না! শিক্ষা এখন অধিকার এর মধ্যে নেই, শিক্ষা এখন সুযোগ !!সেই সুযোগ তৈরি করেও নিশ্চিন্তে নেই শিক্ষার্থীর মা-বাবা। সেখনেও ঢুকে পড়েছে এই দেশের নোংরা রাজনীতি । যার বলি হতে হয় অনিক, মুজাহিদ, সিপার আর অমিত রায় এর মত মেধাবী কিছু মুখের !!দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ও বন্ধ রাখা হয় দিনের পর দিন। কারণ ?? কিছু ক্ষমতা লোভন মানুষ। আজো তাই অন্যরা আঙ্গুল তুলে বলে – বাঙালী তোরা মানুষ হলি না…!!

আমি এর তীব্র প্রতিবাদ যে করবো ?? সে শক্তিটুকু ও খুঁজে পাই না!!শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক দেশদ্রোহী আর অসৎ ব্যাক্তির করা কাজের গ্লানি কেন পুরো জাতি বহন করবে? কিছুই বুঝে উঠার আগেই হকচকিয়ে উঠি । মনে পরে যায় আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধির সেই বিখ্যাত কথাগুলো !বাড়িতে থালা মারার কথা , কিংবা আমাদের বেডরুম পাহারা দেয়ার দায়িত্ব উনাদের নয়…!আমার সেই মানুষটাকে তাই আজ প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় আপনি জনগণের নোকর হওয়া সত্ত্বেও জনগণ কেন আপনার বেডরুম পাহারা দেয়ার জন্যে তাদের টাকায় নিরাপত্তারক্ষী লালন করতে থাকবে দিনের পর দিন??

সেই প্রশ্নের উত্তর আছে তো??আজকাল রাস্তাঘাটে বের হওয়া তো দূরে থাক ,হাজার কাজ থাকলেও ট্রাফিক জ্যামের কথা মনে হলে সেই কাজকেও অকাজ বলে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হয়!!!রাস্তাঘাটে গাড়ীগুলো চলে শুধু চলার জন্যেই ! কোন সুবিধা নয়..!অসুবিধাই সৃষ্টি করা যার একমাত্র শ্লোগান । স্বাধীনতার মহান নায়ক বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আজো বেঁচে আছে!!বিচার হয় নি শহীদ জিয়া, আহসান উল্লাহ মাষ্টার , কিবরিয়া হত্যা মামলা, ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ,কিংবা কি করে ভুলা যায় ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠার আঘাতে মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের সেই বীভৎস রূপ ? লাশের উপর দাঁড়িয়ে মৃত্যু উপভোগ করার সেই বীভৎস দৃশ্য কী করে ভোলা যায় ?? জানি কেউ বলার নেই !! আরে যারা আজ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে এখনো পারে নি!! তাঁদের কাছ থেকে আর কি আশা করা যায় ?? তারা অন্যায়ের কাছে নতজানু!তারা সান্ত্রী-কাপুরুষ !! আমরা আসলে খুব জ্ঞানী তো !!আমরা আমদের টা খুব ভাল বুঝি । তাই এসব কেউ দেখতেও চাই না!!আমি মোটেও অবাক নই…!! এইসব আমদের নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার !জানি ঠিক হবে না আমদের সংস্কৃতি ।ঠিক হবে না আমাদের নেতাদের চোখ বন্ধ করে নিজের ঢোল নিজে পেঠানো…ঠিক হবে না ধর্মের নামে হানাহানি । ঠিক হবে না রেলমন্ত্রীর রেল,আর যোগাযোগ মন্ত্রীর রাস্তা। উল্টো ভয়ে আছি কখন না আবার সাবম্যারিন কেবলে থালা ঝুলে যায়…!! আমি তাই অবাক নই…!! স্তম্ভিতও নই ।শুধু বলি রবী ঠাকুরের সেই উক্তি- “যারা কথা ছেড়ে বাজায় শুধু সুর…?? তাদের সুরে সবাই মিলে নিকট হতে দূর । আমার মোটেও তাই আর কষ্ট হয় না… ! শুধু ভাবি-ই…কিছুই করার নেই আমার …আমিও স্থবির হয়ে গেছি বড় বেশি। আবার প্রাণ ফিরে পাই যখন ক্রিকেট মাঠে কোটি জনতা চিৎকার করে বলে বাংলাদেশ । আমার বাংলাদেশ । নতুবা, ফেইসবুকের সেই স্কটল্যান্ডের অপরিচিত বন্ধুটি আমায় বলে তুমি কোথায় থাকো ? সাকিবের বাংলাদেশ ? আমি বুক ফুলিয়ে বলি হ্যাঁ সাকিবের বাংলাদেশ। আমার সোনার বাংলাদেশ…!কিংবা বিশ্বকাপের সময় মাঠে বসে যখন অবাঙ্গালী জারিয়া,সাকিব-তামিম বলে চিৎকার করে করে? তখন চোখ মেলে তাকাই…!আবার আমায় নতুন করে ভাবতে শেখায় , আমরা কোন জাতি ??যখন ডঃ ইউনুছ বয়ে নিয়ে আসেন নোবেল পুরস্কার ? তখন বলতে ইচ্ছে হয়… হে বিশ্ব-বিধাত্রী…?? একবার এসে দেখে যাও আমরা কি পারি??

যখন আসিফ,রত্নারা সোনা নিয়ে ফিরে তখন তাদের জ্বলজ্বল দু’টি চোখ এটাই বলে- আমরা সব পারি…!যখন মনে পড়ে যায় মূসা ইব্রাহীম ,এম এ মুহিত,নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন’রা এভারেস্টের চূড়ায় গেঁথে এসেছেন বাংলাদেশের পতাকা..?? অন্তরের ঘোর আঁধার কেটে যায়…!! যখন দেখি সামিন রিয়াসত, তারিক আদনান, নাজিয়া,সৌরভ, সফিঊল্লাহ আর ধনঞ্জয়’রা তাদের মেধা দিয়ে পদক ছিনিয়ে আনে এই দেশের ১৬ কোটির প্রতিনিধি হয়ে । মাথাটা আবার উঁচু হয়ে যায়। মাকসুদুল আলম স্যার এর ছত্রাক ও পাটের জীবন নকশা উন্মোচনের খবর শুনে ঘুরে দাঁড়াই অপার সে আনন্দে। মনটা আনন্দে উদ্বেলিত হয় সামান্য এক ব্যাংক কর্মকর্তার কোটি টাকার লিপ্সা ত্যাগ করে দেশের ইতিহাসের সবচাইতে বড় দুর্নীতি হলমার্ক রহস্য উদ্ঘাটনকারী সেই মানুষটার কথা ভেবে । আবার নতুন করে সপ্ন নয়…? বাস্তবের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হওয়ার বাসনা জাগে মনে।পুরনো ঘটনা ভুলিয়ে দেয়া মানুষগুলোকে নিয়ে আবার গড়তে ইচ্ছে করে সোনার বাংলাদেশ। কিন্তু আবার শিহরে উঠি !!আগে দুঃখ না হলেও এইবার দুঃখই শুধু হয় না বুকটা বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে ।। অঝরে অশ্রু ঝরে। যখন চোখের সামনে পেটানো হয় স্বর্ণজয়ী সুট্যার আসিফ কে । কিংবা তুচ্ছ কোন রাজনৈতিক কারণে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার , বাংলাদেশের গর্ব সাকিব আল হাসানকে একজন সামান্য বোর্ড কর্মকর্তার সামনে হাঁটু গেরে ক্ষমা চাইতে দেখি!! আর সইতে পারি না!! অসহ্য সে যন্ত্রণা !! যখন দেখি ডঃ ইউনুছের মত নোবেল জয়ী মানুষকে অপদস্ত করা হয়…?? যখন দেখি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পথে পথে ভিক্ষা করতে…?? হুমায়ূন স্যার এর মত গুণীব্যক্তি , যিনি কিনা আমাদের নতুন করে বই পড়তে শিখিয়েছিলেন…..??তার লাশ কে নিয়ে টানাহেঁচড়া করা হয় যখন….!! সোনালী ব্যাংকের সেই কর্মকর্তাকে পুরষ্কৃত না করে উল্টো তাকেঁ বদলি করে দেয়া হয় অজপাড়া গাঁয়?? আর আমার আঁখিজল ধরে রাখতে পারি না!! বড় বেশি-ই কষ্ট হয়…!!

যখন চোখের সামনে এইসব দেখি মাথায় রক্ত চড়ে বসে । শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাঁপতে শুরু করে…!!জানি এতে কারো কিছু যায় আসে না…!!কেউ কিছুই করবে না…!!সবাই অন্ধ …!! না এরা যে চোখে দেখে না…তা কিন্তু নয়…??এরা দিন কানা…!!আলোতেও এরা দেখে না…!!এটা শুধু আমাদের দেশেই সম্ভব…!!তাই নিজের ক্ষোভটা নিজের মধ্যেই রাখি….!! আর অপরাধের বিষে জর্জরিত হই আমি…!!কিছুই করার নেই আমার…. যারা করতে পাড়ে তারাই তো মূল হোতা!! তাইতো স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও আমরা মুক্ত হতে পারি নি!!আমরা শুধু একটা ভূ-খন্ড পেয়েছি মাত্র ।একে স্বাধীনতা বলে না!!আমার কষ্ট হয় শুধু সেই সব মানুষগুলোর জন্যে ।যাদের জন্য উড়িয়ে নেয় না জ্বলচ্ছাস ,বঙ্গপোসাগর ভাসিয়ে নেয় না বাংলাদেশ!!কিন্তু তাঁরা কি পায় অপমান আর লাঞ্ছনা ছাড়া??আর আবুল হোসেনরা পান দেশপ্রেমিকের উপাধি!! তাই কিছুতেই আর ঠিক থাকতে পারি না যে??শুধু হুমায়ূন স্যারের মত আজন্ম সলজ্জ স্বাদ নিয়ে আকশে একরাশ ফানুস উড়াবার স্বপ্ন দেখি।কিন্তু কাউকেই সাথে পাই না বলে রবী ঠাকুরের মত আমিও গাই- ” যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে , তবে একলা চলোরে… ” !! আর কিছুই করার নেই! শুধু এই বোকা মানুষগুলোকে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া!! সালাম তোমাদের । আর তাই জাফর ইকবাল স্যারের কথায় আমিও বলি- ” বোকা মানুষগুলোকে বেকুবদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা । কিছুই দেয়ার নেই যে আমার…!তবে আমি তোমাদের হাত ধরেই দেখতে চাই নতুন কোন প্রভাত !! যে প্রভাতে তোমাদের পাশে পাবো আমি আর চিৎকার করে গেয়ে যেন উঠতে পারি সেই প্রিয় গান—— ” তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি…”??