ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আজ যে বাংলা ভাষায় ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে কয়েকটা লাইন লিখতে পারছি সেই আমাদের মাতৃভাষা বাংলা কে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনের কারিগর ছিলেন প্রধানত ছাত্র ছাত্রী’রা এবং তাঁদের সাথে ছিলেন সাধারন জনতা। ভাষা আন্দোলন ছাড়াও ঐতিহাসিক বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যারা প্রথম কাতারে থেকে আন্দোলনের চূড়ান্ত ফল তুলে এনে দিয়েছে তাঁদের মধ্যেও ছাত্রদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য, এছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের অভ্যন্তরীণ দাবী দাওয়া আদায়ে সমাধানের পথ খুঁজে তা বাস্তবায়নেও ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা অনেক বিস্তৃত।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতির এক সোনালী অতীত থাকলেও তা বেশীদিন টিকতে পারে নি কোন এক অদৃশ্যে কারনে। ১৯৯৬ পরবর্তী থেকে বর্তমান যা বলে তাতে ছাত্র রাজনীতি আমাদের দেশের জন্যে এক মূর্তিমান আতংকে পরিনত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি আজ মূল স্রোতের বিপরীতে চলা শুরু করেছে। ছাত্র রাজনীতিতে আজ মেধাবীদের কোন স্থান নেই বললেই চলে। কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্যে বিস্তার, হলের সিট বাণিজ্যে, বিভিন্ন ভর্তি বাণিজ্যে, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ অস্ত্রবাজি ও বিভিন্ন বেআইনি কাজ কর্ম আজ ছাত্র রাজনীতির মূল উপাদানে পরিনত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতির লক্ষ্যে আজ অর্থ উপার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে তা হোক বৈধ বা অবৈধ অর্থ। প্রতিটি ছাত্র সংগঠনের মুলে রয়েছে এদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। ছাত্র রাজনীতি এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে এই রাজনৈতিক দলগুলো চাইলেও তাঁদের কোনভাবেই সংশোধন করতে পারবে না কারন ছাত্র রাজনীতিতে যেমন অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে ঠিক তেমনই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরাজমান। একই রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে এ ব্যাপারে রয়েছে পাঁচমিশালি দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁরা সবাই চায় সবকিছু তাঁদের নিজেদের মতো হোক। আর এখান থেকেই সূচনা বিবাদের। এই বিবাদ পর্যায়ক্রমে গড়াতে গড়াতে রূপ নেয় কখনো’বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। আর বিরোধী পক্ষকে দমন করতে তো ছাত্র রাজনীতির বিকল্প ভাবাই যায় না এখন।

বিগত একটি বছরের দিকে দৃষ্টিপাত করলে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে যেখানে ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে সংঘাত সংঘর্ষ হয় নাই। এটা শুধু এই সরকারের আমলে নয় বরং প্রতিটি দলীয় সরকারের সময়ের ছাত্র রাজনীতির চিত্র একই। যে ছাত্র রাজনীতি দুঃখীর মুখে হাসি ফোটাতে পারে না, জাতিকে মেধাবী নেতৃত্ব উপহার দিতে পারে না, অসহায়ের পাশে বল হয়ে দাঁড়াতে পারে না, অন্যায়ের বিপক্ষে ন্যায়ের গান গাইতে পারে না সে ছাত্র রাজনীতির দরকারটা কি আমাদের দেশে? তাঁদের কর্ম ও ধর্ম কি এটাই যে ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গন গুলো অশান্ত করবে প্রতিনিয়ত আর কিছুদিন পর পর এক একটি পরিবার কে করবে সন্তানহারা? ধিক্কার জানাই সেই ছাত্র রাজনীতিকে যার ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এক একটি মেধাবী গঠনের কারখানা। নিজেরা তো মেধার সঠিক ব্যাবহার করবেই না উপরন্তু বিশৃঙ্খলা করে, অস্থিরতা তৈরি করে অন্যান্য যে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আছে তাঁদের জীবন থেকেও কেড়ে নেবে অমূল্য সোনালী সময় কে। এই অবস্থা ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব মেধাহীন হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই ছাত্র রাজনীতি আজ বাংলাদেশের জন্যে গলায় বিঁধে যাওয়া ভয়ংকর এক কাঁটায় পরিণত হয়েছে। যে কাঁটা দূর না করতে পারলে ভবিষ্যৎ কে হাজার পাওয়ারের লাইট জ্বালিয়ে খুঁজলেও আমাবস্যার অন্ধকার ই মিলবে, অন্যকিছু নয়।