ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সময় পেড়িয়ে যাবে সাথে এক একটি প্রজন্মও বার্ধক্যের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে অবসরের পথ খুঁজবে। আর শূন্যস্থানগুলো পূরণ করবে আমাদের অনুজরা। কিন্তু যে প্রজন্ম বেড়ে উঠছে তার তো সঠিক ও মানসম্মত পরিচর্যা দরকার, আর এই কাজটি নিখুঁতভাবে একমাত্র তাদের বাবা-মা ভালো করতে পারেন এতে কোন সন্দেহ নেই। তবুও এই ব্যাস্ততার যুগে কর্মব্যাস্ত পিতা-মাতা’রা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না, ফলে দেখা যায় পরিবারের কাউকে না কাউকে শিশুটির দেখাশুনা করতে হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে যখন শিশুটি বেড়ে উঠে/বুঝতে শিখে তখন তার দুরন্তপনা রুখতে তাকে নানা প্রকার ভুত-প্রেত,জুজু,ডাইনী ইত্যাদি ধরনের অবাস্তব জিনিসের ভয় দেখানো হয় যা ক্রমাগত শিশুটির সুস্থ্য মানসিকতার উপর একটি অসুস্থ্য প্রভাব তৈরি করে। কিন্তু যখন একটি শিশুকে এসবের পাশাপাশি পুলিশেরও ভয় দেখানো হয় তখন থেকেই কিন্তু শিশুটি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে ভুত-প্রেত বা তার চেয়েও ভয়ংকর ধরনের কিছু একটার সমতুল্য মনে ধারন করতে থাকে যা আসলে আমাদের বেড়ে ওঠা নবপ্রজন্মের জন্য খুব বেশিই ক্ষতিকর।

নবপ্রজন্মের মনে যদি প্রথম থেকেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর একটি বিরূপ ধারনা থাকে তবে তারা বড় হয়ে এই পেশায় তো আসতে চাইবেই না বরঞ্চ দেখা যাবে কোন সমস্যায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য না নিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেবার মতো ভয়ংকর কাজটিও করে বসতে পারে শুধুমাত্র প্রাথমিক বিরূপ ধারনার কারনে; আর এমনটা হলে তা অবশ্যই আমাদের ভবিষ্যতের জন্য দুঃখজনক একটা প্রতীক্ষা মাত্র।

আর তাই শিশুদের/নবপ্রজন্মকে অন্যান্য শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি এই শিক্ষাটিও নিশ্চিত করতে হবে যে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তথাকথিত ভুত-প্রেত প্রকৃতির কিছু নয়। তারা আমাদেরই সহযোগী একটি হাতের মতোই প্রয়োজনীয়,তারা সর্বদা আমাদেরই নিরাপত্তায় নিয়োজিত। আজ আমরা যদি ওদের সুন্দর ও স্বাভাবিক ভবিষ্যতের স্বার্থে এ জিনিসটি নিশ্চিত করতে না পারি তবে এ থেকে উদ্ভূত যে কোন অনাকাংখিত পরিস্থিতির দ্বায় আমাদের উপরই বর্তাবে, অবশ্য ততদিন আমরা বেঁচে থাকতে নাও পারি।

বেঁচে থাকি বা না থাকি,আমাদের নবপ্রজন্ম যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপর কোন বিরূপ বা না-বোধক ধারনা পোষণ না করে সেটাও নবপ্রজন্মের বেড়ে উঠার পথে যত চাওয়া আছে তার সাথে এটাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি চাওয়া।