ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্ত বাংলাদেশের মেধাবীদের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। উপ-উপাচার্য ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবীতে বুয়েটের শিক্ষকদের একাংশের পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে এ আন্দোলন। চলমান আন্দোলনে শিক্ষকদের একাংশের সমর্থনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য এই একাংশ শিক্ষকদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন কি কারনে তা এখনো সুস্পষ্ট নয় আমাদের কাছে। এই একাংশের শিক্ষকরা নিজেরা সামনে না এসে পর্দার আড়ালে থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীরাও এই সহযোগিতা পেয়ে নিজেদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই আন্দোলন নামক অরাজকতায় জড়িয়ে পড়ছে। এই ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের কিন্তু শিক্ষকদের একটি অংশ কৌশলে কাজে লাগাচ্ছে। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য এই একটি অংশের শিক্ষকমণ্ডলীর মূল মাথাব্যাথার কারন আর তাই স্বভাবতই এই শিক্ষকদের উচিৎ প্রত্যক্ষ্য আন্দোলনে যোগ দেয়া।

বুয়েটে ইতোপূর্বেও নানা ইস্যুতে আন্দোলন অবরোধ হয়েছে কিন্তু এবার এমন কি হলো যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীরের রক্ত সিরিঞ্জ দিয়ে বের করে বোতলে ভরে ও সিঁড়িতে মেখে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। আলোচিত সনি হত্যাকাণ্ডের সময়ও এত উত্তাল হতে দেখিনি যা এবার দেখছি। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য কি তাদের এমন ক্ষতিই করেছে যে তারা এবার জীবন মরন লড়াইয়ের পথ বেছে নিল?

আমার মতো সাধারন জনগণের মাথায় কোনভাবেই আসছে না যে এই কঠোর আন্দোলনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কি? কিন্তু একটি বিষয় একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না তা হলো আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন যে পদ্ধতিতে হবে তা হলো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনেও এই মেশিন ব্যাবহার করে জাল ভোট নিরোধে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে; আর আমাদের দেশে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের(ইভিএম) উদ্ভাবক কিন্তু বুয়েটের শিক্ষকরাই এবং তাঁদের মতামতেই এই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন(ইভিএম) জনগণের আস্থা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে। যেহেতু দিন যত যাচ্ছে সাথে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসছে সেহেতু কারো মনে দুরভিসন্ধিমূলক কোন কিছু থাকলে তা হচ্ছে যেভাবেই হোক এই মেশিনকে অযোগ্য ঘোষণা করাতে হবে আর যারা এর উদ্ভাবক তাঁদেরই বড় একটি অংশ যদি এর নিরপেক্ষতা/গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বা বিবৃতি দেন যে এই পদ্ধতি অকার্যকর তবেই প্রথম পর্বের মূল কাজ হাসিল। কিন্তু এটাতো এক রাতে করে ফেলার কাজ নয়। এটা একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ বলেই প্রতীয়মান।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরাসরি বুয়েটের শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করলে বিষয়টি জনসম্মুখে খোলসা হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই শিক্ষকদের অন্তরালে রেখে সামনে ঠেলে দেয়া হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী সন্তানদের। এক কথায় একে আইওয়াশ বললেও ভুল হবে না। আন্দোলনরত ৭০-৭৫% শিক্ষার্থীই সঠিকভাবে জানে না যে কেন এই অরাজকতা এবং জানার চেষ্টাও করেনি। আমার বড় ভাই বুয়েটের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে আমি প্রায়ই সেখানে যেতাম, সেই সুবাদে সেখানকার অনেক শিক্ষার্থীর সাথেও আমার অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। তাতে যা দেখেছি ও পেয়েছি তা হলো তাঁরা অনেকটা অন্ধবিশ্বাস ও আবেগপ্রবন এবং সমাজের আর দশ জনের চেয়ে একটু বেশীই সহজ সরল প্রকৃতির কিন্তু পড়ালেখায় তুখোড় মেধাবী যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এখন এই সহজ সরল প্যাচবিহীন মনের শিক্ষার্থীদের যদি কোন কঠিন সুক্ষ পরিকল্পনার মাঝে ফেলে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁদের স্বার্থ উদ্ধার করে চলে যায় এবং পরবর্তীতে তাঁরা এর আগা মাথা কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখা যাবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন(ইভিএম) ইস্যু নিয়ে সমগ্র দেশ উত্থাল পাত্থাল হয়ে গেছে তখন আর কারোর কিছুই করার থাকবে না।

এ যাবত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে(ইভিএম) যে কয়টি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে তাতে বর্তমান সরকারের সফলতাই বেশী সেহেতু ভবিষ্যত নির্বাচনের ফলাফলের কথা ভেবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের এ নিয়ে ঘুম হারাম হতেই পারে। আর তাঁদের সাথে জোটে আছে ৭১’এর স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, যারা কি না এই ধরনের সুক্ষ চাল চালতে বিশ্বে সেরা।

লেখাটি পড়ে আপনারা ভাবতে পারেন আমি আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ দালাল, তাতে আমার বিন্দুমাত্র দুঃখ বা মনঃকষ্ট নেই। কিন্তু বিনীত অনুরোধ আপনারা একবার হলেও ভেবে দেখবেন আপনার-আমার মেধাবী সন্তানগুলো/ভাই-বোন’রা যেখানে জ্ঞানার্জন করছে সেই বুয়েটকে কেন্দ্র করে এই অরাজকতা এটাই প্রশ্ন জাগায় যে উপাচার্য,উপ-উপাচার্য মূল বিষয় না সন্দেহাতীতভাবে নেপথ্যে আছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন(ইভিএম) নির্মূলের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বা পরিকল্পনার অংশ?