ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের দুর্নীতির ডালপালা দিন দিন কমছে এবং শীঘ্রই এটা সহনীয় মাত্রায় চলে আসবে, এরকম আশাবাদ বেশিরভাগ লোকই প্রকাশ করার সাহস পাই না। অথচ দুর্নীতি বিরোধী কথাবার্তার মাত্রা যে আগের চেয়ে কম তা নয়; বরং বেশী। তবে কেন আমরা উক্ত আশাবাদ ব্যক্ত করার সাহস পাই না?

আমরা জানি, ব্যক্তি মুজিবের ৩২ নম্বরের নিরাভরন সাদাসিদে আবাস কিংবা ব্যক্তি জিয়ার ভাঙ্গা স্যুটকেস। এরা প্রত্যেকে সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছেন দেশের জন্য; নিজকে নিয়ে ভাবেননি। আর এদের আদর্শের ফেরিওয়ালারা এখন প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ। এরা জাতিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার কৌশল হিসেবে ইতিহাসের মহানায়কদের উপর দেবত্ব আরোপ করে আর আমাদেরকে বিনা প্রশ্নে দেবতার পুজারী বানানোর জন্য এরা সাজে পুরোহিত।

এ পুরোহিতদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে বঙ্গবন্ধু কম্বল বিষয়ক চরম উক্তিটি করেছিলেন। কিছুদিন আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের নিকট তার সেই অসহায়ত্বের ইঙ্গিতই দিয়েছেন। একজন তো যাহোক, অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। অন্যজনকে এতটুকু স্বীকার করতেও কখনো দেখিনি।

একা যুদ্ধে জেতা যায় না। একা যুদ্ধ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজের নিরাপত্তা অটুট রাখতে পারেননি; জিয়াও পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর অসহায়ত্ব এরকম একা যুদ্ধের প্রতিধ্বনি।

আসুন, আমরা তাড়াই রাজনীতিতে আদর্শের ভন্ড ফেরিওয়ালাদের; যারা রাজনীতিকে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে নিয়ে এতে বিনিয়োগ করে আর লাভ সহ মুলধন উঠানোর জন্য নিজেরা পুরোহিত সেজে আমাদের কে পুজারী বানিয়ে রাখতে চায়। শ্রদ্ধা করতে শিখি জনদরদী রাজনীতিবিদদেরকে, যারা অফিসের এসি রুমে বসে না থেকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেন, মোটা কাপড় এখনো যাদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে যেসব রাজনীতিবিদ অন্যের কাছে হাত পাতেন ।

আমাদের উপর বিশ্বাস রাখার মতো যথেষ্ট কারন দেখলে আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চয় রাজনীতিবাজ-ভন্ড-পুরোহিত মুক্ত দেশ গড়ার সাহস দেখাবেন। অন্যথায় হাজারো সমালোচনা করেও দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির পথে সামান্যতম প্রতিরোধও তৈরী করতে পারবেন না। দুর্নীতিবাজদের কাছে সৎ রাজনীতিবিদরা অসহায় হয়েই থাকবেন।

তাই আসুন, দেবত্বের মিছিল নয়; আগামী নির্বাচনে আন্না হাজারে বা রামদেবের মিছিল করি। রাজনীতিকে রাজনীতিবাজদের হাত থেকে রক্ষা করি। এ মূহুর্তে দেশের জন্য এটাই জরুরী।