ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বরিশাল নিবাসী ৭১’র রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন আদর্শ শিক্ষক জিন্নাত আলী কে নির্মমভাবে চলে যেতে হল বখাটেদের ছুরিকাঘাতে। যে মানুষটি এ দেশ মাতৃকার টানে ১৯৭১ এ মৃত্যুকে পাছে ফেলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মাতৃভূমির স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব এবং সর্বোপরি দেশের সম্ভ্রম রক্ষায়, সেই বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাকে জীবনের চেয়েও প্রিয় এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হল শুধুমাত্র তার কলেজে পড়ুয়া মেয়েকে উত্যক্তকারী বখাটেদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে। বরিশালের শিক্ষক-শিক্ষিকা,শিক্ষার্থী ও এলাকার সাধারন জনগনের কাছে খুবই প্রিয় ব্যাক্তি ছিলেন শিক্ষক জিন্নাত আলী তা তিনি নিহত হওয়ার পরে জানাজা নামাজে হাজার হাজার সাধারন জনগণের উপস্থিতি এবং প্রতিবাদী জনতার সংখ্যা দেখেই বুঝা যায়। পারিবারিক জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন শিক্ষক জিন্নাত আলী। বেশ কিছুদিন ধরেই ছোট মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল কিছু বখাটে যুবক, প্রতিবাদে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি দায়েরও করেছিলেন কিন্তু কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই বখাটেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ২৫শে নভেম্বর রাতে বখাটেদের ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি এবং অবশেষে ঢলে পড়েন মৃত্যুর হিমশীতল কোলে। সমাজের প্রতিটি মানুষ থেকে শুরু করে স্বয়ং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরনও এই ন্যাকারজনক ঘটনার প্রতি তীব্র ঘৃণা ও কঠোর প্রতিবাদ করেছেন এবং ক্ষমতাসীন দলের মেয়র হয়েও সাধারন জনতা,শিক্ষক-শিক্ষিকা,শিক্ষার্থী,এলাকাবাসীর সাথে একত্বতা প্রকাশ করে এর বিচারের দাবীতে রাস্তায় মানব বন্ধনে সকলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছেন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, সবগুলো জাতীয় পত্রিকায় এ ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে, অনেক গুলো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরেও প্রকাশিত হয় এই খবর টি কিন্তু দেশের (মূক,বধির,প্রতিবন্ধী) মানবাধিকার কমিশন, কোন মানবাধিকার সংস্থা বা কথিত সুশীল সমাজ এই মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে কোন কর্মকাণ্ড তো দূরের কথা তাদের মুখ দিয়েই কিছু বলতে পারেনি। হায়রে মানবাধিকার কমিশন, মানবাধিকার সংস্থা এবং কথিত সুশীল সমাজ….!!! যখন একজন দুর্ধর্ষ খুনি, সন্ত্রাসী, ডাকাত কিংবা অবৈধ অস্রধারী ক্রসফায়ার বা বন্দুক যুদ্ধে মারা যায় ঠিক তার পরেই দেখা যায় মানবাধিকার কমিশন,দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং কথিত সুশীল সমাজ মানবাধিকারের আওয়াজ তুলে সভা-সমাবেশ,সংবাদ সম্মেলন আর কতো কি করে কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কে বখাটেরা নির্মমভাবে হত্যা করল অথচ এ ব্যাপারে তারা সবাই নীরব ভূমিকায়।

এসব দেখে মনে হয় এই মানবাধিকার কমিশন,দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বা কথিত সুশীল সমাজের একমাত্র ধ্যান- জ্ঞ্যান হল অপরাধী/সন্ত্রাসীর মানবাধিকার রক্ষা করা আর অপরাধী/সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যদি রাষ্ট্রের কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন ব্যাবস্থা নেয় তবে মানবাধিকার গেল গেল বলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা রাষ্ট্রের সমালোচনা করা। তাই যদি না হয় তাহলে ” এখন কোথায় মানবাধিকার কমিশন…???বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা…??? এবং দেশের প্রতিবন্ধী সুশীল সমাজ…???”

বরিশালে বখাটেদের ছুরির আঘাতে নিহত মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক জিন্নাত আলী।