ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৯৯৬ সাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালিত নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলো বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এদেশের প্রেক্ষাপটে প্রথম থেকেই তাদের চলার পথটা অনেকটাই কঠিন। এর অন্যতম কারন হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শতভাগ না হলেও ৮৫% ভূমিকা রেখেছিল আর ধর্মভিত্তিক প্রধান যে রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশে বিদ্যমান সেটি হল জামায়ত যাদের হর্তা কর্তারা ১৯৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন প্রকাশ্যে এই ভূখণ্ডে থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে এবং নির্বিচারে সকল অপকর্মই করেছে। যখনই তাদের কোন না কোনভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে তারা ঢাল হিসেবে বেঁছে নিয়েছে শান্তির ধর্ম,মানবতার ধর্ম,আদর্শের ধর্ম ইসলামকে। মানুষের সামনে অপব্যাখ্যা করেছে পবিত্র কোরআনের আয়াতকে, তার একটি বড় উদাহরন হল “জিহাদ” যা তারা মুসলমান হয়ে অন্য মুসলমানকে ঘায়েলের জন্য সচরাচর ব্যাবহার করে থাকে। ইসলামে মহান সৃষ্টিকর্তা বলেছেন সবচেয়ে বড় জিহাদ হল নিজের মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যখন শয়তান মানুষকে ধোঁকায় ফেলার চেষ্টা করে। এরকম আরও অনেক ব্যাপার আছে যা তারা ক্রমাগত অপব্যাখ্যা করেই যাচ্ছে। জাতি হিসেবে আমরা অন্য যে কোন জাতির চেয়ে অনেক বেশী ধর্মভীরু আর এই ধর্মভীরুতাকেই তারা কাজে লাগিয়েছে অত্যন্ত সুক্ষভাবে।

১৯৯৬-২০০১ সালের মধ্যে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এমন অনেক কিছুই(ধর্মের সাথে অসামঞ্জস্য) হয়েছে যা তারা অবহেলাবশত উপেক্ষা করে গেছে। আর সেগুলোই তারা যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করল ৫ বছর পরে ঠিক তখনই তা পোষ্টার,লিফলেট,ভিডিও চিত্র আকারে ছড়িয়ে গেল সমগ্র দেশব্যাপী। অথচ ক্ষমতাই থাকাকালীন যদি তাদের সরকারের কেউ না কেউ এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিত তবে পরবর্তীতে এর দায়ভার তাদের আর বহন করতে হতো না। ঠিক ১১ বছর পর অনেক কাটখর পেরিয়ে যখনই তারা ঐ সব ধর্মের অপব্যাখ্যাকারিদের/যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার কাজ শুরু করল ঠিক তখনই দেশব্যাপী শুরু হয়েছে এমন কিছু কাজ যা শতভাগই ইসলাম ধর্মের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠানে কর্তৃপক্ষ এক কথায় নবী করীম(সাঃ) এর সুন্নাহ কে ব্যাপকভাবে হেয় করার একটি ধৃষ্টতা দেখায়। জি.এম.জি বিমান কর্তৃপক্ষ গতকাল বিমানে ‘ইনশাল্লাহ’ এবং ‘যাত্রা শুরুর দোয়ার’ বিপক্ষে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে,একইসাথে তাদের এক বিমানবালাকে ‘ইনশাল্লাহ’ বলায় কারন দর্শাতে নির্দেশ দেয়। আর এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যাক্তিরা ক্ষমতাসীন দলেরই উপর মহলের লোকজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা এখন পর্যন্ত কেউই এ ব্যাপারগুলোতে দুঃখপ্রকাশ করে তাদের নিজ নিজ অবস্থান পরিষ্কার করতে পারে নি।

ক্ষমতাসীন দল যদি পূর্বের মতো এবারও এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে নিতান্ত অবহেলার সাথে উপেক্ষা করতেই থাকে তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বা ধর্মের অপব্যাখ্যাকারিদের বিরুদ্ধে বিচার কাজ কতখানি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে সে বিষয়ে ব্যাপক সন্দেহ আছে। আর ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সেই অশুভ আত্মারা যে তাদের ভোটের ভাণ্ডার শূন্য করে দিতে পারে সে কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।