ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

ঈদ আনন্দ ইসলাম ধর্মের একটি ধর্মীয় উত্সব। ধনী-গরিবের অনাবিল আনন্দের একটি উত্সব। অথচ এই ঈদের আনন্দের মধ্যে ধনী-গরিবের স্পষ্ট ব্যবধান লক্ষণীয় একটি বিষয় আমাদের চলমান সমাজে। কেউ একটি জামার জন্য ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে না, আবার কেউ সোনাখ্সী জামা গায়ে দিয়ে ঈদের আনন্দ লুটে নেয়। কেউ নিজের বাড়ির ঈদের মাঠে একটি লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পড়ে ঈদের নামায পড়তে পারে না, আবার কেউ দামী পাঞ্জাবি-স্যুট পড়ে ঈদের নামায পড়তে চলে যায় নেপাল বা দার্জিলিং এর মত জায়গাতে। এই হল ঈদের আনন্দ। বেড়ানোর কথা না হয় বাদ দিলাম।

তবে বছরের বিশেষ এই দিনটির তাৎপর্য একজন বড়লোকের চেয়ে গরিবের কাছে অনেক বেশি বলে আমি বিশ্বাস করি। একজন গরিবের ঘরে ঈদের গুরুত্ব অপরিসীম এক কেজি সেমাই, এক কেজি চিনি, এক কেজি গরুর গোস্ত, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কে সাধ্যের মধ্যে কিছু জামা কাপড় কিনে দেওয়া, পকেট খরচের জন্য কিছু বাড়তি টাকা হাতে রাখা এ যেন এক কল্পনাবিলাসী সুখের মত। অথচ এই সুখ টুকু উপভোগ করতে গরিবের অবস্থা হয়ে উঠে নাভিশ্বাস । কিন্তু কিছু করার থাকে না ঈদ বলে কথা। অন্য আর দশ জনের মত খানিকটা হলেও তো কিছু না কিছু করতে হবে। কোনও রকমে ঈদের আনন্দ শেষ হলে পড়ে বাড়ে নিজের দুর্ভোগ। এই হল গরিবের ঈদের আনন্দ।

আর বড় লোকের ঈদ তো হয় প্রতিদিন। এ আর নতুন কী ? লেটেস্ট মডেলের জামা কাপড়, যেমন হল আব্বু, এইবার কিন্তু আমাকে ৫৫ হাজার টাকার লেহেঙ্গাটা কিনে দিতে হবে। বাবা-মা ছেলে-মেয়ের এইসব আব্দার চুম্বকের গতিতে পূরণ করে দেয়। আর খাওয়া দাওয়ার বিষয় সে তো আপনারাই বলতে পারবেন কতটুকু হয়।

যে কথা বলার জন্য এই লেখা, ঈদের আগের দিন সাধারণ একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের হাহাকার যদি এমন হয়, যে ঈদের আগে বোনাস তো দূরে থাক মূল বেতনই পায়নি। তখন সেই গার্মেন্টস কর্মীর ঈদের আনন্দ কেমন হতে পারে ? অথচ সেই গার্মেন্টস এর মালিক এইবার ঈদ করতে গেছেন কানাডাতে। তখন এটা কেমন লাগবে ? বুঝুন আমাদের শ্রেণী বৈষম্য কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে।

একজন রাজনীতিবিদের ঈদের আনন্দ হলো, ১০ টাকার নতুন নোট এর কয়েকটি বানডেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। কতিপয় কিছু গরীব মানুষ কে এক সাথে ৫ টি দশ টাকার নোট গুজে দিয়ে নে রে করিম এই নে টাকা গুলো রাখ ঈদের দিন কিছু কিনে খাবি। তখন সাথে থাকা চামচ জাতীয় পদার্থ ফটো শট করে রাখবে পরে প্রচারের জন্য। তখন কেমন লাগবে ? অথচ এটাই হলো স্বাভাবিক একটি বিষয়। গরিবের সাথে ঈদ উপলক্ষে একটা তামাশা করার। আসলে আমরা এমনই। চলছে আরও চলবে।

গত কয়েক বছর ধরে ঈদের আগে ঘর থেকে বের হই খুব কম, কারনটা উল্লেখ করছি,ঈদের মধ্যে রাস্তা ঘাট ব্যস্ত থাকে খুব বেশি এটা সবারই জানা রয়েছে। না আমি মোটেই সেই ব্যস্ত রাস্তার ভয়ে তটস্থ না। আমি খুব লজ্জিত হই যখন শুনি, যে অমুক গার্মেন্টস এর কর্মচারীরা বেতন-বোনাস এর দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে হাতে রয়েছে মাত্র দুই দিন কী একদিন তারপর হবে ঈদ তখন কেমন লাগে বলুন ? তখন কী খোঁজ নিয়ে জানতে ইচ্ছা করে না যে গার্মেন্টস মালিক কী ঈদের বাজার সদাই করেছিল কিনা ? না করে থাকলে কিছু টাকা দিয়ে আসতাম।

পরিশেষে বলতে চাই, আসুন আমরা ঈদের আগে আমাদের দারিদ্র্য পড়শীর খোঁজ নেই। সে কী ঈদের বাজার সদাই করেছে কিনা ?