ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আমি সনাতন,আমি হিন্দু। ছোটবেলা হইতে যখন একটু আধটু বুঝের হলাম, দেখতাম আমার মা,বোন,বাবা,ভাই ও পাড়া প্রতিবেশী সবাই পূজা অর্চনার দিনে পূজা করতো। পূজার বিগ্রহের বা প্রতিমার সামনে গিয়ে দুই হাত জোড় করে বা লম্বা হয়ে শুয়ে মাথাটা মাটিতে ঠেকিয়ে ভক্তি করতো,আমাকেও তাদের মত করে ভক্তি দেয়াতো। আবার দেখতাম আমার মত কোন কোন শিশু ভক্তি দিতে না পারিলে ঐ শিশুর দুইহাত সমান করে ধরিয়ে ভক্তি দেওয়া শিখানো হতো। এই ভাবেই দেখতে দেখতে বয়স হলো আমার ৫বছর, স্কুলে ভর্তি হলাম! ক্লাশ ওয়ান হইতে তৃতীয় শ্রেনীতে যখন উত্তীর্ণ হইলাম তখন ধর্মশিক্ষা বহি না থাকলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহাশয় হরিনাম, শ্রী গীতা, রামায়ণ এর ব্যাপারে সাপ্তাহে ৪দিন স্কুল ছুটির একটু আগ মূহূর্তে আমরা যে  ক‘জন হিন্দু ছাত্র ছিলাম তাদের নিয়ে এই হিন্দু ধর্ম নিয়ে আলাপ আলোচনা করতো। সময় সময় শিক্ষক মহাশয় উনার ব্যাক্তিগত ভাবেই আমাদের বাংলা খাতায় সহজ সহজ কিছু প্রশ্ন লিখে দিতো পরদিন উত্তর লিখে আনার জন্য”প্রশ্নের উত্তর কেহ কেহ আনতো আবার কেহ আনতো না।

ধর্মশিক্ষা পুস্তক পেলাম ৫ম শ্রেনীতে উর্তীন্ন হবার পর। আমার প্রিয় হিন্দু পাঠক ভাই ও বোনেরা লক্ষ্য করুন,ছোট থেকে এই ৮/১০ বছর বয়সের মধ্যে স্কূলের হিন্দু ধর্মশিক্ষা পুস্তক ছাড়া আর কেথাও এই ধর্মশিক্ষা নিতে পারি নাই। আর ছোট থেকেই দেখে আসছি আমাদের দেশে সন্মানীত মুসলমান ভাইদের ছেলে মেয়েরা ছোট বয়স থেকেই মাদ্রাসা, মক্তব, মসজিদে দলে দলে খুব সকালে তাহাদের ধর্মীয় পুস্তক নিয়ে পড়িতে যায়। আর সেই কারনেই তাহারা ধর্মের দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে বেশী পারর্দশ্বী। আর আমরা হিন্দু ভাই বোনেরা শুধু স্কুলের ধর্মশিক্ষা পুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি। আমাদের হিন্দুদের প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় মন্দির আছে, প্রতিটি মন্দিরেই পুরোহীত আছে তাও নিয়েগকৃত। হিন্দু ধর্ম শিক্ষাদানের বিষয়ে তাদেরও কোন মাথাব্যথা নেই বলিলেও চলে। অতচ:সন্মানীত মুসলিম ভাইদের মসজিদের মুয়াজ্জিম বা ঈমাম সাহেবদের দেখা যায় ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিটি পরিবারকে তাহারা অনুরোধ করে তাদের সন্তানদের সকাল সন্ধায় মসজিদে বা মক্তবে পাঠানোর জন্য। আর আমাদের মন্দিরের পুরোহিতরা শুধু দেব দেবতাদের বিগ্রহের চরনে ফুল চন্দন তুলসি দিয়ে পূজোই করে যাচ্ছেন অভিরত। তাদের ধারনা বা আমাদের ধরনা এই যে,আমি হিন্দু আমার সন্তানাদিও হিন্দু এর বেশি আর কি দরকার!

প্রিয় সন্মানীত, হিন্দু পাঠক ভাই ও বোনেরা, এই সব অবহেলার কারনেই আজ আমরা হিন্দুরা ধর্ম শিক্ষার শিক্ষা থেকে অনেক বঞ্চিত, যার কারনে আমাদের এই সুন্দর সনাতন ধর্ম বিষয়ে কোন প্রশ্ন করিলে আমারা ঠিকমত উত্তর দিতে পারিনা। না পারার কারনে আমরা নিজেরাও লজ্জিত হচ্ছি,ধর্মকেও কলঙ্কিত করছি।

প্রিয় সন্মানীত আমার হিন্দু ভাই ও বোনেরা, আমরা কি পারিনা প্রতিটি পাড়া মহল্লার মন্দিরে মন্দিরে এই প্রাচীনতম ধর্মের শিক্ষা দিয়ে আমাদের নব প্রজম্মদের সুশিক্ষীত করে তুলতে? ইচ্ছা থাকিলেই উপায় হয়!!

সন্মানীত হিন্দু ভাই ও বোনেরা, এবার আসুন পুজোর কথা বলি!!ছোট বেলায় দেখতাম দূর্গা পূজা,গোলাকার একটি চালীর মধ্যেই সমস্থ দেবতার বিগ্রহ দ্বারা প্রতীমা তৈরী হতো”আর সব পুজা মণ্ডপের প্রতীমাই থাকতো একই রকম”বর্তমানে ডিজিটালের হাওয়া আমাদের দেব দেবীর মূর্তির মধ্যেও লোগেছে,একেবারে ডিজিটাল পূজা!!সন্মানীত হিন্দু ভাই ও বোনেরা,আমি আপনাদের কাছেই জানতে চাই যে,মা দূর্গা যখন পুজা উপলক্ষ্যে মত্তে আসে তখন দেবী দুর্গা কি একেক পাড়া মহল্লায় ও একেক মন্দিরে বিবিন্ন রূপে আবির্ভূত হন?যদি তা না হয় তবে ভিন্ন ভান্ন রূপে দেবীর বিগ্রহ/প্রতীমা/মুর্তি তৈরী করে কেন?

দূর্গা দেবীর পূজাই তো হচ্ছে,এখানে যেমুন সব খানেই তো এক রকম থাকার কথা!!কিন্তু না,বর্তমানে টাকার উপর নির্ভর করছে দেবীর মুর্তি৷যেখানে টাকা বেশী সেখানে মা দুর্গা দেবীর সাজ সজ্জাও বেশী”দুর্গা কথার অর্থ যদি হয় দুর্গ=প্রতিরোধ, দুর্গত নাশীনী, হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ,অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ,অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ,দেবীর চরণে পুষ্প চন্দন দিয়ে পূজা করে এই সব হিংসা অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করিতে পারিতেছি?আর একটি কথা!মা দুর্গার পূজাইতো হচ্ছে,সবখানেই তো মা দুর্গা৷একটি মহল্লায় অন্তত চার পাঁচটির ও বেশী পূজা হয় কোন কোন স্থানে”একটি মহল্লায়/পাড়ায় সবাই মিলে একটি পূজা করিলে কি পূজা হবেনা?আমার মনে হয় আরো ভাল হবে৷যেমন আমাদের নারায়ণগঞ্জ মেইন সিটিতে মোট ১৮/২০টির ও বেশী পূজা হয়!!নারায়ণগঞ্জ পূজা উয্যাপন কমিটি যদি সবাইকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ষ্টূডিয়ামে একটি পূজা করিতেন তবেকি দেবীর পূজা হতোনা?আমার মনে হয় আরো ভালো হতো আরো সুন্দর হতো”এতে করে টাকাও লাগতো অনেকাংশে কম,থাকতোনা শহরে জানজট,সরকারের বিদ্যূৎ খরচ ও লাগতো অনেক কম,দর্শনার্থী ও হতো প্রচুর”যেই টাকা গুলো বেচে যেত সেই টাকা হিন্দু মুসলিম গরীবদের মাঝে বিতরণ করে দিতে পারতো”কিন্তু তাতো তাহারা করবেনা কোন দিনও,কারন:অনেক অনেক”আর আমাদের ঠাকুর বা পুরোহীত বা হিন্দু ধর্মের পণ্ডিতরাও এই হিন্দু ধর্ম শিক্ষার ব্যাপারে উদাশীন নয়,আমার মনে হয় সন্মানীত পুরোহীতদের বা সন্মানীত পণ্ডিতদের ধারণা এই যে,ধর্মশিক্ষা দেওয়া কি দরকার,আমরা আছি আমরাই থাকবো,অন্য কেহ নয়!!

আমি মনে করি,আজ উপযুক্ত শিক্ষার অভাবের কারনে আমাদের বহু বহু হিন্দু ভাই বোনেরা এই হিন্দু ধর্মকে ভুল বুঝিয়া অন্য ধর্মকে গ্রহন করছে”ছোট বেলা থেকে যদি আমরা উপযুক্ত ধর্মশিক্ষা শিখিতে পারিতাম তবে অন্য ধর্মের প্রতি আগ্রহ বা লোভ থাকিতনা”পরিশেষে আমার প্রিয় সকল হিন্দু ভাই ও বোনদের বলতে চাই,আমাদের সন্তানদের শিক্ষীত করার দায়ীত্ত্ব্য আমাদেরই”আমার যদি নিজ ধর্মের শিক্ষা নাই থাকে তবে তো সবই মিছে!!প্রিয় সন্মানীত পাঠক,ও আমার প্রিয় ব্লগার ভাই ও বোনেরা,আমি কোন লেখক নই,আমার নিজের মনের আবেগ থেকেই এই লেখাটি লিখলাম!যদি ভুল লিখে থাকি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন৷আমার লেখায় অনেক ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক,লেখায় ভুল হলে সংশোধন করে নেওয়ার জন্য মিনতী করছি”ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন,এই কামনা”