ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আচমকা কোথায় নিখোঁজ হলেন বি.এন.পি তথা প্রধান বিরোধী দলের সিলেট বিভাগের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা ইলিয়াস আলী। শুরু হল ব্যাপক খোঁজাখুঁজি। খোঁজাখুঁজির প্রথম স্তরে ইলিয়াস আলী’র পরিবারের লোকজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারন ডায়েরি দায়ের করেন এবং পরে তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বজনহারানোর বেদনা বোঝেন। তাই তার কাছে বিনীত নিবেদন, তিনি যেন আমার স্বামীর দ্রুত খোঁজ দেন। সরকার চাইলে যে কোনো মুহূর্তে নিখোঁজ মানুষের সন্ধান দিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।” একজন মানুষের সাথে যখন স্বামী/স্ত্রী/প্রিয়জন হারিয়ে যাবার মতো ঘটনা ঘটে তার চেয়ে বেদনাময় জগতে আর কিছু থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না। ঠিক তেমনি এখানে জনাব ইলিয়াস আলী’র স্ত্রী’র মনে কতখানি দুঃখ-হতাশা বিরাজ করছে আমরা তা বুঝলেও কোনদিনই তা অনুভব করতে পারব না, কারন যার যায় তিনিই বোঝেন হারানোর কি ব্যাথা?

এত বড় ব্যাথার বোঝা বুকে নিয়েও তিনি বা তার পরিবারের কেউ একবারও বলেন নি যে সরকার বা সরকারের কোন সংস্থা ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে। যদি বলতেনও তা অস্বাভাবিক কিছুই নয় কারন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ এমন একটা দুঃসময়ে এমন কথা বলতেই পারেন বরঞ্চ তারা তা না করে ধৈর্যের সহিত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

কিন্তু আজ বিকেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোনপ্রকার উপযুক্ত তথ্য প্রমান ছাড়াই বললেন, “র‌্যাবের লোকেরা ইলিয়াস আলীকে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে একটার মধ্যে তুলে নিয়ে গেছে” এবং অবিলম্বে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

বিএনপির চেয়ারপারসন কে বরাবরই দেখেছি কোন একটা সমস্যা হলে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান ছাড়াই তার সন্দেহের তীর চলে যায় র‍্যাব,পুলিশ সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে। এক কথায় বলে ফেলেন র‍্যাব-পুলিশই এজন্য দায়ী। তাই এক্ষেত্রেও তার একই কথার ব্যাতিক্রম ঘটে নি। রাষ্ট্রের প্রধান বিরোধী দলের প্রধান হয়েও যদি তিনি বারবার এমন বেফাস কথা বলতেই থাকেন তবে তা কোনদিনই রাষ্ট্র তথা আমাদের সাধারন জনগনের জন্য মঙ্গলময় নয় কারন তিনি রাষ্ট্রের ভি.ভি.আই.পি সমমর্যাদার একজন ব্যাক্তি এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের প্রধান হলেও হতে পারেন। আর তাই তিনি যদি অনবরত এভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলতেই থাকেন তাহলে আমাদের মতো সাধারন মানুষ যদি তাকে সম্বোধন করে বলে ফেলে “মায়ের চেয়ে মাসি’র দরদ বেশী” তবে তিনি নিশ্চয়ই কষ্ট পাবেন না। যারা অন্যের কষ্ট কে পুঁজি করে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের তৎপরতায় সর্বদা ব্যাস্ত তাদের উদ্দেশ্যে এক কথায়ই বলা যায় আসলেই মায়ের চেয়ে মাসি’র দরদ বেশী।