ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

কী বলব, বুঝতে পারছি না,বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যু নিয়ে এক ধরনের ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে সাংবাদিকরা। বিশেষ করে দেখা গেছে এই লেখকের মৃত্য কে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত লসে জর্জরিত হওয়া বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তাদের ব্যবসা গুছিয়ে নিচ্ছে। অপেক্ষা দৃষ্টে এমন কিছু মনে হচ্ছে যে হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যু তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাড়িয়েছে। যদি ও তারা মুখে প্রকাশ করছে না, তারপর ধারনা করা যায় হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যুতে তারা বেশ খুশি হয়েছে। জয়তু সাংবাদিক সমাজ। ধিক্কার জানাই এই নিচু প্রকৃতির সমাজটা কে।

আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সাংবাদিকরা যে সাঙ্গাতিক টাইপের কিছু, তা তারা জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যু কে বাণিজ্য হিসেবে নিয়ে তাদের কর্ম শৈলীর মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। তাই বলে কী সব সাংবাদিক খারাপ ? মোটেই না আমি সেই কথা বলছি না। আপনারা জানেন যে বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের প্রকারভেদ অনেক রকম রূপ ধারণ করেছে। যেমন,তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নগরের সাংবাদিক ও মফস্বলের সাংবাদিক। এর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে হলুদ,জন্ডিস,দলীয়, সাংবাদিক। তদ্রূপ মিডিয়ার প্রকারভেদ ও হলুদ, জন্ডিস,ও দলীয় ভাবে পরিচালিত।

হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যু পরবর্তি সময় থেকে দেশে-বিদেশ হুমায়ুন আহমেদ কে নিয়ে হলুদ, জন্ডিস ও দলীয় প্রকারভেদের সাংবাদিক ও মিডিয়া গুলো এক ধরনের নীলজ্যতার খেলা খেলে যাচ্ছে যার ফলশ্রুতিতে হুমায়ুন আহমেদ এখন মরে গিয়ে আমাদের সামনে বাঘ হয়ে ফিরে আসছে। এটা কী ঠিক হচ্ছে ? সাংবাদিক দের সাথে সাথে ব্লগ-ফেসবুক এ ও জন্ডিস লক্ষ করা গেছে। আসলে আমি হতবাক হয়ে যাচ্ছি, এই ভেবে যে জাতির কাছে এক ধরনের ভুল মেসেজ যাচ্ছে। অযথা বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়।

কথা হলো, সাংবাদিক দের এই ধরনের আচরণে কোনও সাংবাদিক যে বিখ্যাত হতে পারবে না। সেটা তারা নিজেরাও জানে। কিন্তু তারপর ও তাদের নিজ নিজ সংবাদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠানের কাটতি পূরণ করতে গিয়ে একজন মৃত মানুষ কে নিয়ে যে অপবাদ চালাচ্ছে। এ থেকে তাদের ক্ষমা নেই। বিচার না হোক, কিন্তু সাধারণ ভক্তগনের মনে কালো দাগ খুব সহজে মুছে যাবে বলে আমি মনে করি না।

ধরে নিলাম, হুমায়ুন আহমেদ এর ব্যাক্তি জীবন আমাদের কাছে এক অজানা অধ্যায়। আসলে কী একজন হুমায়ুন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে চাইলে তার ব্যাক্তি জীবনের খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে ? কেন আমরা কী তার রেখে যাওয়া হিমু, বাকের ভাই, মিছির আলী নিয়ে আলোচনা করে যেতে পারি না ? তার জীবদ্দশার শেষ অপূর্ণ স্বপ্ন গুলো বাস্তবায়নের পথে পথিক হতে পারি না ? তাতে বাধা কোথায় ? নাকি এইগুলো লিখলে পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের কাটতি পূরণ হবে না ?

গত কয়েকদিন পূর্বের একটি গঠনা বিষয়ে আলোকপাত করছি, প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের মূল নায়ক এ টি এন বাংলার চেয়ারম্যান মিডিয়া অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আয়োজিত মানববন্ধনে সাংবাদিক দের একটি গ্রুপ যে কুকর্ম টি গতিয়েছিল সেই গঠনায় শুধু আমি না সারা দেশের মানুষ হতাশ হূয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। যে সাংবাদিকরা প্রতিদিন অন্য গঠনা কে জনগণের কাছে তুলে ধরে নিজের কর্ম দক্ষতার মাধ্যমে, সমালোচনা করে যৌক্তিক বিশ্লেষণ দিয়ে, অথচ সেই সাংবাদিকরা কী না নিজেরাই হয়ে গেল সংবাদের শিরোনাম। আশ্চার্য হয়ে গেলাম সাংবাদিক দের এহেন আচরণে। তো এখন কথা হলো তাহলে সাংবাদিক দের দ্বারা প্রকাশিত সংবাদ গুলো সত্যতা কতটুকু থাকবে ?

বর্তমানে মফস্বলের সাংবাদিকদের ক্ষমতা থানার ওসির ও উপরে সেটা আমি জানি অনেক আগে থেকেই। মফস্বলের এই সাংবাদিকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ, প্রশাসন । এর মধ্যে কী সকল সাংবাদিকরা খারাপ হয়ে গেছে ? না খারাপ হয়ে যায়নি। তবে টাকা না দিলে সাংবাদিকরা তাদের পত্রিকায় রিপোর্ট দেয় না। এই বিষয়ে ছোট্ট একটা বাস্তব গঠনা বলি, গঠনাটি ছিল ২০১০ সালের দিকের,গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার এক দরিদ্র কৃষকের একমাত্র ছেলে কে (মাইক্রো বাস ড্রাইভার ছিল) মাইক্রো বাস সহ পুড়িয়ে মেরে ফেলে একটি মাদক অপরাধী সংগবদ্ধ চক্র। ওই গঠনা ঘটে যাওয়ার পর (তারিখটা আমার মনে নেই তবে প্রমাণ সরূপ ওই পুড়ে যাওয়া মাইক্রো বাসটি এখনো ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ের হোতাপাড়া পুলিশ ফাড়িতে রয়েছে ইচ্ছা হলে দেখে আসতে পারেন ) ওই ফ্যামেলির সেই দরিদ্র কৃষক সাংবাদিক দের খরচের টাকা দিতে পারেনি বলে মিডিয়াতে মূল বিষয়টি ফোকাস হয়নি। নাম বলতে চাই না তবে এই গঠনার বিপরিদে সাংবাদিকরা ভাল কিছু অর্থ উপার্জন করে মূল গঠনা কে পর্দার আড়াল করে দিয়েছিল। কিন্তু গঠনাটি এমন ছিল যা ইচ্ছা করলে সাংবাদিকরা সাঙ্গাতিক কিছু গঠিয়ে দিতে পারতো। আর বলতে চাই না এই সব সাঙ্গাতিক নাম ধারী সাংবাদিকদের কথা।

পুলিশের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক টোকেন চাঁদা নিয়ে থাকে এই মফস্বলের সাংবাদিকরা। তখন আর পুলিশের গঠনা গুলো আমরা ভাল করে জানতে পারিনা। কিন্তু যখন পুলিশ তাদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন আমরা জানতে পারি আসলে পুলিশটি ছিল দুর্নীতিবাজ। আরও রয়েছে আজকে নাইবা বললাম।

নগরের সাংবাদিকরা সাঙ্গাতিক হতে পারে না, তারা ওই মফস্বলের সাংবাদিকদের মত মাসিক উত্কোচন সুবিধা নিতে পারে না। কারণ হিসেবে বলব নগরে যারা উত্কোচন দিয়ে থাকে তারা সাংবাদিক দের দেয়না। তারা পাঠিয়ে দেয় ডাইরেক্ট পত্রিকার সম্পাদকের কাছে। কাজেই নগরের সাংবাদিক দের আমি ভাল হিসেবেই জানি তারা অনেক নির্যাতন ও মাথা পেতে মেনে নিয়ে থাকে। তারপর নিজেকে মেলে ধরার জন্য ভাল একটি ক্যারিয়ারের চিন্তা করে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করতে চেষ্টা করে বলে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু সবাই না, কিছু কিছু রা।

আমি সাংবাদিক পেশাকে খুব শ্রদ্ধা করতাম কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ ও নিহত সাংবাদিক দম্পত্ত্বি সাগর-রুনির মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিক ও মিডিয়ার অতি কথন বা কর্মকান্ড আমাকে তাদের প্রতি ঘৃণা করতে শিখিয়েছে।