ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দেশের প্রতিটি মানুষকে ব্যক্তিগত ভাবে নিরাপত্তা প্রদান কোন দেশের কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় এবং এই কথাটা আমরা জানি । কিন্তু যেই মানুষগুলোর জীবনের উপর হুমকি ছিল বা যাদেরকে খুনের পরোয়ানা পাঠিয়েছিল খুনিরা সেই কয়জনের পেছন থেকেও কি নজরদারির ব্যবস্থা করা কঠিন ছিল ? ছিলনা । তাহলে কেন একের পর এক লেখক ,প্রকাশক , মুক্ত বুদ্ধির মানুষ অবলিলায় খুন হয়ে চলেছে । এটা কি অবহেলা নাকি কেউ সুচতুরভাবে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে খুনিদেরকে প্রচ্ছন্ন ভাবে ? এই প্রশ্ন এখন আর অযৌক্তিক কিংবা অপরাধ নয় । এই হুমকিপ্রাপ্ত মানুষগুলোর পেছন থেকেও যদি অদৃশ্য পাহারা রাখা হতো তাহলে খুন করা এত সহজ হতোনা । বরং কেউ খুন করতে আসলে তাদেরকে ধরে ফেলা বা সনাক্ত করাও খুব সহজ হতো । সেটা না করে শুধু ‘ দেশে জঙ্গি নাই , জঙ্গিদেরকে প্রশ্রয় দেয়া হবেনা ‘ জাতিয় কথার ফুলঝুরি ছোটান হচ্ছে । কিন্তু বাস্তবতা হলো , জঙ্গিদের হাতে শিক্ষিত এবং মুক্ত বুদ্ধির মানুষ খুন হচ্ছে আর সেই সব খবর বিদেশের বড় বড় সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে । দেশের উন্নয়ন ,ভাবমুর্তি , সুশাসনের প্রচেষ্টা কোনটাই কারও নজরে আসছেনা । নিজেদের ব্যার্থতা স্বীকার গৌরবের না হলেও অমানবিক কিংবা অযোগ্যতা তেমনটা নয় । কিন্তু সেই স্বীকারোক্তির বদলে একজন শোকাহত পিতাকে অসম্মানজনক কথা বলার মধ্যে কোন গৌরব নেই । আর সেই বোধটুকুও কোন কোন রাজনীতিকের নাই । এই  হানিফ জাতিয় কতিপয় অর্ধ-শিক্ষিত লোকের কারনে সরকার আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে । এই ধরনের লোকের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোকনা কেন এরা যে বোধ-বুদ্ধিহীন এবং অসংবেদনশিল সেটা তাদের কথায় বারবার প্রকাশ পাচ্ছে ,তারপরেও এদের মুখে কেউ লাগাম টেনে ধরছেনা । কবে যে ঘুম ভাঙ্গবে সরকার আর তার প্রশাসনের সেই প্রতিক্ষায় থাকতে থাকতে মানুষ এখন ক্লান্ত পায় । এই বোধটুকু নিদেনপক্ষে জাগ্রত হোক বাংলাদেশের সরকার আর প্রসাসনের ।