ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

বিদ্যুৎ এক মহা মূল্যবান জিনিস আমাদের জীবনে। আজকালকার যুগে বলতে গেলে আমরা ও সভ্যতা প্রায় ৯৫% বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। এই মহা মূল্যবান জিনিসকে নিয়ে আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে হয়রানির যেন শেষ বলতে কিছুই নেই। আর বিভাগে দুর্নীতিরও বালাই নেই। প্রকৌশলী থেকে শুরু করে লাইন ম্যান সকলেই দুর্নীতির ভারে ভারাক্রান্ত।

গত মার্চে বিদ্যুত বিল বৃদ্ধির পর থেকে তারা যেন আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, বিশেষ করে মিটার রিডার’রা। ব্যাবহারের সীমা বেঁধে দেওয়ায় এখন এই মিটার রিডারদের আনন্দের সীমাও চরমে। কারন এতে সামান্য ব্যবহার বৃদ্ধিতে গ্রাহককে দুই থেকে তিনগুণ বেশি বিল দিতে হচ্ছে। আর এই সুযোগে মিটার রিডার’রাও মিটার পরিদর্শন না করেই অফিসে বসে ইচ্ছামত ইউনিট তুলে দিচ্ছেন ভোক্তাদের বিলে। কোম্পানি এবং গ্রাহকের মধ্যে কাজ করা মিটার রিডারদের পকেটে চলে যাচ্ছে এই অতিরিক্ত অর্থ। উৎকোচের বিনিময়ে মিটার রিডার গ্রাহকের বিল এখন কম দেখিয়ে শীতে গিয়ে সমন্বয় করে দিচ্ছে। আবার কারও বিল এখন বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে সার্বিক রাজস্ব আদায় ঠিক থাকছে। কিন্তু মিটার রিডাররা অবৈধভাবে অর্থ আয় করছে ঠিকই।

ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুত ব্যবহার করলে তাকে সাত টাকা ৮৯ পয়সা করে বিল দিতে হবে। কিন্তু ৪০০ ইউনিটের নিচে থাকলে তাকে চার টাকা ২৯ পয়সা করে বিল দিতে হবে। এক থেকে ১০০ ইউনিটের জন্য তিন টাকা ০৫ পয়সা করে বিল দিতে হবে। যেসব গ্রাহক মিটার রিডারদের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে তাদের ব্যবহার ৪০০ ইউনিটের কম থাকছে। আবার অনেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহার না করেও তাকে ৪০০ ইউনিটের ওপরের বিল দিতে হচ্ছে।

কাগজে কলমে নিয়ম রয়েছে গ্রাহকের উপস্থিতিতে মিটার রিডিং নেয়ার কিন্তু তারা যে কখন এসে রিডিং নিয়ে যান তা হয়তো অধিকাংশ গ্রাহকেরই জানা নেই।

ডিজিটাল মিটার প্রবর্তনের পর অনেকেই ভেবেছিলেন এখন হয়তো তাদের আর গায়েবী বিল দিতে হবে না কিন্তু ডিজিটালের মধ্যেই যে সুক্ষ চুরির সুযোগ লুকানো তা হয়তো আমিও জানতাম না। গত ১৮/৫/২০১২ তারিখে বাসার নিচে মোটর সাইকেলটি পার্ক করতে গিয়ে হঠাত করে চোখ পরে যায় মিটারটির দিকে কারন সেটি বেশ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। সেটি পরিষ্কার করে একবার চোখ বুলালাম ইউনিটের দিকে, কারন সচরাচর ওদিকে তাকানো হয় না। দেখলাম ২৫৮০০ ইউনিট উঠে আছে। যাই হোক না কেন পরের মাসে যখন বিদ্যুতের বিল আসলো সেখানে লেখা দেখলাম মিটার রিডার উক্ত তারিখে ২৫৯৫০ ইউনিট বিল দেখিয়েছে। মোটের উপর আমার ব্যাবহার কৃত ইউনিটের চেয়ে ১৫০ ইউনিট বেশী। তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলাম তারা জানালো তাদের হিসাবই সঠিক। কিন্তু আমার যে ৪০০ ইউনিট এর পরে আরো ১৫০ ইউনিটের অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে তাতে তাদের না কি কিছুই করার নেই। অবশেষে সব মেনে গত মাসের ১৫ তারিখ থেকে অপেক্ষা করতে লাগলাম কিন্তু ২৫ তারিখ পর্যন্তও ক্ষমতাধর রিডারের কোন দেখা মিলল না আমাদের পুরো এলাকায়। অফিসে গিয়ে কারন জানতে চাইলে রিডার বলল তাদের কাছে না কি হিসাব আছে কোন গ্রাহক কত ইউনিট ব্যাবহার করে থাকেন আর ভিত্তিতেই মুখস্থ বিল প্রস্তুত করেন তারা।

এই হলো বিদ্যুতের মিটার রিডারদের কেরামতি। তারা চাইলে আপনাকে কোটিপতিও করে দিতে পারে আবার রাস্তার ভিখারি বানাতেও পারে। সবই তাদের মর্জি।