ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

সময় বয়ে যাচ্ছে তার আপন গতিতে। আমি বয়ে চলেছি কিনা জানিনা তবে আমার বয়স বয়ে চলেছে সময়ের সাথে ঠিকই । ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ -এর কাটা টিক টিক করে চলছে অবিরত । আয়নায় নিজেকে দেখি প্রতিদিন সকালে প্রায় একই রকম । কিন্তু কিছু দিন পর পর ছোট ছোট পরিবর্তন চোখে পড়ে । মনের মধ্যেও কিছুটা পরিবর্তনের আভাষ,  বুঝতে পাই । আমি সেটা স্বীকার করতে চাইনা, মানতেও চাইনা । কিন্তু মানতে না চাইলেও সময় ঠিকই তার টোল নিয়ে নিচ্ছে। আমার মানা না-মানাতে সময় কিংবা পৃথিবীর কিছুই যায় আসে না । পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে আমি প্রতিনিয়তই হয়ে যাচ্ছি আরও পুরাতন ।

আমি দৃষ্টি সীমানায় যা কিছু দেখি তার ব্যাপকতায় এবং রহস্যময়তায় ঈশ্বরের উপস্থিতি খুঁজি । মাঝে মধ্যে তাঁর কাছে আশ্রয়ও কামনা করি । কিন্তু তাঁর নামাজ-ভজনে আমার মন লাগেনা । ইদানীং আশপাশের লোকেরা  স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে প্রায়শই  যে, ভজনে মন দাও হে তুমি । শেষ সীমানাতো বেশি দূরে নয় । আর কবে হবে সাধন-ভজন! সময় গেলে কি সাধন-ভজন হবে?  কী নিয়ে যাবে তুমি ওই পারে? আমি হালকা করে বলি, প্রান্তিক সীমানাটা আপেক্ষিক। একেক জনের জন্য একেক রকম।

সেটা কি আসলে সঠিক? একটা অনুমিত সময় তো আসলে ধরাই আছে । সেই হিসাবে আমি খুব বিশাল ব্যবধানে দাড়িয়ে আছি এমনটা বলা যাবে না । কাজেই, কাছের মানুষেরা যা বলছে তা একেবারে ফেলে দেওয়া যায়না । কিন্তু সাধন-ভজনে যার মন থাকে তার জন্য তো কোন নির্দিষ্ট সময় নাই । তাঁহারে পাওয়ার জন্য সাধন তো সারাজীবনই চলতে পারে । আর বিশ্বাসের কারনে কিংবা অনুকম্পা পাওয়ার জন্য যে ভজন সেওতো শুধু প্রান্ত সীমার কাছে আসলেই নয় । যিনি আমার ঈশ্বর তিনি কি কেবল আমায় শাস্তি দেবেন বলেই উপরে বসে আছেন? তাঁর ভালবাসা কি আমি পেতে পারি না?

লোকে তখন বলে , ভাল তো তিনি সবাইরেই বাসেন তাই বলে অবাধ্যতার শাস্তি দবেন না? আমি তখন ঠিক বুঝিনা, সামান্য তর্ক করি । তখন উনারা আবার বলেন, বিষয়টা অতটা হালকা নয়, বেশ গভীর । অন্য সবাই নির্দেশ মত সমস্ত পালন করলো, সারা জীবন সাধনা, নামাজ-কীর্তন করলো তাদের জন্য যেই ফল আর শুধু ভালবাসার কারনে তোমার জন্য একই ফল যদি তিনি দেন তাহলে কি অন্যদের জন্য সেটা সুবিচার হয়? তাছাড়া, তাঁর সাধন-ভজনে  যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়, তোমার সাথে সেটা কি করে হবে? তাই আরও গভীরভাবে ভাবো । যেটুকু সময় বাকী আছে সেটার সৎ ব্যবহার করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা কর হে তুমি ।

কিন্তু অত গভীরতায় ডুব দেবার সাধ্য আমার কোথায় ? আমি যে অতি সাধারন , বেশি গভীরে যেতে চেষ্টা করলে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে । তাই সাধারনের দৃষ্টিতে যেটুকু দেখি তার ব্যাপকতাই আমাকে ভাবিয়ে তোলে । অভিভুত হই আমি । মাঝেমধ্যে ঈশ্বর-কে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করে, তিনি আমাকে এই অভিভূত হবার সামর্থটুকু দিয়েছেন বলে । তার পরেও সাধন-ভজনের বিষয় এবং ব্যপারটা ঠিক করতে পারছিনা । কেবলই সময়ের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি একটু একটু করে আমি ।

slide