ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

ফেসবুক প্রোফাইল নেই এমন মানুষ পাওয়া বেশ মুশকিল৷স্কুল হোক,কলেজ হোক, চাকরিজীবি হোক যেকোন পেশার লোকেই হোকনা কেন ফেসবুকে একটা আইডি চাই চাই ৷ লেখাপড়া না জানা বহুলোকও বর্তমানে ফেসবুকে পারদর্শী হয়ে উঠছে৷ আমি দেখছি এমন লোক আছে নিজের নাম লেখতে কলম বেঁকা হয় সে লোকও ফেসবুক ব্যাবহারকারী ৷ জানতে চাইলাম কীভাবে মেসেস দেন, কীভাবে আপনার অনুভূতি গুলো বন্ধুদের জানান, কীভাবে একটা ছবির উপর মন্তব্য দেন,ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ সোজাসুজি কথা, আরে বাবু কোন ব্যাপার’ই না ৷ শুধু nice, good, goodmorning,fine এইসব লেখাগুলো ভাল করে মুখস্থ করলাম ব্যাস হয়ে গেল৷আর কীলাগে বাবু?উল্টা আমাকেই প্রশ্ন করে।আমি তার কথা শুনে অবাক নাহয়ে পারলাম না৷যাক ভাল কথা ডিজিটাল যুগে সবার’ই ডিজিটালী থাকার দরকার ৷

বর্তমানে দেখা যায় মানুষের জীবনের একটা বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ফেসবুক৷ব্যবসা বাণিজ্য, খবর বিনোদন, অনলাইন কেনাবেচা,চিঠিপত্র আদান-প্রদান, হিন্দুদের রামায়ণ গীতা মহাভারতের বাণী, সন্মানীত মুসলমানদের প্রবিত্র কুরআন শরীফের আয়াত সংবলিত পোষ্ট, সাহায্য চাওয়া, স্বজনদের সন্ধান করা,পাত্র-পাত্রীর খোঁজ করা, ডাক্তারী পরামর্শ, পবিত্র বাইবেলের বাণী, রাষ্ট্রনায়কদের সাথে যোগাযোগ করা, মোট কথা জীবন মরণ, ধর্মকর্ম, প্রেম-ভালবাসা, চোর ধরা ডাকাত ধরা, ঘোমড়ফাঁস করা, সহ এই ফেসবুক মহাকিতাবে পরিণত হয়েছে ৷ অনেক সময় লাইকের প্রতিযোগিতার বহারও লক্ষণীয়, এই লাইক প্রতিযোগিতায় যুবতীমেয়েরা’ই সবচাইতে এগিয়ে থাকে বেশি, এই প্রতিযোগিতায় আরো অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা,তাদের আইডি বা পেইজে লাইকের পাহাড় তৈরী হয়, এছাড়াও প্রতিযোগিতায় আছে সুপারস্টার, মডেলতারকা, অভিনেতা অভিনেত্রী বৃন্দ৷লাইক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ নিজেও ৷

মার্ক জুকারবার্গের প্রতিযোগিতা শুরু সেই ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সাল থেকে, আজও তিনি থেমে নেই৷যদিও প্রথম প্রথম শুধু আমেরিকায় বসবাসরতরা ব্যবহার করতো, ২০০৫ সাল থেকে অদ্যপর্যন্ত সারা বিশ্বেই ফেসবুকের পদচারণা ৷ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এই ফেসবুক,তবুও থামছেন না মার্ক জুকারবার্গ, প্রতিযোগিতা চলছে চলবে ৷ আজকের শিশুতো সবসময় শিশু থাকবেনা, শিশুটির বয়স বাড়বে বুড়ো হবে এইতো নিয়ম ৷ তাহলে ফেসবুকেরও তো বয়স বাড়ছে,প্রথম যারা ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছে তারা এখন প্রায় সবাই চল্লিশের কোঠায় ৷ বর্তমানে সারাবিশ্বের কোটিকোটি মানুষ ফেসবুকে আছেন ৷ তবে একটু চিন্তা করলে দেখাযায়,এখন থেকে একজন মানুষের ৮০ বছর হলে জন্মলগ্ন থেকে ফেসবুকের বয়স তখন কত হবে? হিসাব করলে দেখাযায় ৯০বছরের উপরে ফেসবুকর বয়স হয়েযায়৷বর্তমান যুগে ৯০বছর খুবকম মানুষ’ই বেঁচে থাকে দুনিয়ায়৷আজ যাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে তাদের মৃত্যু হবে একদিন,আর এই মৃতব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্টাও মৃত্যুবরণ করলো, হয়ে গেলো ফেসবুকে তার “সমাধি” ৷ এমন বহু ফেসবুক ব্যাবহারকরীর মৃত্যু হবে, সেই মৃতব্যক্তিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়ে যাবে শুধুই কবর হয়ে৷কবর হয়ে থকার কারণও আছে, তার মূলকারণ হলো এই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট মৃত মানুষের প্রোফাইল মুছে ফেলতে নারাজ ৷ এই ওয়েবসাইটি সকল ব্যাবহারকরীর প্রোফাইল সন্মানরক্ষার্থে স্মৃতিকরে করে রাখতে চায় চিরদিন ৷ এখন লক্ষকরি বর্পৃবর্তমানে পৃথিবীতে বড় সমাধিস্থান কোনটি?গুগল অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বের বড় গোরস্থান হলো ইবাকের নাজাফ শহরের নিকটবর্তী “ভ্যালি অব পিস” ইমাম ইবনে আবি তালিবের মাজারের পাশেই এই গোরস্থানটি অবস্থিত ৷ স্থানীয় ভাষায় এই গোরস্থানটির নাম “ওয়াদি আল সালাম” বাংলায় যার অর্থ হয় “শান্তির উপত্যকা”(তথ্যসংগ্রহ মানব কন্ঠ অনলাইন ডেস্ক 18 April 2015)”এখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রায় ১৪০০ বছর ধরে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষকে এই গোরস্থানে কবর দেওয়া হয় ৷ গোরস্থানটি মোট ১ হাজার ৪৮৬ একর এলাকার উপর অবস্থিত৷এখন দেখাযায় এসব বড় বড় সমাধিস্থানকে পিছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাধিস্থানে পরিণত হবে এই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক ৷ তবে খুশির খবর হলো আমারা ফেসবুক ব্যবহারকারীরা না থাকলেও আমাদের প্রোফাইলটা ফেসবুক সমাধিস্থানে থেকে যাবে সারাজীবন ৷ তাই আমাদের জীবন থাকতেও আছি ফেসবুকে,মৃত্যুর পরেও থেকে যাবো ফেসবুকে৷আর ভাবনা কি আমাদের৷