ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

রাষ্ট্রের অন্যতন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলিট ফোর্স র‍্যাব এর অনেক সদস্য কে বীরত্বপূর্ণ সম্মান হিসেবে পদক প্রদান করা হল মঙ্গলবার সকালে আর রাতের মধ্যই তাদের প্রদান কৃত পদক নিয়ে মুখরোচক সমালোচনায় মেতে উঠলেন দেশে-বিদেশের তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তদের বক্তব্য হল যে সংস্থার সদস্যরা ক্রসফায়ার নামের এর সংশ্লিষ্ট তাদের কেন পুরস্কৃত করা হল। এই নিয়ে একবার আর দুইবার না শতাধিক বার তারা আঙুল তুলেছে এই এলিট ফোর্স র‍্যাব এর দিকে। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছে সেই ২০০৪ সালে যদি র‍্যাবের মতো একটি শক্তিশালী সুনিয়ন্ত্রিত বাহিনী গঠিত না হত তবে আজ দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত? সন্ত্রাসীরা,অবৈধ অস্ত্রধারীরা যেভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল তাতে যদি তখন র‍্যাব না গঠিত হত তবে অনেককেই মাসিক বেতনের পুরোটাই কোন না কোন বড় ভাই কিংবা নামকরা দাদাদের হাদিয়া স্বরূপ দিতে হত,মা তার মেয়েকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে পথের পানে চেয়ে থাকত মেয়ে বাসায় অক্ষত অবস্থায় আসবে কি না? স্ত্রী ঘরে আতংকে থাকত স্বামী অফিস বা কর্মস্থল থেকে ফিরে আসতে পারবে কি না? ইমারত নির্মাণকারী মালিকরা অপেক্ষার প্রহর গুনত বড় ভাই বা দাদাদের কত শতাংশ হাদিয়া দিতে হবে? ভাই তার আপন বোনকে নিয়ে বের হতে পারতো না কারন বড় ভাই বা দাদারা না আবার বোনকে দেখে দিওয়ানা হয়ে পরিবারের সবাইকে পরকালে পাঠিয়ে দেয়? এমন আরও অনেক কিছুই হত কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদের প্রধান সমস্যা হল সবকিছু আমরা খুব দ্রুতই ভুলে যাই আর অতি আবেগপ্রবন হয়ে বাস্তবের চেয়ে হুজুগে লাফাই বেশী। খুব বেশী দিন আগের কথা নয়, আমাদের গর্ব সুন্দরবনে যেভাবে জলদস্যুরা রাজত্ব কায়েম করেছিলো তাতে জেলে,মৌয়াল থেকে শুরু করে পর্যটকরা পর্যন্ত এত সুন্দর এবং প্রাকৃতিক মূল্যবান সম্পদে ভরা সুন্দরবনে যেতে ভয় পেত আর কেউ গেলেও জীবনের বাজী রেখে যেত; সেই পরিস্থিতিতে একমাত্র র‍্যাব এর নেতৃত্বে পুলিশ,কোস্ট গার্ড সদস্যদের সহযোগিতায় “অপারেশন সুন্দরবন” নামে শক্তিশালী অভিযান চলল দুই দুই বার। বর্তমানে সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকা শতকরা ৮০ভাগ জলদস্যুমুক্ত। সেই সঙ্গে দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জলদস্যু,মাদক ব্যাবসায়ি,ডাকাত নির্মূলে র‍্যাব যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে তা এক বাক্য স্বীকার করা উচিত যদি মানুষ হয়ে থাকি। চরমপন্থি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পুলিশের সদস্যরাই একসময়ে চাকরী করতে অনিহা প্রকাশ করত আর আজ সে সব এলাকা শান্তির জনপদে পরিণত হবার কৃতিত্ব একমাত্র র‍্যাবের সাথে পুলিশের বেশ কিছু সাহসী চৌকস সদস্যদেরও। দেশে যখন ভয়াবহ জঙ্গি তৎপরতার ডানা বিস্তৃত হয়েছিলো, একযোগে ৬১ জেলা যখন বোমার শব্দে কেঁপে উঠল তখন কিন্তু র‍্যাব ই শক্ত হাতে তা প্রতিহত করে আমাদের জান-মাল রক্ষা করেছিলো; সেদিন তো কোন মানবাধিকার সংস্থার কাউকে বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় নি। দেশের উত্তরবঙ্গ যখন বাংলা ভাই নামক দানবের কবলে পরে দিনে দুপুরে মানুষকে হত্যা করে উল্টোভাবে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হত তা বন্ধের জন্য এই তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থাগুলো কি করতে পেরেছিল? কিন্তু র‍্যাব-পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় আজ উত্তরবঙ্গে বাংলা ভাই বা ইংরেজ ভাই বা উর্দু ভাই নামে কোন দানব তো অন্তত নেই। উল্টো তখন মানবাধিকার সংস্থাগুলো দেশের বাইরে বাংলাদেশকে মৌলবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত করে দিয়েছিলো।

স্বাধীন ও মুক্ত মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান আমাদের দিয়েছে কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে কারো এমন কোন মতামত প্রকাশ করা নৈতিকভাবে উচিত নয় যাতে সরকার ও সরকারের কোন নিয়ন্ত্রিত সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। যারা মানবাধিকারের নামে এত চিল্লায় তাদের তো কোনদিন শীতকালে অসহায়দের জন্য গরম কাপড়ের ব্যাবস্থা করতে দেখিনি কিংবা কোন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দুর্গত এলাকায় ত্রান বিতরন করতে দেখিনি। দেখিনি, সরকারি অনুদান যখন গ্রহণ করে তা থেকে গরীব দুঃখী মানুষের জন্য কিছু ব্যায় করতে। শুধু দেখেছি সভা-সেমিনারে আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে মানবাধিকার মানবাধিকার বলে গলা ফাটিয়ে সমালচনা করতে। দেখেছি সন্ত্রাসী-অস্রধারিদের পক্ষে মানবাধিকার রক্ষার নামে প্রকাশ্য পক্ষ নিতে। এই তথাকথিত দেশে-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড আমার মতো সাধারন মানুষদের জান-মালের উপর বড় ধরনের হুমকি বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান। সন্ত্রাসীদের বাঁচানোই কি তাদের ধর্ম ও কর্ম…???

প্রকৃতি কখনোই মানুষের মত দীর্ঘদিন অন্যায় অবিচার সহ্য করে না আর এ ক্ষেত্রেও যে করবে না তা প্রায় নিশ্চিত,শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। কোন তৎপরতাই র‍্যাব ও পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

আজ এই তথাকথিত দেশে-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোজবাব চায় ভয়ংকর সব অপরাধ দমনের স্বীকৃতি স্বরূপ কেন র‍্যাব ও পুলিশকে পুরস্কৃত করা হল???…..সেলুকাস ইহা সত্যিই সেলুকাস…. আর দুর্ভাগ্য আমার মতো সাধারন জনগণের যাদের গাড়ির সামনে পেছনে নিরাপত্তা প্রটোকল নেই।।