ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের তালিকায় শীর্ষে আছে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। তারা তাদের বিজ্ঞাপনে দাবী করে, তারা নাকি এদেশের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে তুলনামূলক কম খরচে শিক্ষা প্রদানের চটকদার বিজ্ঞাপনে যে কেউ বিভ্রান্ত হয়ে ভর্তি হতে পারে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। আর এমন কোন বিষয় নেই যে বিষয়ে তারা স্নাতক,স্নাতকোত্তর এমনকি পি.এইচ.ডি ডিগ্রী পর্যন্ত প্রদানে সক্ষম নয়। দেশজুড়ে তাদের যে কতগুলো শাখা, উপশাখা-প্রশাখা রয়েছে তা একমাত্র রাব্বুল আলামিন ই ভাল জানেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একটি কিন্তু উপাচার্য আছেন চার থেকে ছয় জন পর্যন্ত, এবং এই উপাচার্যরাই আলাদা আলাদা ভাবে একই প্রতিষ্ঠানের নামে দিচ্ছেন তাদের স্বাক্ষরিত সনদ। সনদ প্রদানে নিয়মনীতির কোন বালাই নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের, একেকটি ক্যাম্পাসের প্রদান করা সনদ একেক চেহারার। বাংলাদেশের উপজেলায়ও তাদের ক্যাম্পাস আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপার তা হল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক যে কে তা যেমন সাধারন জনগন জানে না, তেমনি সরকারের বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছেও অজানা। সরকার একবার তাদের কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নিলেও মহামান্য হাইকোর্টের অস্থায়ী আদেশ নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারনার কার্যক্রম। তাদের ট্রাস্টি বোর্ডের নাম ভাঙিয়ে চার জন ব্যাক্তি চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মালিক দাবী করে গড়ে তুলেছেন একই নামে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় যাদের প্রধান শাখা বলে আদৌ কিছুই নেই।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক পক্ষের এ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে। কিন্তু এত লঘু গতিতে ব্যাবস্থা নিতে গিয়ে যে হাজার হাজার সহজ সরল শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চিরকালের জন্য শেষ হয়ে যেতে পারে সে ব্যাপারেও সরকারের সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। এমন একটি অবস্থা বিরাজ করছে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে যে এই স্বঘোষিত উপাচার্যরা ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী তাই সাধারন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বারবার তাদের দিকে অভিযোগের অঙ্গুলি তুললেও তাদের রক্তরাঙা চক্ষু দেখে অসহায়ভাবে আঙ্গুলি নামাতে বাধ্য হচ্ছে।

সরকার বছরের পর বছর ধরে ব্যাবস্থা নেব, নিচ্ছি, নেওয়া হবে একথা বলে অদৃশ্য কোন কারনে আজ পর্যন্ত সামান্য কোন ব্যাবস্থাও নিতে পারে নি এই সনদবাজ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে, উল্টো এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই তাদের প্রতারনার বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে লাগামহীন ভাবে।

এসব দেখে অতৃপ্ত মন উদ্বেগ ভরা কণ্ঠে জানতে চায় “ দারুল ইহসান, তুমি কার…???”