ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
Terrorism

একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীগণের অবদান সমাজের প্রথম শ্রেণিতেই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। উপরন্তু পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। পৃথিবী তে সাংবাদিকতার মতো এমন মহৎ পেশা খুব কমই পাওয়া যাবে। এ পেশাটিতে পরিপূর্ণ ভাবে বিচরণ করতে হলে যেমন বুকে সৎ সাহস প্রয়োজন তেমনি নৈতিকভাবেও স্বচ্ছতা দরকার। জ্ঞান-মেধা-প্রতিভার সম্মিলনে পূর্ণতা লাভ করে সাংবাদিকতা। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের ক্ষুরধার লেখনীতে ভাগ্য বদলে যায় অনেক অবহেলিত-নির্যাতিত-বঞ্চিত সমাজের চিত্র।

সাংবাদিকতার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য অতীতে কখনো পয়সা কামানোর হাতিয়ার ছিলো কি না জানা নেই কিন্তু বর্তমানে এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী ভূখণ্ডে যে কত হাজার মাখলুক এই পেশাটিকে পয়সা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান কোন মানুষ দিতে পারবে বলে প্রতীয়মান নয় । শৈশব থেকে জেনে এসেছি ‘অসি অপেক্ষা মসি অধিকতর শক্তিমান’; সে হিসেবে এই মসি কারা কিভাবে কোন কোন যোগ্যতাবলে ব্যবহার করছে তার হিসেব যদি পরিষ্কার না হয় তবে এই মসি দিয়ে পয়সা প্রেমীরা যে কি করতে পারে তা একজন সচেতন মানুষ হিসেবে চিন্তা করলে অনুভূতি কোন অংশে সুখকর তো হবেই না বরং হৃদস্পন্দন বেড়ে ওপারের লাইন ধরার অবস্থাও হতে পারে।

মফস্বল থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত অঢেল সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জটলা ! প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতা করতে হলে যোগ্যতা নিরূপণের মাপকাঠিই বা কি এর উত্তর চাওয়ার ও পাওয়ার কোন সুযোগ আপাতত আমাদের দেশে নেই। স্থানীয় পর্যায়ে লক্ষ্য করলে সংবাদকর্মী হিসেবে আপনার আশেপাশে এমন কাউকে যদি পেয়ে যান, যিনি কি না প্রতিদিন ভোরে একটি পরিচয় পত্র ও ধ্বজভঙ্গ ক্যামেরা নিয়ে বের হন আর ঘরে ফিরেন মুঠোয় মুঠোয় অর্থ ভর্তি পকেটে তবে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই । প্রকৃত সাংবাদিকতা করতে অনেক প্রকার যোগ্যতা লাগে, নৈতিকতা লাগে কিন্তু সাংবাদিকতার নামে সমাজে বসবাসকারী মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিকদের চরিত্র হননের জন্য প্রতিদিন মেধা কে কুপথে খাটাতে অতিরিক্ত কোন যোগ্যতাই লাগে না। উপরন্তু একে পুঁজি করে প্রচলিত যত প্রকারের অপরাধ আছে তার সব প্রকারেই অবাধে বিচরণ করা যায় এবং সাথে হাদিয়া/দক্ষিনা তো থাকেই।

আর এভাবেই উত্থান তথ্য সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের। এদের একেক জনের রয়েছে একেক রকম কলুষিত ইতিহাস যা কোনদিনই তাঁদের বিবেক কে নাড়া দেয় না। সত্য সংবাদ ও ঘটনার পাশাপাশি কেউ কেউ অনেক বানোয়াট, অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত, দেশের স্বার্থ বিরোধী প্রচার ও প্রকাশ করে যাচ্ছে কোন নিয়ম নীতির, নৈতিকতার তোয়াক্কা না করেই। এ ধরণের সাংবাদিকতা কে এক বাক্যে বলে হলুদ সাংবাদিকতা বা Yellow Journalism. সাংবাদিকতার অন্তরালে এসব তথ্য সন্ত্রাসের জন্মদাতারা ক্রমেই বিষিয়ে তুলছে সমাজ ও সমাজে বসবাসকারি মানুষজনদের প্রাত্যাহিক জীবন কে। অনেক ভুক্তভোগীই আছেন যারা পরবর্তী অধ্যায়ের কথা বিবেচনা করে প্রতিবাদের পথে না গিয়ে এদের হাতে গুঁজে দেন নগদ কিছু অর্থ যা কি না এদের প্রত্যাশা কে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। এর ভুক্তভোগী হয়ে অনেকে আবার আত্নহননের পথও বেছে নেন কখনো বা, তাই এদের কে আমি অপসাংবাদিক কিংবা হলুদ সাংবাদিক বলতে একেবারেই নারাজ। এক বাক্য এরা তথ্য সন্ত্রাসী যাঁদের হাতে নিরাপদ নয় এই দেশ,সমাজ,ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান কিংবা আগত ভবিষ্যৎ।

তবে কোনভাবেই অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, আমাদের দেশের অনেক গুণী, প্রথিতযশা সুশীল সাংবাদিক আছেন। তাঁরা শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাত্র। তাঁদের লেখনীতে ঢেউ উঠতো সমাজের বৃহৎ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে আর এই তথ্য সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে নিষ্পেষিত হচ্ছে সমাজের অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশিত সকল সংবাদপত্র সমূহ মাননীয় জেলা প্রশাসকের দপ্তরের অধিভুক্ত, তাই তাকেই চিহ্নিত করতে হবে তার দপ্তর থেকে সংবাদ প্রকাশের অনুমোদন নিয়ে কে প্রকৃত সাংবাদিকতা করছে আর কে বা কারা মূর্তিমান তথ্য সন্ত্রাসী হয়ে অবাধে অপরাধ জগতে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে এবং প্রকাশ্যে সমাজের সর্বনাশ করে বেড়াচ্ছে। এই তথ্য সন্ত্রাসের আগ্রাসন ঠেকানো না গেলে এর খেসারত সমাজ কি দিয়ে দিবে তা হয়তো কল্পনাতীত সকলের কাছে।