ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অসভ্য এবং বর্বর ঘটনা এই নববর্ষে ঘটে গেল তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নাই। কেবলই ক্ষোভ আর ধিক্কার জানাতে চাই ওই নরপশুদের প্রতি । সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকেও । একটা দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র যদি হয় এই তাহলে আর একে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে কলংক বয়ে বেড়ানো কেন! ১৯টা সি.সি টিভি লাগিয়ে আর নাকের ডগায় পুলিশের কন্ট্রোল রুম থাকতে কেমন করে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে এমন বর্বর ঘটনা ঘটতে পারে! তাহলে আর দেশের টাকা খরচ করে এসবের দরকার কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যেখানে ঘটনা জানার পরেও ঘটনাস্থলে না গিয়ে কম্পিউটারে বসে দাবা খেলায় ব্যস্ত থাকতে পারেন সেখানে অবশ্য এর চাইতে বেশি কিছু আশা করাও আসলে বোকামি । উনি কিছু করতে পারতেন কিনা সেটা না ভেবে উনার উচিৎ ছিল – সেখানে ছুটে যাওয়া এবং স্বশরীরে পুলিশের কাছে গিয়ে কমপ্লেইন করা এবং কৈফিয়ত চাওয়া ।

এবার ঘটনার দিকে দেখা যাক । ২০/২৫ জন ছেলে (ছেলে না বলে এদেরকে জানোয়ারের বাচ্চা বলাই সমিচিন) বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্পটে প্রায় একই সময়ে এই নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে। কেউ ভুভুজেলা বাজিয়েছে, কেউ ভিডিও ধারন করেছে আর কেউ শারিরীক নির্যাতনে অংশ নিয়েছে। তার মানে কি? তারা নিশ্চই পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে । তা না হলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এত মানুষের সামনে কেবলমাত্র কয়েকটা বখাটে ছেলের পক্ষে এমন সাহস দেখানো সম্ভব নয়। আর নিশ্চিত ভাবেই ছাত্রদের মধ্যে থেকেও এর মধ্যে অংশ গ্রহণ ছিল। যদি তা না-ই হবে তাহলে শুধু একজন নন্দী কেন বিপদগ্রস্থ নারীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যাবে তার সঙ্গিদেরকে নিয়ে, অন্য আর কেউ কেন এগিয়ে আসলো না ? প্রকাশ্য রাস্তায় দিনের আলোতে যেখানে নারীকে বিবস্ত্র করা হয় সেখানে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসার মত যদি নৈতিকতা না থাকে তাহলে তাদের তো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা নেওয়ার কোন অধিকার নাই। আর যে শিক্ষা- প্রতিষ্ঠান এই সাধারন নৈতিকতা শিক্ষা দিতে না পারে তার থাকা না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিৎ।

নিজেদের স্বায়ত্বশাসন চাওয়া, ক্লাস না নিয়ে বেতন ভাতা নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় জামা-কাপড় কিনে উৎসব করা  আর বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কম্পিউটার কিনে তাতে দাবা খেলার নাম কি শিক্ষা দেওয়া? প্রক্টর নামের ওই লোকটাকে এই ঘটনার পরে আর একদিনও এই পদে চাকুরিতে রাখা উচিৎ নয়। তাকে সরাসরি স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা উচিৎ ।

এই ঘটনার জন্য হয়তো দায়সারা গোছের একটা তদন্ত করা হবে এবং বলা হবে বহিরাগতরা করেছে । আর একজন অন্যজনের উপর দোষ চাপিয়ে বলবে দুঃখজনক ঘটনা । আমি ভেবে আশ্চর্য হই, পুলিশ কী করে বলে যে তারা লাঠি-পেটা করেছে কিন্তু নিবৃত করতে পারেনি । কেন তারা অতিরিক্ত পুলিশ ডেকে ওই পশুদেরকে গ্রেফতার করেনি? কিংবা যাদেরকে পুলিশের হাতে দেয়া হয়েছিল তারা ছাড়া পেল কিভাবে? আমরা নিজেদেরকে আধুনিক বলছি, শিক্ষিত বলছি, উন্নত বলছি পৃথিবীর অন্যন্য দেশের জন্য উদাহরণ বলছি। এই কি তার উদাহরণ?

আবার আসা যাক পুর্ব পরিকল্পনা প্রসঙ্গে। পুর্ব পরিকল্পনা না থাকলে এমন সিঙ্ক্রোনাইজডলি এই ঘটনা সম্ভব কিভাবে সেটা আমি ভেবে পাই না । আর এর উদ্দেশ্য হলো নববর্ষ উৎযাপনকে কলঙ্কিত করা । এই ঘটনার পরে হয়তো কোন পরিবারই আর তাদের মেয়েকে এই অনুষ্ঠানে আসতে দিতে চাইবে না। কোন মা ও আর তার ছোট সন্তানদের নিয়ে এখানে আসবে না কারন সন্তানের সামনেই তাকে অশ্লীলতার মুখোমুখি হতে হবে। তাহলে কী হবে? পহেলা বৈশাখ তার সার্বজনিনতা হারাবে । তাতে করে একটা গ্রুপ খুব খুশি হবে এই ভেবে যে ধর্ম রক্ষা পেল, আমরা বিদাত করা থেকে বিরত হলাম । আরেকটা গ্রুপ খুশি হবে এই ভেবে যে, মেয়েদের রং বাহারি পোশাক দেখে জোয়ান ছেলে (ষাঁড় )গুলো উন্মত হয়ে উঠবেনা । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন খুশি হবে এই ভেবে যে তাদের আর বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে না । উনারা নিশ্চিন্তে দাবা খেলতে পারবেন । আর পুলিশ খুশি হবে এই ভেবে যে এই ফালতু পাহারার কাজে ব্যস্ত না থেকে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে কিছু উপরি উপার্জনের সময় পাওয়া যাবে ।

কিন্তু কেউ কি ভাবছেন যে এতে করে আমরা আবার পেছনে চলে যাচ্ছি? কিভাবে আধুনিক এবং প্রগতিশীলতা থেকে জাহেলিয়াতের দিকে ফেরত যেতে হয় আমরা সেই উদাহরণ হচ্ছি ? আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য যে আজ হুমকির মুখে পরলো এই ঘটনায় সেটা কি কেউ ভাবছে ? যুদ্ধের সময়ে যেমন এই দেশের নারীদেরকে ধর্ষনের মাধ্যমে জাতির মনোবল ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিল  ঠিক তেমনি ভাবে এসব নারীকে অপমান করে, ভয় দেখিয়ে এই সার্বজনিন উৎসবকে বন্ধ করতে চাইছে কেউ । বোমা মেরেও যখন কোন কাজ হয়না তখন এটা আরেকটা আক্রমন । তবে শুধু ওদেরকে দোষ দিয়ে বসে থাকলে চলবেনা । এর মধ্যে অন্যরাও আছে । কেউ হয়তো নিছক মজা নেওয়ার জন্য , কেউ হয়তো নিজেদের দাপট এবং ক্ষমতা দেখানোর জন্যও এই কাজে অংশ নিতে পারে । তবে ওরা যেই হোক ওদের ধরে বিচারের ব্যবস্থা করতেই হবে । দেশের আইন যদি অনুমোদন করে তাহলে এদের সবাইকে ধরে আগে ক্যাসট্রেটেড করে দেওয়া উচিৎ। এবং সেটা প্রকাশ্যে করতে পারলে আরও ভাল । অপমানের জ্বালা  যে কি সেটা ওদেরও বোঝা উচিৎ ।