ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রতি বছরই দুই ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির এক দুঃসহ নাম পরিবহন যাত্রা। আর এই পরিবহন জগতে বাস ও লঞ্চের টিকিটের চাহিদাই বেশি রেলের চেয়ে। চাহিদার অনুপাতে বাস ও লঞ্চের টিকিট ৯৫% চলে যায় কালোবাজারি চক্রের হাতে। এই গত বছরও প্রকাশ্যে কালোবাজারি চক্র চড়া দামে প্রকাশ্যে টিকিট বিক্রি করতো কিন্তু এখন সরকার একটু কঠোর হওয়ায় তারা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে মাত্র কিন্তু টিকিট কালোবাজারিদের হাতেই আছে।

আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে চলুন দেখে নিই এবার লঞ্চের টিকিট কিভাবে ১০ রোজার মধ্যেই গায়েব হয়ে গেলঃ-

বরিশালের একটি লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টারে ৭ম রোজায় ১৬/১৭ই আগস্টের একটি একটি ডাবল কেবিন এর জন্যে গেলাম তারা বললেন এখন কেবিন দেয়া যাবে না কারন মালিকপক্ষের নিষেধ আছে। ১০ রোজার পরে আসুন। অবশেষে সেখান থেকে বের হয়ে অন্যান্য লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টারে গেলেও তারা একই যুক্তি দাঁড় করালেন মানে মালিকপক্ষের মর্জি।

তারপর ১১ই রমজানে আবার তাদের শরণাপন্ন হলাম ঢাকা থেকে একটি টিকিটের জন্য। কাউন্টারে কর্মরতারা জানিয়ে দিলেন অগ্রিম টিকিট অবশিষ্ট নেই। বললাম আপনারাই তো আসতে বললেন ১০ম রমজানের পরে। স্বীকার করে নিয়ে খাতা বের করে দেখালেন অগ্রিম টিকিটগুলো কাদের নামে ইস্যু হয়ে গেছে।

যাদের নামে ইস্যু হয়ে গেছে ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রায় সব লঞ্চ কোম্পানির টিকেট তাদের তালিকা নিম্নরূপ-

১/জেলা প্রশাসক এর নামে ৫ টি
২/সংসদ সদস্যর নামে ৪২ টি[৭*৬=৪২টি]
৩/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এর নামে ৩ টি
৪/জেলা ও দায়রা জজ এর নামে ৬ টি
৫/অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আর নামে ৯ টি
৬/মহানগর হাকিম এর নামে ২ টি
৭/চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নামে ১১ টি
৮/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) এর নামে ৬ টি
৯/বিভাগীয় কমিশনার এর নামে ২ টি
১০/কর কমিশনারের নামে ২ টি
১১/র‍্যাব এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নামে ২৫ টি
১২/জনৈক মেজর থেকে শুরু করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ টি’র উর্ধে
১৩/পুলিশ সুপার এর নামে ৪ টি
১৪/মহানগর পুলিশ কমিশনারের নামে ৩ টি
১৫/অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নামে ৩ টি
১৬/অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নামে ৫ টি
১৭/রেঞ্জ ডি আই জি এর নামে ২ টি+অতিরিক্ত ডি আই জি এর নামে ৪ টি
১৮/কমান্ড্যাট আনসার ভিডিপি এর নামে ৩ টি
১৯/দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নামে ১০ টি
২০/পুলিশ সুপার{পটুয়াখালী,বরগুনা,ঝালকাঠি} এর নামে ৯ টি
২১/প্রভাবশালী সরকারী দলের উচ্চ স্তরের নেতাদের নামে ১২০ টি
২২/ব্যাবসায়ি নেতাদের নামে ২৫ টি
২৩/বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামে ৩০ থেকে ৫৫ টি
২৪/রিভার ট্র্যাফিক পুলিশের নামে ২২ টি
২৫/বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নামে ১১ টি
২৬/উপ পুলিশ কমিশনার(ট্র্যাফিক) এর নামে ৭ টি
২৭/মালিক পক্ষের ব্যাক্তিগত শুভাকাঙ্ক্ষীদের নামে ৮০-১৫০ টি পর্যন্ত

***———আরও অনেক আছে যা লিখে শেষ করা যাবে না———***

মজার বিষয় হলো উপরোক্তরাও জানে না যে তাদের এক জনের বিপরীতে ২ থেকে ১০টি পর্যন্ত অগ্রিম টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে সকল লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টার থেকেই। আর সাধারন জনগন কাউন্টারে গেলে তাদের সামনে যখন এই সুদীর্ঘ ভারী তালিকা পেশ করা হয় তখন তারা অনেকটাই অসহায়ের মতো মাথা নিচু ভাবতে থাকে অন্য কি উপায় আছে আর পরবর্তীতে বেছে নেয় সেকেন্ডারি পথ মানে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকেট ক্রয়।

**[এ ব্যাপ্যারে স্বনামধন্য এক লঞ্চ কোম্পানির মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কে কার নামে টিকেট নিয়ে গেল তা তদন্ত করার সময় আমাদের নেই। তবে ভি আই পি’রা টিকিট চাইলে আমরা দিতে বাধ্য]

এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি হয়ে আছি আমরা কতিপয় আম জনতা এর এই হলো তাদের বর্তমান প্রবর্তিত কৌশল। না জানি অদূর ভবিষ্যতে আরো কত কিছু দেখতে হয়। তবে সে পর্যন্ত বেঁচে থাকার সাধ এখন আর নেই এসব অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা দেখে।।