ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত ইসলাম ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির কর্তৃক সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নৈরাজ্যের বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্টের রাষ্টদূত সরকার কে আহবান জানিয়েছে সংলাপ এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের। কেন সংলাপ করা প্রয়োজন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

জঙ্গিবাদী তান্ডব, ধর্ম ভিত্তিক অপরাজনীতি, উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহী তত্‍পরতায় লিপ্ত জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের জন্য মার্কিন পরামর্শকে অযাচিত,দূরভিসন্ধিমূলক ও দেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় গোড়ামিকে স্থায়ী ভাবে প্রতিষ্ঠিত ধৃষ্টতা বলে মনে করছি। যখন একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যত প্রকাশ্য যুদ্ধে অবতীর্ণ। তখন সেই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এই সংলাপ কেন ? যেহেতু এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ জামায়াত এর।

যেই যুক্তরাষ্ট সারা পৃথিবীতে ধর্মীয় উগ্রপন্থী, জঙ্গিবাদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তখন বাংলাদেশ সরকার কে কেন বলছে না ধর্ম ভিত্তিক এই উগ্রপন্থী জামায়াত কে নিষিদ্ধ ও দমন করাই এখন জরুরি কর্তব্য। এটা কিসের আলামত ? তাহলে কী ধরে নেওয়া যায়, উগ্রপন্থী ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কেবল নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য? নাকি বাংলাদেশের মাঝে এই সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত কে লালন পালন করার মিশন নিয়েছে যুক্তরাষ্ট আগামীতে বাংলাদেশ কে সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদের আখড়া বলে আগ্রাসন চালানো জন্য? নাকি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায়ের ঠিক আগে আগে জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের বিচার কাজকে বিঘ্নিত করে ঘাতকদের রক্ষা করার জন্য?

উল্লেখ করছি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের পরামর্শ দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সরকারকে। সেইদিন স্বাধীনতার পক্ষে মুক্তিকামী জনতার কারো বোঝার বাকি ছিল না যে, সেটি ছিল মার্কিন ঘনিষ্ঠ পাকিস্তানের খুনি সামরিক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় এজেন্টদের রক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। আজকের মার্কিন এই প্রস্তাবও সেদিনের সেই তত্পরতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট বাংলাদেশ এর কখনো ভাল বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষি না। যদি ভাল বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষি হতো তাহলে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট বলতো সংলাপ হতে পারে তবে তা হতে হবে, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য সংলাপ, জঙ্গিবাদ নির্মুলের জন্য সংলাপ, উগ্রপন্থী রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংলাপ, জঙ্গিবাদ যেন মাথা ছাড়া দিতে না পারে তার জন্য সংলাপ।

অথচ সেইরকম কিছু না বলে মনগড়া কল্প কাহিনী মূলক একটি ফালতু সংলাপ এর কথা বলে যুক্তরাষ্ট নিজেদের নৈতিক চরিত্র কেমন হতে পারে প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট।

ধন্যবাদ।