ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানরা মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ থানায় পুলিশের কার্যক্রম নিয়মিত তত্ত্বাবধান করবেন- সরকারের নতুন এমন একটি আদেশ জাড়ি করেছে। তার মানে হলো থানার কার্যক্রম উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারীদের দিয়ে পরিচালনা করবে। যা পুলিশ বাহিনীকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক বেড়াজালে আবদ্ধ করার অভিসন্ধি বলেই প্রতীয়মান। উপজেলা চেয়ারম্যান থানার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করলে দলীয় লোকজন আইন বলে যে কিছু আছে তা কতখানি মানবে সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যেহেতু উপজেলার চেয়ারম্যানরা কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য সেহেতু তাদের অধীনে পুলিশ সদস্যরা কতখানি নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে এটা আমার চেয়ে আপনারাই ভাল বলতে পারবেন। কিন্তু এ আদেশটি বুমেরাং হওয়ার একটি সমূহ সম্ভাবনা দেখতে পারছি। এমনিতেই পুলিশের সদস্যরা সব সময়ই উপর মহল নামক একটি চাপের মধ্যে পরে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত থাকেন তার মধ্যে এই চাপ যদি ক্রমানুসারে উপর মহল থেকে নিচু মহল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয় তবে তাদের উপর দিয়ে কত মাইল বেগে যে টর্নেডো আর ঘূর্ণিঝড় যাবে তা তারাই একমাত্র অনুভব করবে আর কারোরই তা উপলদ্ধি করার উপায় নেই। পালাবদলের ক্ষমতার রাজনীতিতে আজীবনই দেখে এসেছি সবাই এই বাহিনীটিকেই বেছে নিয়েছে নিজেদের রক্ষার ঢাল হিসেবে যার নেতিবাচক ফলাফল দেশের সাধারন জনগনের উপর চরম প্রভাব ফেলে এবং আইনের সুশাসনের ক্ষেত্রেও একটি বিশাল প্রতিবন্ধকতা।

আমি একটি জিনিস বুঝি না যে পুলিশ বাহিনীকে রাজনীতির বেড়াজালে না জড়ালেই কি নয়? কিভাবে পুলিশকে কে জনগনের আরো কাছাকাছি করা যায় সে চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে এই সুশৃঙ্খল বাহিনীকে জনগনের বিপক্ষে দাঁড় করানোর এই অসংলগ্ন সিদ্ধান্ত কখনোই শুভ ফল বয়ে আনবে না তা আমি ৮৮% নিশ্চিত করে বলতে পারি। পুলিশ বাহিনীর উপর রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি পদে পদে এমন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে তবে শুধু জনসাধারণই নয় এই সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভেতরেও দেখা দিতে পারে বিশৃঙ্খলতা।

তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট একটি আবেদন আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে পুলিশ বাহিনীকে খ্যামা দেন।