ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশী মামলার ক্ষেত্রে গ্রেফতারের আগে জামিনের বিষয়টির বেশ প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। যখন কোন ব্যাক্তির নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয় এবং সে ব্যাক্তি গ্রেফতার এড়াতে আগাম জামিন চাইতে পারেন ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর [ধারা ৪৯৮] এর অধীনে। সাধারনত দায়রা আদালতের বিচার্য মামলায় গ্রেফতারের আগে আসামী আত্মসমর্পন করে থাকে। আবার আসামীর বিরুদ্ধে দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলাকালে তদন্তের পূর্বে আসামী যদি কোন কারনে মনে করেন যে, নিম্ন আদালতে হাজির হওয়া বিপদজনক বা মানসম্মানের বিষয় তখন আসামী সরাসরি গ্রেফতারের আগে হাইকোর্টে হাজির হয়ে আগাম জামিন এর আবেদন করতে পারেন।

বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আগাম জামিন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এই আগাম জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে বিচারকদের একটি বৃহৎ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) ৪৯৮ ধারায়। এই ধারায় একটি বাক্যকে অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আর তা হলো “হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত মামলার যথাযথ পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া যে কোন ক্ষেত্রে যে কোন ব্যাক্তিকে জামিন মঞ্জুর করিবার আদেশ দিতে পারেন।” এখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে আইন আগাম জামিনের ক্ষেত্রে আদালতকে বিবেচনা,বিচক্ষণতা,সতর্কতা অবলম্বন করে পরিস্থিতির উপর যথার্থ পর্যালোচনা,অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করার কথা বলেছে। এ ক্ষেত্রে জামিন দেয়া বা না দেয়া আরও কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে, যেমনঃ ১/কোন ব্যাক্তিকে দোষী সাব্যস্ত না করা গেলে সে নির্দোষ বলে ধরে নেয়া হবে, ২/ দোষ প্রমাণিত হলে জামিন না দেয়া,৩/বিশৃঙ্খল ব্যাক্তির দ্বারা সমাজ বা রাষ্ট্রের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তার জামিন মঞ্জুর না করা।

**এলাহবাদ হাইকোর্টের মতে, গ্রেফতার হয় নি কিংবা পুলিশ কর্তৃক আটক রাখা হয় নি বা ব্যাক্তিগতভাবে হাজির হয় নি এমন আসামি কে আগাম জামিন মঞ্জুর করা যাবে না।**

অতএব আইনের আলোকে নির্দ্বিধায় বলা যায়, আগাম জামিন পাওয়া কোন ব্যাক্তির নিরবিচ্ছিন্ন অধিকার নয় এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আদালতের বিচক্ষণতা ও বিবেচনা’র উপর এবং এ ক্ষেত্রে আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতেও বাধ্য নন।