ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দেশের চলমান পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর সাথে আইন শৃঙ্খলার অবনতিও উল্লেখযোগ্য বিষয়। বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিচার কার্যক্রম ঠিকভাবে শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে মনে এ দায়বদ্ধতা কার? নিঃসন্দেহে ক্ষমতাসীনদের। তারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিচার বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই দুটো বিভাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন উন্নয়ন তো নয়ই তত্ত্বাবধানের ব্যাপারটিও নিছক অবহেলার দৃষ্টিতে দেখছে। বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা তাই বলে বিচার বিভাগের উন্নয়নের ব্যাপারে যে কোন কার্যক্রম গ্রহন করা যাবে না সে কথা কোথাও উল্লেখ নেই। তৃনমূল থেকে সর্বোচ্চ আদালত প্রতিটি জায়গায় রয়ে গেছে এখনো আদিম আমলের সেই ধীর গতির কর্মকাণ্ড। জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোতে মামলার পর মামলা হচ্ছে কিন্তু নিষ্পত্তির ব্যাপারে কোন অগ্রগতি নেই যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে মামলাজট। এই মামলা নিষ্পত্তির পথে বাধা স্বরূপ একটি জিনিস প্রতীয়মান তা হলো ফৌজদারি মামলাগুলোতে পুলিশি তদন্তের প্রতিবেদনের ধীরগতি এবং বিচার বিভাগের সংগে পুলিশ বাহিনীর দূরত্ব। এভাবে যদি বিচার বিভাগের কার্যক্রম স্বল্প গতির হয় তবে সাধারন জনগনের মধ্যে আইন হাতে তুলে নেবার প্রবনতা বাড়তেই পারে যার একটি দৃষ্টান্ত হলো গত বছর শব-ই-বরাতের রাতে আমিন বাজারে ছয় ছাত্র ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হবার ঘটনা।

আর পুলিশ বিভাগের উপর সরকারের কোন দৃষ্টিপাত আছে বলে মনে হয় না। এমন একটি বিশাল সুশৃঙ্খল বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতে যে কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন তা কখনোই প্রয়োগ করা হয় নি। এই জন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা এখনো সমস্যাই রয়ে গেছে। তাদের বেতন কাঠামো,আবাসস্থল,কর্মস্থল,পদোন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে রয়েছে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ এর অভাব। উন্নত দেশগুলোতে তারা পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেসব কৌশল অবলম্বন করে সেখান থেকে স্বচ্ছ ধারনা নিয়ে সরকার ইচ্ছা করলে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারে। বাৎসরিক বাজেটে অনেক খাতেই বরাদ্ধ বাড়ানো হয় কিন্তু পুলিশ বাহিনীর প্রতি বরাদ্ধ খুবই সীমিত। এই বাহিনীটিকে গুরুত্ব সহকারে তত্ত্বাবধানের অভাবে প্রতিনিয়তই তাদের সংগে অনেক পেশাজীবীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, যার ফলশ্রুতিতে জনগন মনে করছে যে তারা কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন। জনগনের মনে এই ধারনাটি আসার পেছনে যদিও রয়েছে সূক্ষ রাজনৈতিক অপপ্রচার তারপরও এ বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কেন বারবার পুলিশ কে জনসম্মুখে হেয় করা হচ্ছে তা সরকারকেই সমাধান করতে হবে সাথে বিচার বিভাগের সংগে এই বাহিনীর সম্পর্ক কিভাবে আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা যায় সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

প্রতিটি ঘটনার পর মানুষকে দেখি পুলিশ কে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলতে কিন্তু তাদের যদি কোন অংশে কোন প্রকার ব্যার্থতা থেকে থাকে তবে তা পুলিশ হিসেবে নয় বরং সরকারের সঠিক তত্ত্বাবধানের ব্যার্থতার অংশ হিসেবেই হওয়া উচিত কারন এখন পর্যন্ত পুলিশ বিভাগ বিচার বিভাগের মতো স্বতন্ত্র নয়।

ক্ষমতার পালাবদলের পরিক্রমায় অনেক রাজনৈতিক দলই সরকার পরিচালনায় আসবে আবার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাবে। যে দল ক্ষমতায় থাকবে পুলিশ সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের অধীনে থাকবে এটাই আমাদের দেশের নিয়ম কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পুলিশ সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কোন সংগঠন বরং তারা সরকারের একটি অংশ মাত্র।