ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ব্লগে কিছু লেখকের আগমন ঘটেছে। তাদের স্বাগতম। নিঃসন্দেহে তারা ভুলে গেছে গত বিএনপি জামাত জোট এর শাসনামলে বিএনপি ও রাজপথে দরবেশ আউলিয়া দিয়েছিল-যারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু এইসব ব্লগার বা বুদ্ধিজীবীরা সেই সব দিনের কথা এখন আর মনে করতে পারছে না, তাদের সৃতি ভম্ম হয়ে তারা এখন মনে করছে বিএনপি জামাত জোট হরতাল প্রতিরোধে কোনও কিছু করেনি। তাদের পেটুয়া বাহিনী রাজপথ দখলের কোনো পাঁয়তারা করেনি। এ যেন হঠাৎ অমাবস্যার রাতের চাঁদের আলোর মত। মুখে এখন খই ফুটছে। যদি বলি বিএনপির ওই সময়ের প্রতিরোধের তুলনায়, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এখনো তেমন কোনো কর্মতত্পরতা দেখায়নি। তাতে আবার মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

বর্তমান বিএনপি ভুলে গেছে, তারা তাদের শাসনামলে আওয়ামি লীগের বেশ কয়েকটা এমপি প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চালিয়েছে অমানুষিক হত্যাযজ্ঞ। শুধু তাই নয়,আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর উপর হামলার মদদ দিয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র এনেছিল আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের হত্যা করতে। তখন কই ছিল এইসব বিবেকবান ব্লগার ও বুদ্ধিজীবীরা। তখন কী মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি ? বলবেন কী ? না তখন আপনারা যারা এইসব ঘটনা গুলো ঘটিয়েছিলেন এখন সেই আপনারা আজকে ব্লগে এসে মানবাধিকারের বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছেন। হায়রে বিবেক। বেমালুম ভুলে গেলেন সেইসব পুরানো কথা।

আজকে যে ইলিয়াস আলী কে নিয়ে হরতাল হচ্ছে। যারা বিবেকের কথা গুলো এত করে বলছেন। তারা কী সত্যি কারে জানেন কে এই ইলিয়াস ? এই ইলিয়াস হল সেই ইলিয়াস যে ৯০ এর দশক থেকে ২০১১ পর্যন্ত, মানুষ গুম, হত্যা করে এই পর্যন্ত এসেছে। সেই ইলিয়াস এর জন্য আপনাদের মায়া কান্না দেখে বড়ই কষ্ট পাই।

যাক সে পুরানো কাসুন্দি, এবার নতুন কিছু বলতে চাই, বিএনপি নেত্রীর জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এই হরতাল হল তার প্রমাণ। একটা সন্ত্রাসীর জন্য উনি হরতাল ডেকে শুধু নিজেকে নয় সারা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মনের মানবাধিকারের উপর নগ্ন হামলা করেছে। আর দুই দিন হরতাল থাকলে শুধু আওয়ামীলীগ কেন বিএনপি এর অনেক নেতা কর্মীর ঘরে ভাত জুটবে না। সেটা ও মনে রাখা প্রয়োজন। ব্লগে এসে মানবাধিকারের রক্ষার আন্দোলন আর থাকবে না। কী বোর্ডের বাটন নড়াচড়া আর করবে না। তখন আপনারাই শুধু করতে থাকবেন হায় ইলিয়াস হায় ইলিয়াস একি হল ।

হরতালের মধ্যে দাড় করা বাসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করছেন, বোমাবাজি করছেন, অন্যায় ভাবে মানুষের ভাংচুর করছেন, মানুষদের আতঙ্কের মধ্যে রেখেছেন। এইগুলো কী সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে না ? এতে কী মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না? আবার বলেন মানবাধিকার, জানতে পারি কোন সে মানবাধিকার? এটা দিয়ে কী হয়?

জানি আমার এই সব কথা গুলো কে আপনারা বাজে বাজে মন্তব্য করে উড়িয়ে দিবেন। যদিও তাতে আমার কিছু আসবে ও না যাবে ও না। তারপর ও বলব, আপনাদের এই হরতাল হরতাল খেলা বন্ধ করুন। সাধারণ জনগণের মানবাধিকার রক্ষা করুন। না হলে দেখবেন এই জনগণই আপনাদের বিরুদ্ধে একদিন রুখে দাঁড়াবে। তখন বুঝবেন কত ধানে কত চাল।