ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

শান্তি, সামাজিক, অসাম্প্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ একটি দেশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সুখ্যাতি ছিল আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশের। সময়ে সময়ে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কিছু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড ছাড়া দেশের নাগরিক’রা খুব একটা নিরাপত্তা বিহীন ছিল না ২০০১ এর পূর্ব পর্যন্ত।

কিন্তু ২০০১ পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে কেমন যেন বদলে গেল বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট। ২০০৫ এর ১২ই মে হঠাৎ দেশে আত্নপ্রকাশ করল জেএমবি নামক উগ্রপন্থী এক ভয়াবহ জঙ্গি সংগঠন। তারপরে তাঁরা শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যাবহার করে তৎকালীন সরকারের পরোক্ষ মদদে এমন কোন নিকৃষ্ট কাজ নেই যা তাঁরা করে নাই। প্রতিটি ঘটনার পরেই দেখা যেত তাঁরা অনেকটা আফগান জঙ্গি ভঙ্গিতে ঘটনার দায়ভার স্বীকার করে নিয়ে বলতো ইসলামে না কি এগুলোকে জিহাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে আর তাই তাঁরা এ কাজ করেছে জিহাদের অংশ হিসেবে।

তাঁদেরও উত্থানের পূর্বে দেখেছি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিভাবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার করেছে ঐ জোটের অংশীদার এক দলের লোকজন। এক রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে পুড়িয়ে দিয়েছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১১টি পরিবারসহ একটি গ্রাম। এক বৌদ্ধ ভিক্ষু’কে মাথায় কুড়ালের আঘাতে বর্বরভাবে হত্যা করেছে। ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারের উপর হামলা হয়েছে। সাতক্ষীরা,পিরোজপুর সহ দেশের আরও অন্যান্য জায়গায় মানুষ খুন,ধর্ষণ সহ এমন কোন অপরাধ নেই যা তাঁরা করে নি শুধু ধর্মের দোহাই দিয়ে। তাঁদের মুখ থেকে এমন স্লোগানও শোনা গেছে “আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান”

তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পরে শুধু ঐ একটি সংগঠন জেএমবি’র তৎপরতা বন্ধ ও তাঁদের শীর্ষ কর্তাদের বিচারসহ শাস্তি হয়েছিলো কিন্তু এর যারা মদতদাতা তাঁদের কারো কিছুই হয় নি। এখনো সুস্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান কাদের ইশারায় ঐ সাম্প্রদায়িকতার ঝড় উঠেছিল এই দেশে। সোজা ভাষায় এক কথায় বলতে গেলে এদেশে ধর্ম কে পুঁজি করে সব কাজ করে প্রধানত একটিই রাজনৈতিক দল আর তার নাম হল জামায়াত। যে দলের শীর্ষ নেতারা ৭১ এ প্রত্যক্ষ্যভাবে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং এখনো তাঁদের মধ্যে ভয়াবহ পাকিস্তান প্রীতি কাজ করে।

৩০/০৯/১২ রবিবার কক্সবাজারের রামু,উখিয়া,টেকনাফে একটি তুচ্ছ ব্যাপারকে ইস্যু বানিয়ে যেভাবে বৌদ্ধ ধর্মের লোকজনের উপর হামলা হলো, তাঁদের উপাসনালয় ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করা হলো তাতে আবার নতুন করে ভাবতে হবে আমাদের যে আসলে আমরা কতখানি নিরাপদ এই ধর্মবাজ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে। কারন পূর্বেও এরাই নারায়ে তাকবীর বলে ছুড়ি চালিয়েছে সব ধর্মের মানুষের গলায়,বোমায়,গ্রেনেডে ক্ষত বিক্ষত করেছে বাংলাদেশকে বহুবার জামায়তের ইন্ধনে; আর এবার প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে।

বর্তমানে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে যাদের ইন্ধন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলো সেই গাছের ডাল-পালা, গোঁড়া আমরা কাটতে পারলেও শেকড় যে এখনো অক্ষত তা স্পষ্ট। ওদের লক্ষ্য ও গন্তব্য একটাই যে করেই হোক ওদের এই বিচার থেকে বাঁচতে হবে। মাত্র রেখে যাওয়া শেকড় থেকে কচি চাড়া বেরিয়েছে তাতেই এই অবস্থা দেশের আর চাড়া যখন গাছে রূপ নেবে তখন আফগানও লজ্জায় মুখ ঢাকবে ওদের বিকৃত মানসিকতা ও বর্বরতা দেখে।