ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

সবুজ, শ্যামল ছায়ায় ঘেরা, ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ। দেশ আমার মায়ের মতন। এ দেশ আমার পরিচয়, আমার গর্ব আমার অহঙ্কার।
জাতীয় ফুল শাপলা, কিন্তু নদী শুকিয়ে কাঠ।ধুধু চরে উদ্বাস্তুদের আশ্রয়, ছেলেমেয়েরা সেখানে ঘুড়ী  উড়ায়, হাডুডু খেলে, ছোট ছোট গর্তে মাছ ধরে। শাপলা কোথায়? শাপলা এখন বইয়ের পাতায়।
জাতীয় মাছ ইলিশ। হায়! সে এখন শুধুই নস্টালজির মতো শোনায়। ছোট বেলায় ছুটির দিনের গরম খিচুরি, বেগুনভাজা আর ইলিশের দোপিয়াজির কথা মনে করিয়ে দেয়।ইলিশ এখন কেবলই পহেলা বৈশাখের বড়লোকের আদিখ্যেতা। ইলিশ কোথায়? ইলিশ এখন বইয়ের পাতায়।
জাতীয় পাখি দোয়েল। গাছ কোথায়? সব তো সাফ করে কাঠ কয়লা আর পাখীদের উচ্ছেদ করে সেখানে এখন বিশাল বিশাল ইমারত। দোয়েল কোথায়? দোয়েল এখন বইয়ের পাতায়।
জাতীয় পশু ডোরা কাটা বাঘ। বন কোথায়? রাজা মহারাজা মেরেছে শখে, চামড়া দিয়ে শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে, কখনো ভক্ষন করে। আর বাকিদের দরকার কাঠ, বাঘ না মারলে বা তাড়ালে গাছ কাটবে কেমন করে? বাঘ কোথায়? বাঘ এখন বইয়ের পাতায়।

ধান পাট ছিল অর্থকরী ফসল।বড় বড় পাটকল তো বন্ধ।চাষ বাস ও তো সেরকম নেই। হবে কোথেকে? ধানের জমিগুলোর উপর ইটের ভাটা, বিশাল বিশাল মোবাইলের টাওয়ার, কৃষকের জমি, কৃষক দুই’ই কিনে নিয়েছে। তাহলে দিন হয়ত বদলেছে, সফটওয়্যার’কে কি তাহলে বলতে পারি অর্থকরী ফসল?

গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ আর গোয়াল ভরা গরু সব’ই এখন এপিক। বাংলাদেশ এর অপরুপ সৌন্দর্য হচ্ছে তার জমি, শস্য, সবুজ, জলবায়ু, পলিমাটি; কিন্তু একে একে সব তার শরীর থেকে খুলে  পড়ছে। কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশ? স্বাধীনতা অর্জন করেই কি খান্ত হয়ে চুপচাপ পরে থাকার কথা ছিল? আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, পরিচয়, স্বাবলম্বিতা, দেশাক্তবোধ এসব কি আমাদের নিজেদের’ই তৈরি করে নেবার কথা ছিল না? সবসময় কেন অন্য দেশকে আমাদের অনুকরন করতে হবে? আমাদের এত একরের পর একর উর্বর জমি থাকতে আমাদের কেন শস্য ঘাটতি? আমাদের কেন আমদানি করতে হয় চাল, ডাল, চিনি, পেয়াজ, ফলমূল, পোশাক ইত্যাদি যেগুলো আমরা নিজেরাই সক্ষম ছিলাম উৎপাদন করতে? কেন, আমাদের এত লোভ? দেশকে ভালবেসে সবাই মিলেমিশে থাকলে কে কি করতে পারত আমাদের? বৃহৎ স্বার্থের জন্য আমরা কেন পারি না ছোট ছোট ত্যাগগুলো মেনে নিতে? স্বাধীন হয়েও স্বাধীনতার স্বাদটুকু কি ভোগ করতে পারছি আদৌ? জানি এগুলোর উত্তর কারো কাছে নেই, আমার মতই আর সব সাধারন মানুষের মাঝে এসব প্রশ্ন প্রতিদিন জেগেও দীর্ঘশ্বাসের সাথে মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সম্বলিত দীর্ঘশ্বাস’ও একসময় বাতাসে ভারী হয়ে ভেসে বেড়াবে।

আমাদের শরীরে লেগে থাকা মীর জাফর আর ইংলিশদের তোষামোদির গন্ধ কি আমরা কখনই দূর করতে পারব না? হাজার বছর ধরে দস্যুরুপী শাসকেরা আমাদের ধন, সম্পদ, সোনা, গহনা লুট নিয়ে গেছে। তাতে কি? আমাদের আসল সম্পদ আমাদের উর্বর জমি, বহমান মিষ্টি জলের নদী সেসব তো আর লুণ্ঠন করতে পারেনি! সময় এখনো আছে।মুমূর্ষু এই দেশমাতাকে তার সম্মান ফিরিয়ে দেয়ার সময় এখনো আছে।এখনো ছিটেফোঁটা সবুজ’কে নিয়েই সম্ভব নতুন করে শুরু করা, এখনো সম্ভব যমুনা, করতোয়া,ধলেশ্বরী, তিস্তা ডোবায় আবার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। জাগো বাঙালি জাগো, সময় থাকতে জাগো!