ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

গণতন্ত্রের লড়াকু বিশ্ব আচমকা এক যুবরাজের প্রেমে মগ্ন। তার নাম মোহাম্মদ বিন সালমান। পশ্চিমা দুনিয়ায় তার আদুরে নাম এমবিএস। ব্ল্যাক প্যান্থার দিয়ে হলিউড সিনেমা সৌদি আরবে উন্মুক্ত করার আগে রুপার্ড মারডুকের অতিথি হয়েছেন কয়েকদিন আগে।

৩০ বছর বয়সী  যুবরাজ সৌদি আরবের ভেতরে-বাইরে অনেক পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছেন, সেটি শুনে ও জেনে ভালো লাগছে। তবে সে সব পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, সমাজ এবং সংস্কৃতিতে ঠিক কী ধরণের পরিবর্তন আনবে, সেটি এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা খুবই কঠিন বলে, আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

কঠিন বলছি এ কারণে যে, এখানে স্বার্থ সব সময় সমান্তরালে হাঁটে না, নড়াচড়া করে। নড়াচড়া করলে এখানে মুসলমানদের জন্য সন্ত্রাসবাদী, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া কিংবা জঙ্গি শব্দ সহজে বিপণন ও বিক্রয়যোগ্য হওয়ায় এমবিএস বা তাদের ভাই বেরাদাররা সব সময়ই একটা ঝুঁকি বা সহজ বাংলায় চাপের মুখে থাকেন, থাকতে হবে।  এ সব চাপ কমানোর জন্য নানা কিসিমের সঙ্কট লেগে থাকে, সে সব সঙ্কট যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়! যেমন ইয়ামেনে মানুষ খুন করছে সৌদি আরব। সিরিয়ায় আমেরিকার সাথে গলা মিলিয়ে, হাত লাগাচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্রে।

শিয়া ও সুন্নি বিরোধ, তুর্কি-কুর্দি বিরোধে হাল আমলে মুখরোচক আলাপ। তবে এর থেকেও সুস্বাদু রাজনৈতিক চর্চা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বিশ্বজুড়ে।

বিবিসি বাংলার অনলাইনে এপ্রিল ৩, ২০১৮ প্রকাশিত খবরের একটা অংশ এ রকম —  ‘যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন আটলান্টিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান বলেছেন, ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি উভয় জনগোষ্ঠীরই নিজস্ব ভূমির পূর্ণ অধিকার আছে।’

অত্যন্ত উচিৎ কথা। এর সাথে দ্বিমত করবেন এমন মানুষ নাই।  তবে ইসরাইলের  অধিকার যদি ফিলিস্তিনিরা বা অন্য কোন পক্ষ খর্ব করতো, তাহলে এমবিএসের কথা যুতসই।  সে রকম কোনও প্রেক্ষাপট এটা না ।  কৌশলী এমবিএস অবশ্য একই সাথে ফিলিস্তিনের কথা উল্লেখ করে নিজেকে ‘সাধু’ প্রমাণ করতে চেয়েছেন ! কিন্তু তিনি যে  নির্যাতক ও নির্যাতিতকে সমানভাবে বিবেচনায় আনলেন, সেটি  অন্যায্য ।

এমবিএসের কথার প্রেক্ষাপটই দ্বিমত করার জায়গা।  ইসরাইলের ভূমির পূর্ণ অধিকার আছে। কথাটা তিনি যখন বলছেন,  সে সময় তিনটি বিষয় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দাবানল ছড়িয়ে রেখেছে-
(১) ইসরাইলের ভূমি আগ্রাসন। ইসরাইল ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করেই যাচ্ছে। প্রতিদিন ইসরাইলি হত্যা করছে তারা।

(২) জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছে। আমেরিকা এতে মদদ দিচ্ছে।

(৩)  ইসরাইলি বর্ববরতায় বিপন্ন ফিলিস্তিনিদের সহায়তার অভিযোগে কাতারের উপর আরব দেশেগুলোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। যদি এটা প্রত্যক্ষভাবে বলা হয়নি । তবে এটাই পরোক্ষ এবং অন্যতম প্রধান কারণ ।

এ রকম প্রেক্ষাপটে এমবিএসের বক্তব্য  ইসরাইলিদের বর্বরতার আগুনে ঘি ঢালবে। এতদিন ইসরাইল প্রকাশ্যভাবে আমেরিকা ও তাদের সহযোগিদের সহায়তা ও সমর্থন পেয়ে আসছিলো, সন্ত্রাসবাদের ঘৃণ্যতম চর্চার জন্য এবার এমবিএস ভাইরাসও  ফিলিস্তিনিদের বিপন্ন করার বহরে যুক্ত হলো।  এ সংযুক্তি ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সঙ্ঘাতকে জায়েজে সহযোগিতা করবে এমবিএস ভাইরাস।  তাই এর প্রতিবাদ হওয়াটা জরুরি।

তবে প্রতিবাদ হচ্ছে না। তারও কারণ আছে। সাধারণত সৌদি বাদশারা মুসলমানদের মোড়ল হিসাবে পরিচিত। এর কারণটা এ সব ভ্রষ্ট মানুষ নয়। এখানে  মুসলমানদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর রওজা মুবারক এবং মহান আল্লাহ তায়ালার ঘর কাবা শরীফ অবস্থিত। এ কারণে এর গুরুত্ব, মর্যাদা এবং তাৎপর্য মুসলমান মাত্রই কবুল করে থাকেন।

আল্লাহ ও তাঁর নবী (সা:) এর প্রতি মুসলিমদের  অনিঃশেষ ভালোবাসাকে পুঁজি করে সৌদি রাষ্ট্র পরিচালকরা  মধ্যপ্রাচ্যে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় এখনই।

সৌদি  ইয়ামেনে মুসলমানদের হত্যা করছে। আমেরিকার সাথে জোট বেঁধে মানুষ খুনকে জায়েজ করছে।  মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ বর্ণ বিভেদ  তৈরি করছে।  তাই হত্যা, খুন আর সন্ত্রাসের আঞ্চলিক রাজনীতিতে আমেরিকার তল্পিবাহক হিসাবে এতদিনে গোপনে কাজ করলেও এখন প্রকাশ্যে এসেছে সৌদি।

সৌদি আরবের প্রতি মুসলিমদের অকুণ্ঠ সমর্থনের সুযোগে এ মোড়লিপনা  মধ্যপ্রাচ্যে মানুষ হত্যাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।  এর প্রতিবাদ হোক বা না-্ই হোক, এটা নিশ্চিত যে,  নির্যাতিত মানুষের জয় হবেই হবে।