ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বিশ্বব্যাংক অনেক গো-এশোনার[সংশোধনী রুপঃ গো+ এষণা] (গবেষণার) পরে আমাদের দেশের দিকে দুর্নীতির তীর ছুড়িয়া পদ্মা সেতু প্রকল্প হইতে হাত গুটাইয়া লইল, কিন্তু কি কারনে বা কোন প্রভাবে তাহাদের ঐ পবিত্র হস্তখানি এই গরিব দেশের মাথার উপর দিয়া তুলিয়া লইল তাহা কিন্তু এখনো ক্লিয়ার না আলবৎ মেঘাচ্ছন্ন। যাই হোক তাঁহাদের অমুল্য অর্থ আমাদের দেশে বিনিয়োগ করিবেন না তাহা প্রকাশ্যে বলিয়া দিলে নিশ্চয়ই আমরা আরেকটা যুদ্ধের ডাক দিতাম না। কিন্তু তাঁহারা সাহায্যে স্বরূপ সুদের অর্থ লইয়া যা দেখাইলেন তাহা কল্পনারও অনেক উর্ধ্বে। অনেক ভাবিয়া শুনিয়া নিজেদের স্বার্থ দেখিয়া বাংলাদেশকে বিনা প্রমানে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের সনদ দিয়া দিলেন। পরদিন শুনিলাম তাঁহাদের নিজেদের সংস্থার লোকজন না কি অনেক বেশিই দুর্নীতিগ্রস্ত। যাক, দুর্নীতিগ্রস্ত তো এ এমন আর কি? আমি তো তাঁহাদের কার্যকলাপ দেখিয়া ভাবিতে ছিলাম তাঁহারা কি শতভাগই মাদকাসক্ত? নইলে এমন আজগুবি আচরন কেন করেন।

আজগুবি আচরনের আর কি দেখছেন? এবার আসেন এইখানে আর দেখেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডাব্লিউ) প্রতিবেদনে তাঁহারা কি কইতে চায়?

তাঁহাদের ভাষ্যমতে তাঁহারা সেই সুদূর নিউ ইয়র্ক বসিয়া গায়েবী শক্তির মাধ্যমে জানিতে পারিয়াছেন যে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে অবাধে মানবাধিকার লংঘিত হইতেছে আর র‌্যাব সমাজের ভালো ভালো চরিত্র বিশিষ্ট লোকদের ধরিয়া নিয়া না কি পাখির মত গুল্লি কইরা মাইর‍্যা ফালাইতাছে। শুধু এই কথা বলেই ক্ষ্যান্ত হয় নাই সাথে মহা উদ্বেগের সাথে বলিয়াছে ”বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সন্দেহভাজন ও অভিযুক্তদের ওপর নির্যাতন” হইতেছে। আহা কি ভালা মনের মানুষ তাঁহারা নইলে সেই নিউইয়র্ক বসিয়া আমাদের মত অধমদের লইয়া ভাবিবার সময় পাইতো কই? এই কিছুদিন আগেও যখন মায়ানমারে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার লইয়া দেশব্যাপী দাঙ্গা লাগিলো তখনো কিন্তু এই এইচআরডাব্লিউ’র কলিজা ব্যাথ্যায় এমন ব্যাথিত হইয়া ছিল যে আর কাউকে না পাইয়া সোজা বাংলাদেশকে অনুরোধের সূরে এককথায় আদেশ দিয়া বলিলেন ”শরণার্থীদের ঠাই দাও” ”ঠাই দাও” ওদিকে তাঁহারা শরণার্থীদের একমুঠো খাবার পর্যন্ত দিতে সক্ষ্মম হন নাই। আর সন্ত্রাসীরা যখন সাধারন জনগণকে তিক্ত বিরক্ত করিয়া লইয়াছিলো, আমার ধর্ষিতা বোনের কাপড় লইয়া যখন আনন্দে মাতিয়াছিলো তখন এই এইচআরডাব্লিউ’র কলিজায় মনে হয় ব্যাপক প্রশান্তির আবির্ভাব হইয়াছিল তাই র‌্যাব লইয়া তাদের এত গাত্রদাহ।

এই হলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাজ কারবার। নিজেদের বিশ্বব্যাপী ভদ্র-বিনয়ী-মানবিক-দুর্নীতিমুক্ত প্রমান করিতে যাইয়া যদি ঊরা খবরের ভিত্তিতে হউক আর অবচেতন মনের চেতনায় হউক কোন দেশকে যদি কোন প্রকার সনদ দেয়ার প্রয়োজন মনে করে বা কোন প্রতিবেদন প্রকাশের উপযুক্ততা মনে করে তাহলে বিনা খরচায় করিয়া দিবে। আর নিজেরা লাল নীল প্রকৃতির পানি খাইয়া আত্ন তৃপ্তিতে মশগুল থাকিবে।

শরাব পান না করিয়া যে কোন ব্যাক্তি বা সংস্থা এমন অস্বাভাবিক আচরন করিলে স্বভাবতই আমার ক্ষুদ্র মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে এসব কিসের আলামত…..?