ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

স্টার্টআপ কি? –

যখন একটি কোম্পানি বাজারে নতুন এবং মৌলিক কোন সার্ভিস বা সেবা কিংবা কোন প্রোডাক্টনিয়ে ব্যবসা শুরু করে তখন তাকে আমরা স্টার্টআপ বলে থাকি। সাধারনত একজন বা কয়েকজনমিলে ইনভেস্ট করে স্টার্টআপ একটি কোম্পানি শুরু করে। স্টার্টআপের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মৌলিকএকটি উদ্যোগকে ছোট থেকে আস্তে আস্তে বড় করে বিকশিত করা এবং একসময় এর উপর্জুপুরি ক্রমবর্ধমানগ্রোথ এর উপর নির্ভর করে কোন জায়ান্ট এর কাছে বড় কোন মুল্যে বিক্রি হয়ে যাওয়া। [আমি এটাকে বলি মুখের মধ্যে টোপ নিয়ে বড়শীর জন্য অপেক্ষা করা :) ]

আমরা কিছু উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার হয়ে নিতে পারি।
আমরা জানি ২০০৬ সালে গুগল ইউটিউবকে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছিল। ইন্টারনেট জগতে ইউটিউবেরজন্ম হয়েছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে। তিনজন ইয়াং এন্ট্রপ্রনার চাঁদ হারলি, স্টিভ চেন এবং জায়েদ করিম মিলে ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করে। অন্যান্য অনেক টেকনোলজির মতই এঞ্জেল ফান্ড এর সহায়তায় ইউটিউব খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে। স্টার্টআপ হিসেবে ইউটিউবের এত অল্প সময়ে বেড়ে উঠা এবং মোটা অঙ্কে গুগলের কাছে একুয়ার হয়ে যাওয়াটা সে সময়ে ওয়েব এর জগতে বেশ সারা ফেলে দিয়েছিল। এযাবতকালে এখনও সবচেয়ে লাভজনক এবং সফল স্টার্টআপ হিসেবে ইউটিউবের অবস্থান। এতো গেল ইউটিউব এর কথা। এরকম আরও অনেক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন, পেপাল এর মতো একটি গরিলাকে ই-বে কিনে নিয়েছে। ফেসবুক কিনে নিয়েছে ইন্সটাগ্রামকে। টুইটার কিনেছে টুইটডেক। এওএল কিনেছে নেটস্কেপ। মাইক্রোসফট কিনেছে হটমেইল। ইয়াহু কিনেছে হটজবস। এরকম আরও অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

স্টার্টআপ এবং আমাদের অবস্থান-

২০১২ সাল থেকে স্টার্টআপ এর হাওয়া লেগেছে আমাদের দেশেও। বিদেশি কোম্পানি, ইনভেস্টররাও ইনভেস্ট করার জন্য আগ্রহী হচ্ছে। দেশে স্টার্টআপ কোম্পানিও দিনকে দিন বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সে তুলনায় বৃহৎ আইডিয়া নিয়ে কোম্পানিগুলো স্টার্টআপ ধারনাটাকে সেরকম সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবসম্মত যুগান্তকারী কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে পারছে না।
এর কারন কি? বেশীরভাগই স্টার্টআপের কন্সেপ্ট টাকে ভালো মতো না বুঝেই একটি হুজুগের উপর কোন সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা ছাড়াই শুরু করে দেয়। পর্যাপ্ত পরিমান গভীর রিসার্চ করছে না ফলে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি মৌলিকতার ঘাটতিতে পিছিয়ে থাকছে। যেমন, এরকম অনেককেই দেখছি যারা একটি ইকমার্স সাইট বানিয়ে বলছে স্টার্টআপ, কিন্তু বাজারে একই সারিতে একইরকম দেখতে অনেকগুলো সাইট আছে যাদের নিজস্ব কোন আলাদা বৈশিষ্ট নেই কয়েকটি ফিচার ছাড়া। আবার একটি মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে সেটাকে স্টার্টআপ বলছে, দেখা গেল সেটাখুবই সাদামাটা আট দশটা অ্যাপ এর মতই। তাহলে, ঘটনাটা কি দাঁড়াচ্ছে এখানে? কোন ভিশনছাড়াই স্টার্টআপ এর কনসেপ্ট নিয়ে সবাই কতদিন সাস্টেইন করতে পারবে? ইনভেস্ট তো কমবেশী হচ্ছেই, সেটার যদি গ্রোথ না হয়, কোন ধরনের লাভজনক সম্ভাবনা না থাকে তাহলে কেনকেউ উৎসাহী হয়ে এগিয়ে আসবে তার প্রোডাক্টটি কিনে নিতে কিংবা তার স্টার্টআপকোম্পানিতে ইনভেস্ট করতে। স্টার্টআপ নিয়ে যারা আগ্রহী, তাদের উচিৎ শুরু করবার আগে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ব্যাপক পরিমান রিসার্চ করা। নিজের প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালো করে বুঝা, এর সকল পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকগুলো ক্ষতিয়ে দেখা।

সিলিকন ভ্যালিতে যাবার স্বপ্ন নিয়ে তরিঘরি করে স্টার্টআপ শুরু করে দিলেই চলবে না, এর এন্ডাপ ফিউচারটা নিয়েও ভাবতে হবে। একটি স্টার্টআপ শুরু হতে পারে ছাদের চিলেকোঠা কিংবা গ্যারেজ থেকে। কিন্তু সেটার টপ বেস্ট পজিশনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ প্রক্রিয়াটা আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে। কোন কিছু শুরু করবার আগে প্রোডাক্ট টি সম্পর্কে নিজের কাছে পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। কেন প্রোডাক্টটি বেস্ট এবং কিভাবে এর গ্রোথ হবে সেটার সুস্পষ্ট একটা রোডম্যাপ দাড় করাতে হবে। প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এর মৌলিক কিছু বৈশিষ্ট থাকতে হবে যাতে করে সহজেই বোঝা যায় সে বাকিদের থেকে আলাদা। ব্যাপক পরিমাণ রিসার্চ এর মানসিকতা থাকতে হবে। বিশ্বের বড় বড় স্টার্টআপ দের সম্পর্কে জানতে হবে। তাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি তথ্য সম্পর্কে যতদূর সম্ভব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানার চেষ্টা করতে হবে। স্টার্টআপ’ই যদি করতে হয় তাহলে টার্গেট রাখা উচিৎ এমন প্রোডাক্ট বানাতে হবে যাতে গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট এর মতো কোম্পানিগুলো কিনে নেবার জন্য আগ্রহী হয়। তাহলেই সম্ভব যুগান্তকারী কিছু করে দেখানোর।

slide