ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার যে রক্তিম সূর্যটি অস্তমিত হয়েছিলো তা আবার বাংলার পূর্বাআকাশে বিজয়ের বেশে উদিত হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর পূর্বে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে প্রিয় মাতৃভাষার দাবীতে,মাতৃভূমিকে স্বাধীন-সার্বভৌম করতে,মুক্তির স্বাদ নিতে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ নামক দেশের একটি পতাকা ও মানচিত্রের জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে,বাংলার অগনিত মা-বোন দের ইজ্জতের বিনিময়ে মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক জনতা বিজয়ের সূর্যটিকে ছিনিয়ে এনেছিল শত্রুর কবল থেকে দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের পর। ১৯৭১ এর অনেক পরে জন্ম আমার কিন্তু বাবা-মা’র মুখে শুনে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছি বা অনুভব করতে পেরেছি তা কোন ভাষা দিয়ে প্রকাশ করতে পারবো না এটা শুধুই অনুভবযোগ্য।

কতখানি দেশপ্রেম,কঠোর মনোবল,একতা,পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস,কঠোর অধ্যাবসায় ও লক্ষ্যে অটুট থাকলে এমন একটি পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে স্বাধীনতাকে অর্জন করা যায় তা মাপার মতো কোন মাপকাঠি এখন পর্যন্ত তৈরি হয় নি আর ভবিষ্যতেও হবে না। সব কিছু ভুলে গিয়ে বাংলার মুক্তিকামী জনতার দুচোখে একটি স্বপ্নই ছিল তা হল স্বাধীন বাংলাদেশ। আর স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লাখো জনতা যখন দেশরক্ষার যুদ্ধে ব্যাস্ত ঠিক তখনই দেখা গেল দেশের কিছু লোভী বিপথগামী হতভাগারা হাত মেলালো দুশমনদের সাথে এবং হত্যা করল সাধারন জনগণকে ও যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের। লুটপাট,অগ্নিসংযোগ,নারী ধর্ষণ কোন কিছুই বাদ দেয় নি তারা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের কয়েকদিন আগে শত্রুর সাথে যুক্ত হয়ে হত্যা করল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। পরবর্তীতে এরাই রাজাকার,আলবদর,আলশামস নামে আখ্যায়িত হয়।

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন বা নেতৃত্বদান করেছিলেন পরবর্তীতে তাদেরই গঠন করে যাওয়া দলগুলো অনেকবার সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে ঠিকই কিন্তু ৭১’এ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেনি। কেন পারে নি? এর জবাব তাদের কাছেই আছে,জনগনের কাছে নেই। অবশেষে ৩৯ বছর পরে শুরু হলো তাদের বিচারের কাজ। কে বা কোন সরকার শুরু করলো সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা এতদিন পরে হলেও ৭১’এ মানবতাবিরোধী,খুনি,নারী ধর্ষণকারী রাজাকারদের বিচার যে শুরু হয়েছে তার প্রতি সমর্থন জানানো ও বিচারিক কাজে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এদের বিচার কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে বিভক্ত করে ফেলেছে। এদের কে বাঁচাতে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি বেশ উঠেপড়ে লেগেছে, অথচ সে দলের প্রতিষ্ঠাতা একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন;শুধু তায়ই নয় মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টর এর মধ্যে একটির সেক্টর কমান্ডারও ছিলেন। আজ তারই প্রতিষ্ঠিত দলের কর্তা ব্যক্তিরা স্বাধীন বাংলাদেশে থেকে প্রকাশ্য এই বিচার বন্ধের দাবী জানায়। রাজনৈতিক স্বার্থ যে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় নয়, এ কথাটি বুঝতে আর কত সময় লাগবে এই বিভ্রান্ত রাজনীতিবিদদের?

সামনে তাকালে শুধু দেখতে পাই রাত্রির ঘন অন্ধকার আর অন্ধকার। রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী???