ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

জাতির সচেতন সন্তানদের কিছুদিন যাবত দেখা যাচ্ছে বেশ চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের আরাকানে চলছে দাঙ্গা ফলে অনেক মানব সন্তান নিহতও হয়েছে আবার কেউ বা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় চাইছে আর সরকার তা অনুমোদন করছে না বলেই জাতির এই মানবতাবাদী সন্তানরা বেশ ক্ষিপ্ত । তাদের এই উদ্বেগ দেখে আমিও খানিকটা উদ্বিগ্ন এই মর্মে যে আসলে ব্যাপারটি কি মানবতা নামক মহৎ জিনিসটিকে কেন্দ্র করে না এখানেও আবার কোন রাজনৈতিক হিসেব নিকাশ আছে? কিন্তু এখানে কোন রাজনৈতিক হিসেব নিকাশ এর তেমন কোন আলামত পেলাম না, যা পেলাম তা হলো পর্দার আড়ালে থেকে কতিপয় নাগরিকের মানবতাবোধ জাহির করার প্রবনতা।

ভালো, মানবতাবোধ প্রতিটি মানুষের থাকা উচিৎ নয়তো সে মানুষ নয় অন্য কিছু হবে হয়তো। মিয়ানমার প্রসঙ্গে যারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে ইতোমধ্যে এনে ফেলেছেন তাদের কথা এবং দাবিগুলো এক কথায় কাল্পনিক। তাদের ভাষ্যমতে মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ তাই তাদের নাগরিকদের বিপদের সময়ে আশ্রয় দেয়া এবং সহযোগিতা করা উচিৎ। অনেকে আবার বলেই ফেলেছেন তাদের আশ্রয় দেয়া না কি ধর্মমতে ফরয হয়ে গেছে।

আমি আবার তাদের মতো এতো বড় ধার্মিক নই,তবে ধর্ম কর্ম সম্বন্ধে সামান্য কিছু জ্ঞান আহরণ করেছি এবং তা থেকে যতটুকু পেয়েছি তাতে ইসলাম বলে নিজ গৃহের চারপাশে ৪০ ঘড় পর্যন্ত যারা আছেন তারা সকলেই আমাদের প্রতিবেশী এবং তাদের প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের হক আছে। উল্লেখ্য-

১.[প্রতিবেশী কারা এ বিষয়ে রাসুলকে (সা.) প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন—সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে চল্লিশ বাড়ি পর্যন্ত সবাই প্রতিবেশী।]
প্রতিবেশীর হক সম্বন্ধে

২.বিশ্বনবী(সাঃ) আরও বলেন- [আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কসম সে ব্যক্তি মুমিন নয়, আল্লাহর কসম সে ব্যক্তি মুমিন নয়, আল্লাহর কসম সে ব্যক্তি মুমিন নয়। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ, কে সে লোক? তিনি বললেন, যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না। (বুখারি শরীফ)।]

৩.[রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে খায় অথচ প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে সে ঈমানদার নয়। অন্যত্র তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তির প্রতিবেশী তার অত্যাচার ও অন্যায় আচরণ থেকে রক্ষা পায় না সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।]

৪.[ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর পাক (সা.) বলেন, জিবরাইল আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এমনভাবে নির্দেশ দিচ্ছিলেন যে, আমি ধারণা করেছিলাম তিনি সম্ভবত তাকে (প্রতিবেশীকে) ওয়ারিশ বানিয়ে দেবেন। (বুখারি শরীফ)] এবং

রাসুল(সা.) “পিতা-মাতার পরই প্রতিবেশীদের সঙ্গে শিষ্টাচারপূর্ণ বা সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

অতএব শান্তির ধর্ম ইসলামের আলোকে বলা যায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে নিজ নিজ প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলেমিশে বাস করা, তাদের সুখে সুখী হওয়া, তাদের দুঃখে দুঃখী হওয়া, তাদের উন্নতি ও কল্যাণে কাজ করা এবং তাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে যারা এগুলো পালন করে চলেন/মেনে চলেন তাদের প্রতি জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা কারন আমি নিজেও প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে খুব বেশী সচেতন নই আর যারা নিজ নিজ প্রতিবেশীর খবর নেন না বছরে একদিনও কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শরণার্থী’র প্রতি খুব বেশী টান/উদ্বিগ্ন তাদের প্রতি জিজ্ঞাসা রইল নিজ নিজ প্রতিবেশীর খবর কি? শেষ বিচারের দিন সকল কর্ম ও উদ্দেশ্য জনসম্মুখে খোলসা হয়ে যাবে এবং নিজ নিজ প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ব্যাপারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা.) এর নিকট এক ব্যক্তি আরও জিজ্ঞাসা করল ইয়া রাসূলুল্লাহ! অমুক মহিলা অল্প রোজা, অল্প দান-সদকা ও অল্প নামাজের বিষয় মানুষের মধ্যে আলোচনা করে। তবে সে পনীরের টুকরা বিশেষভাবে দান করে থাকে এবং তার জবান দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। রাসূলুল্লাহ বললেন, সে জান্নাতী।

তাই প্রথমেই আমাদের উচিত নিজ নিজ প্রতিবেশীদের অধিকারগুলো যথারীতি আদায় করা। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রতিবেশীর হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। (আমিন)।