ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 
ছোটবেলায় হাট বাজারে,মেলায় এই বাইসকোপ দেখিতাম!আমি দেখেছি মাত্র দশ পয়াসা দিয়ে৷একসাথে চার জন দেখতে পারতাম৷খূব মজার একটা ছবি প্রদর্শনী৷

বাইস্কোপ ছোটবেলায় হাট বাজারে, মেলায় দেখা যেত এই বাইস্কোপ৷ কালের বিবর্তনে এখন আর ছোখেই পড়েনা এই মজার বাইস্কোপ৷ এখন শুধুই স্মৃতি৷হাট বাজার, মেলা ছাড়াও বাইস্কোপ ওয়ালা মাথায় করে গ্রামে, গ্রামে, বাড়ীতে বাড়িতে যেত এই বাইস্কোপের বাক্সটা নিয়ে৷ তার হাতে থাকতো একটা বাজনা বাজানের একটা বিশেষ বাদ্যযন্ত্র৷ বাড়িতে পৌঁছেই সেই বাজনা বাজিয়ে আওয়াজ দিত৷ বলতে শোনা যেত বাইস্কোপ দেখবেন গো বাইস্কোক? আর তখন আমরা ছোটরা মায়ের কাছে কাকুতিমিনতি করতাম এই বাইস্কোপ দেখার জন্য৷ মা তখন বিরক্ত হইয়া ধানের গোলা হইতে এক হুড়া (প্রায় এক সের) ধান দিত৷ আর বলে দিতো, আর পাবি না কিন্তু! তাই রাজী হয়ে যেতাম৷ বলতাম, হ মা হ আর নিমুনা, আর দেখতাম না!

এই বলেই ধান নিয়ে ছুটে আসতাম বাইস্কোপ ওয়ালার কাছে, ধান দিতাম ঢেলে তার আনিত বস্তার মতো বেগে৷ ধান দিতে দেরি আর বাইস্কোপের সামনে হাঁটু ভেঙ্গে বসতে দেরি নেই৷ পর্দা উঠল বাইস্কোপের, মুখের মাঝে  দুই হাত দিয়ে ছুপি দিয়ে দেখতে থাকতাম বাইস্কোপ৷ আঃকি সুন্দর যে লাগতো, সেটা আর লিখে শেষ করা যায় না৷ বাইস্কোপ ওয়ালা এক হাতে বাইস্কোপের রিল ঘুরাতে থাকতো আর বলতে থাকতো কি যাচ্ছে, আর সামনে কি আসছে৷ বলতো শোনা যেত কী সুন্দর দেখা গেল আলো মতি আইসা গেল, কী সুন্দর দেখা গেল প্রেম কুমার আইসা গেল, ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এখন আর নেই সেই সুন্দর বাইস্কোপ৷

ছোটবেলার সেই বাইস্কোপ এখন শুধুই স্মৃতি৷ মাত্র দশ পয়সা দিয়ে অথবা এক হুড়া ধান দিয়ে বহু দেখেছি এই বাইস্কোপ৷