ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

১৮ই ডিসেম্বর’১১ রবিবার কর্মব্যাস্ত লোকজন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কেউ তার কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কেউবা সন্তান কে নিয়ে স্কুল কলেজ এ যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দেশের সবার মধ্যেই একটা আনন্দের ভাব ছিল কারন ২ দিন আগেই জাতি পালন করল বিজয়ের ৪০ বছর। সকল সম্ভবনাকে মাটি করে দিতে,বিজয়ের আনন্দকে ধুলিস্যাত করতে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে একদল হায়েনা যে সারা বাংলায় হামলে পড়বে অন্তত বিজয়ের মাসে মুক্তমনা স্বাধীন বাঙালী জাতি তা হয়তো কখনো কল্পনাও করেনি। কিন্তু সকল কল্পনা-জল্পনা কে মিথ্যা করে যারা বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে নি তারা ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রথমে রাজধানিবাসীর উপর এবং ক্রমেই সুপরিকল্পিত ভাবে ছড়িয়ে গেল দেশের প্রধান শহরগুলোতে দেশকে অস্থিতিশীল করার এক ঘৃণ্য প্রয়াসে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ পুরোমাত্রায় শুরু হয়েছে,৭১ এ মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য রাজাকার বাহিনীর প্রধান গোলাম আযম কে গ্রেফতারের পূর্বলগ্নে সাধারন মানুষের উপর খুব ভোরে অতর্কিত চোরাগোপ্তা হামলা,বোমাবাজি,অগ্নিসংযোগ,মানুষ হত্যা সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ধারাবাহিক একের পর এক অতর্কিত হামলা সেই ৭১এ ২৬শে মার্চ কালো রাত্রিতে বাঙালির উপর হানাদার বাহিনীর ঝাঁপিয়ে পড়ার সাথে যথেষ্ট সাদৃশ্যপূর্ণ।

মানবতা বিরোধীদের বিচার কাজকে নস্যাৎ করতে ঐ শকুন-শেয়ালের দল প্রতি মুহূর্তে ওত পেতে আছে সুযোগের সন্ধানে। সুযোগ পেলে যে ওরা আবারও ঝাঁপিয়ে পড়বে তারই ইঙ্গিত প্রদান করে (১৮/১২/২০১১) খুব সকালে ঘটে যাওয়া ঘটনা। সরকার যদি অবিলম্বে এই মানবতা বিরোধী বিচারের যারা বিরোধী তাদের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ নজর না দেয় ও কঠোর না হয় এবং সাথে দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যদি আরও বৃদ্ধি না করে, তবে সাধারন মানুষের মনে একটি প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খাবে তা হল ” বিজয়ের ৪১ বছরের প্রথম প্রহরে আমরা কি ১৯৭১ এর মতো আরেকটি ২৬শে মার্চের দ্বারপ্রান্তে???”