ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের কাছে ১০ শতাংশ অর্থ কমিশন চেয়েছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তিনজন। তাঁরা হলেন: সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এবং পদ্মা সেতুর সাবেক প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তাঁদের প্রতিনিধিরা এই অর্থ কমিশন হিসেবে চান।

বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম তুলেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। সে সময়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে এই দুর্নীতির সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততার কথা জানানো হয়। এরপর সরকার মন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে অন্যত্র সরিয়ে দিলেও আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সৈয়দ আবুল হোসেন এখন তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তিমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক এর পর থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে সাহায্য স্থগিত করে রাখে। এরপর গত এপ্রিলে দুর্নীতির প্রমাণ দিয়ে আবার একটি চিঠি দেয় বিশ্বব্যাংক। তাতেও সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সবশেষ চলতি মাসে আবার একটি চিঠি দেওয়ার পর তদন্ত শুরু করে দুদক।
(তথ্যসুত্রঃ প্রথমআলো)

এই সব অপপ্রচারের ফলে আমাদের আবুল মামা একটু অস্বস্তিতে আছেন। চলুন দেখি আবুল মামার জন্য নিচের কাজগুলো করা যায় নাকি –

০১। এই রিপোর্টের কোথাও কিন্তু বলা নাই যে মামা ঘুষ নিয়েছেন।ঘুষ নিয়ে যা বলা হচ্ছে এটা নিছক ভূল বুঝাবুঝি মাত্র। মামার মধুর হাসি থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত না করার আবেদন জানাই।

০২। বিডিআর গেটে রেলওয়ের সেই ড্রাইভার এর মত একজন ড্রাইভার যোগাড় করে দিই।

০৩। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এতগুলো টাকা দেশের বাইরে নিয়ে যাবে! দেশের স্বার্থেই তিনি কিছু টাকা দেশে (?) রাখতে চেয়েছিলেন। অতএব উনাকে এই শুভ উদ্যোগের জন্য ফুলের মালা দিয়ে আসি।

০৪। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য বিরোধীদল উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা। অতএব উনাকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার পরামর্শ দিই।

০৫। সেতুর পরামর্শ থেকে এই কয়টা টাকা মাত্র, সেতুর কাজ শুরু হলে না হয় আর কিছু নিয়ে পোষানো যেত। অতএব আগের মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসার জন্য একটু তদবির করি।

০৬। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের প্রজেক্ট হাতে নেয়ার পরামর্শ দিই।

০৭। জনগন ভারতের হারবিন্দার সিং এর কাছে সংক্ষিপ্ত লিস্ট পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে। এই বিষয়ে সতর্ক করি।