ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রায় ১৫ কোটি জনগণের দেশ এই বাংলাদেশ। আমাদের দেশে আদালতগুলোতে একটি সমীক্ষা চালালে দেখা যাবে মানুষের চেয়ে ঘটনা বেশী। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি আদালতগুলোতে অধিকাংশই দেওয়ানী মামলা ঝুলে আছে বছরের পর বছর,যুগের পর যুগ। নানা রকম জটিলতার কারনে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হয় নি বা করা যায় নি, এর মধ্য বৃহৎ একটি কারন হল বিচারক সংকট। বিচার বিভাগ যখন রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়েছিলো তখন থেকেই একটা জোড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো যে এখন অন্তত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে কিন্তু সে আশা আশাই রয়ে গেছে।

আগে বিচারক হিসেবে যারা নিয়োগ পেতেন তাদের সকলকেই বি.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পেতে হত। কিন্তু পরবর্তীতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন হবার পর নিয়ম হল যে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারীরাই বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবে, একে নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ বললে ভুল হবে না কারন বি.সি.এস’র মাধ্যমে যারা নিয়োগ পেত তাদের অধিকাংশই আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারী ছিলেন না ফলে নিয়োগের পরে তাদের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প ছিল না আর এ জন্য বিচারিক কাজ শুরু করতে অনেক মূল্যবান সময় ব্যায় হত সাথে তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থেরও জোগান দিতে হত। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠনের মাধ্যমে এই নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রিতা যে মুহূর্তে সমাধানের পথে ছিল ঠিক সে সময়ই বিচারক নিয়োগে নতুন একটি আরপিত শর্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পূর্বের চেয়ে আরো জটিল করে ফেললো। শর্ত হিসেবে জুড়ে দিল যে আইন বিষয়ে শুধুমাত্র স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী থাকলেই চলবে না সাথে বার কাউন্সিলের নিবন্ধিত আইনজীবীও হতে হবে, মানে আইনজীবীর সনদ থাকতে হবে। কিন্তু মুখ্য সমস্যাটি হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী সনদ প্রদান পরীক্ষা প্রতি বছর দুইবার অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয় না, প্রতিটি পরীক্ষা দেখা যায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই-তিন মাস পরে হয় এবং ফলাফল প্রদান সে তো আরও এক বিলম্বিত অধ্যায়ের নাম। কি কারনে এই নিয়মটি জুড়ে দেয়া হল তা আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারী ছাত্র ছাত্রী তো দূরের কথা আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যাক্তিদের কাছেও তা বোধগম্য নয়। খুব স্বভাবতই যেখানে একজন আইন শিক্ষার্থী চার বছরব্যাপী আইন বিষয়ে পড়াশুনা করল সংগে অধিকতর যোগ্যতা হিসেবে অনেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীও অর্জন করল সেখানে তাদের বিচারক হিসেবে মূল্যায়নের জন্য এরকম একটি সুদীর্ঘ শর্ত অনেক জ্বলন্ত প্রতিভা কে নিভিয়ে দিতে পারে শুধু সময়ের কালক্ষেপণ এর জন্য।

এমতাবস্থায় প্রশ্ন আসে তাহলে নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠনের কি প্রয়োজনীয়তা ছিল? পি.এস.সি ই তো যথেষ্ট ছিল। নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগে এই অপ্রত্যাশিত জটিলতা যদি শীঘ্রই দূর না হয় তাহলে মামলা জট কমার কোন সম্ভাবনা তো থাকবেই না সাথে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বরাদ্ধ বাবদ সরকারকে প্রতি বছর অনেক বেহিসাবি হিসাবও গুনতে হবে।