ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 
ঘর আলোকিত করে সবার মুখে নির্মল হাসি ফুটিয়ে যে শিশুটি জন্ম নিল সে একজন কন্যা। বাবা মায়ের চোখের মনি ছোট্ট দুটি তুলতুলে পায়ের মৃদু নুপুরের শব্দে পুরো বাড়িটাকে মাতিয়ে রাখে। মায়ের উদ্বিগ্ন মন কন্যার চোখে কাল কাজল লেপটে দেয়, মাথায় একে দেয় বড় কাজল ফোটা। সময়ের কাটা ঘোরে, কন্যার ছোট জামাগুলো হাঁটুর উপরে উঠে যেতে থাকে, চুল পিঠ ছুঁই ছুঁই করে। খিল খিল হাসিতে দেয়ালের ইটগুলোতে যেন হাল্কা কাপুনি হয়। ধীরে ধীরে ঘরে ভাইদের সাথে ছুটোছুটি আর খেলাধুলোর দিন শেষ হল বলে। ঝলমলে রোদের সকালে জীবনের প্রথম স্কুল। মায়ের চোখের কোনে আড়াল হয় অজানা কোন কারনে টলটলে এক ফোটা পানি। আঁচল এর নীচ থেকে বেরিয়ে দৌড়ে ফুটফুটে প্রজাপতিটি উড়ে চলে যায় ক্লাস্রুমে।
শৈশব এর এবিসিডি পেরিয়ে আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠে সে। এখন তার বড় ক্লাস, বড় বই, অনেক ব্যেস্ততা। শুরু হয় বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা, ঝগড়া, খুনসুটি, অকারনে মন খারাপ, গলার কাছে আটকে থাকা অভিমান, বাবার কাছে চুড়ি-কানের দুলের আবদার কিংবা বইমেলার হুমায়ুন এর সমগ্র তার চাই ই চাই। কন্যার এ সময়ে ভাল লাগাগুলো এত বেশি ভাল লাগে যেমন তেমনটি খারাপ লাগাগুলোও ভয়ঙ্কর মন খারাপ করে দেয়। একাকি বিকেলে ছাদের কোনায় দাড়িয়ে মাসুদ রানার মতো সাহসী হ্যোন্ডসাম কোন রাজপুত্রের কথা ভাবতে ভাল লাগে, কলেজের সেকন্ড ইয়ার ব্যাচের কারো সাথে মেলানোর বৃথা চেষ্টা করে নিজেই লজ্জায় মুখ লুকোয়।

জীবনের এত অল্প সময়ে ঘটে যায় কত না রোমাঞ্চকর ঘটনা। মুহুর্মুহু পালটে যেতে থাকে সম্পর্কের সংজ্ঞা। সবচেয়ে কাছের বন্ধুটির কাছ থেকে অগত্যা একদিন প্রেম নিবেদন। বয়সটাই এমন, উপেক্ষা করবে কেমন করে!

এরপর প্রেমের কাল শুরু আর ছোট হয়ে আসতে থাকে কৈশোরের দুরদান্তপনা। জীবনের সবচেয়ে শুন্দর দুর্দান্ত কৈশোরের এই সময়টা এত অল্প কেন প্রশ্নটি সারা জীবন’ই বিভিন্ন বাঁকে করতে থাকে ভেতরের আমি।

কন্যা এখন যুবতী প্রেমিকা। ফাল্গুনে বাসন্তি শারী, ভ্যেল্যেনটাইন্স ডে তে কার্ড, পহেলা বৈশাখে হাত ধরে ভীরের মাঝে হাটা, বৃষ্টিতে হুট তুলে গা ঘেঁষে বসা, প্রেমিকের উষ্কখুষ্ক চুলে হাত বুলিয়ে দেয়া, পাগলামি কিংবা ছেলেমানুষি সব কিছুই তার ভাল লাগে। কিন্তু সময়কে থামিয়ে রেখে কতটা পথ আর চলা যায়? পড়াশোনা শেষ এরপর কি? কন্যার বিয়ের ভাবনায় বাবামা অস্থির। যে শিশুটি একদিন ঘরের আলো হয়ে সাঝের বাতি জালাত আজ তাকে অন্যের ঘরে পাঠানোর চিন্তায় বাবামায়ের দিন রাত একাকার। পরিবার গঠনের এটাই যে একমাত্র সামাজিক নিয়ম।

কিন্তু কন্যা যে বেঁকে বসল। সে নিজের পায়ে দাড়াতে চায়। স্বাবলম্বী একজন নারী হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় নিজের পরিচয়ে। প্রেমিকের আপত্তি নেই তাতে, সে তার মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে অপেক্ষার প্রতিশ্রুতি দিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠা কি আর এত সহজ? কর্মজীবন শুরু হল অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে। কর্মজীবনের এই বাস্তবতা কন্যাকে দেখাল জীবনের আরেক পিঠ। বছর ঘুরতেই বিয়ের সানাই বাজল, আলোকসজ্জায় বাড়ি ঝলমল করল। সবার চোখে অস্রু গড়াল। বাবা মায়ের সাথে সবার অলোকে অলিখিত একটা হিসেব নিকেশ যেন চুকে গেল।

কন্যার শুরু হল জীবনের আরেক অধ্যায়। বউ হয়ে আজ সে আরেক ঘরে প্রবেশ করল। অফিস, বাসা, স্বামী, সংসার সব কিছুর ব্যেস্ততায় হাপিয়ে ওঠা জীবন। কিন্তু সময়ের জাদু আমাদের থেমে থাকতে দেবে কেন? কন্যার ভেতরে উপলব্ধি করে আরেকটি জীবনের স্পন্দন। মানসিক, শারীরিক নানা পরিবর্তন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ সময়ের ব্যেবধানে জন্ম দেয় একটি নতুন ফুটফুটে মুখ। স্বাদ নেয় মাতৃত্বের।
কন্যা আজ জননী।

নারী একজন কন্যা, বোন, প্রেমিকা, বধু, মা এবং কর্মজীবী। এতক্ষণ যে চিত্রটির কথা বললাম সেটা জন্ম থেকে শুরু করে নানা বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক একজন নারীর জীবনের চিত্র। কিন্তু ভেতরের জীবনে আছে আরও অনেক কথা যা আপনারা বলতে পরেন “আমার আপন মাযা’য়”। আপনি প্রান খুলে বলুন আপনার যে কোন কথা আমার আপনমায়া’য়, যা আপনি বলতে চান। আপনার ছোট্ট একটি কথাই হয়ত অন্যের ইন্সপিরিশন হয়ে বদলে দিতে পারে আরেকজন এর জীবন। বলুন আপনার সাফল্যের কথা, আপনার সমস্যার কথা। আপনার জীবনের হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত কিংবা কষ্টটি ভাগ করুন সবার সাথে।

আমার আপনমায়া
নারীদের ভাবনা বিকাশের একটি অন্যতম প্লাটফর্ম।
নিলীম আহসান
CEO / Co-Founder। Userhub
Founder / Mentor। masqara
FOUNDER । APONMAYA

slide