ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

সকল জল্পনা-কল্পনাকে পেছনে ফেলে অবশেষে স্বাধীনতার ৪০টি বছর পর হলেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হল ৭১’এ স্বাধীনতাযুদ্ধ বিরোধী পথভ্রষ্ট দলের কাণ্ডারি গোলাম আযম কে। নিঃসন্দেহে সমগ্র বাঙালী জাতির জন্য এটি একটি শুভ সংবাদ। বুধবার সকালে ঠিক পাঁচ বছর পর আরেকটি ওয়ান ইলেভেন এ এসে জামিন আবেদন করতে হাজির হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে আইনের হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেয় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই ব্যাক্তিকে। এক ওয়ান ইলেভেন এ দেখেছি দেশের তীব্র সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশের জনসাধারনের একটা বৃহৎ অংশ ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিল তৎকালীন সময়ে গঠিত অস্থায়ী সরকারকে সাথে এটাও দেখেছি কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার তীব্র সমালোচনায় মেতে উঠতে সেই সরকারের বিরুদ্ধে; আর ১-১২ তে এসেও সেই চিত্রটিই আবার দেখলাম যখন গোলাম আযম গ্রেফতার হল। যুদ্ধাপরাধের দায়ে গোলাম আযম কে গ্রেফতারের জন্য জনগন এতদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আসছিল কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার পর পরই সমালোচনায় সরব হয়ে উঠল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকজন ফেসবুক, ব্লগ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে, (উল্লেখ্য যে এদের সংখ্যা দেখে কিছুতেই বলা যাবে না যে কিছু লোকজন)। তাদের সবার কথাই হল আওয়ামী লীগ গোলাম আযম কে গ্রেফতার করেছে। তাদের বেশীরভাগ মতামতেই দেখা গেছে গোলাম আযমের গ্রেফতারের বিষয় বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে। আর আওয়ামী লীগের প্রতি বিদ্বেষের নেপথ্যের প্রধান কারণটি হল জামায়ত এখনও বিরোধী দলের চার দলীয় জোটের এক জোট।

তাই সরকার বিদ্বেষীরা ” দেশের কথা ভুলে গিয়ে, স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা ভুলে গিয়ে, লাখো শহীদের রক্তের কথা ভুলে গিয়ে, আমার দেশের মা-বোনের হারানো ইজ্জতের কথা ভুলে গিয়ে নিজ নিজ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গোলাম আযম ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কে সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার যুদ্ধে মেতে উঠলেন।” তারা সবাই ভুলতে বসেছেন দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ আগে,ব্যাক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ আগে। আজ যারা সমালোচনায় মুখর তারা নিজেরাও ভালো করে জানেন গোলাম আযম কে আর কি তার ইতিহাস? কিন্তু তাদের এলার্জির মুল বিষয় হল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল আর তারা বিরোধী দল, তাই যে করেই হোক বা যা নিয়েই হোক সরকারের কাজের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতেই হবে।

আসলে নাগরিক হিসেবে আমরা যে কি চাই তা আমরা নিজেরাও জানি না। কোনমতে একটি কাজ যদি নিজের মতের বিরুদ্ধে হয় বা নিজ দলীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে হয় তবে কোন ছাড় নেই তা সঠিক হোক আর বেঠিক হোক, স্বার্থ বলে কথা !

নিজ স্বার্থ নিয়ে এমন মাতামাতি দেখে যেমনি অবাক এই পৃথিবী তেমনই বিস্মিত বাংলাদেশ !!!