ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

শীতলক্ষ্মা নদীর পূর্ব পাড়ে ও পশ্চিম পাড়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি অবস্থিত৷সিটির ঠিক মাঝখান দিয়েই এই শীতলক্ষ্মা নদীর অবস্থান৷যেমন নারায়ণগঞ্জবাসির বুকের ভিতর আত্মা৷এক সময়ে ছিল খরস্রোতা নদী৷এখন যেন এক রুগ্ন বালকের মত শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে এই শীতলক্ষ্মা৷দেখার কেহ নেই এর রক্ষনা বেক্ষনের জন্য৷এমনিতেই রোগাক্রান্ত তার উপর আবার কতনা অত্যাচার!দুই পাড় বেদখল,অনাহাসে কারীকারী বর্জ্য ফেলা, কারখানার ডাইংয়ের দূষিত কেমিক্যালের পানি ও দিন রাত আঘাত করে যাচ্ছে এই শীতলক্ষ্মা নদীটিকে৷আর সেই আঘাতে আহত হচ্ছি আমারা পুরো নারায়ণগঞ্জবাসি৷এক সময় এই নদীটি ছিল বাংলাদেশের নৌবন্দর! আর বর্তমানে এই নদীটি একটি মৃত খালে পরিনীত৷এই নদীর পানি দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসির রান্না বান্নার কাজ চলতো!দেশ বিদেশে থেকে পন্যবাহি বড় বড় জাহাজ গুলি আসতো,যাওয়া সময় এই শীতলক্ষ্মার পানি নিয়ে যেতো পান করার জন্য৷৪০/৪৫বছর আগের কথা, তখন দেখতাম মা বোনেরা কলস কাঁকে করে পানি নিয়ে যেত রান্না ও পান করার জন্য৷দুপুরে নদীর দুই পাড়ে গোসল করার দৃশ্য দেখিলে মনে হতো এ যেন এক অষ্টমীশ্নান৷

বর্তমান প্রজম্মের কাছে এই সব কথা হবে রূপকথার গল্প৷কেননা, ২০/২২ বছরের বালক-বালিকাদের বিশ্বাস হবে না এই কথা৷খেয়া ঘাটের নৌকা দিয়ে মানুষ যখন নদী পাড় হতো,তখন হটাৎ কারো পানির পিপাসা পেলে নৌকা হইতে হাত বাড়িয়ে দনির পানি পান করিত৷এত সচ্ছ পরিষ্কার পানি ছিল এই শীতলক্ষ্মার৷আজ পানি পান করাতো দুরের কথা,হাত পা ধোয়াও যায়না পানির দূরগন্ধে৷আর নদী পাড়া পাড়ের সময় নাকে রূমাল বা কাপড় না দিলে তো ধর্ম বন্ধ হবার উপক্রম!নদীর দুই পাড়ে ময়লার স্তুপ আর কল কারখানার ডাইংয়ের দুষিত কেমিক্যালের পানি মিষে একাকার,যাহা দুই নয়নে না দেখিলে বুঝানো বড় দায়৷বর্তমানে আমরা কী পান করছি? পানি না বিষ? ঢাকা ওয়াসার অধীনের পানি শোধনাগার হইতে পানি শোধন করিয়া পানি সরবরাহ করিতেছে ঠিক,তার পরও পানিতে দুরগন্ধ থেকেই যায়৷

এত বিষাক্ত কেমিক্যালের পানি শোধিত করিতেও হিমষিম খাচ্ছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ৷এতে করে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি নানাবিধ রোগে৷মাঝে মাঝে আমাদের ছোট ছোট সন্তানদের ঘ্রাস করে ফেলে ডায়রিয়া ও কলেরার মত মরণ ব্যধিতে৷কোন কোন সময় বন্যা কবলিত হইয়া নদী ভরিয়া গিয়া এই বিষাক্ত পানি বাঁধা পুকুরে প্রবেশ করিলে সেই পুকুরের সমস্ত মাছ নিধন হইয়া যায়৷আর নদীতে মাছ নাই বলিলেও চলে৷আর সেই পানিই আমরা নারায়ণগঞ্জবাসি পান করে যাচ্ছি বাধ্যতামূলক ভাবে৷আমাদের দেশ নদী মাতৃক দেশ,নদীর সাথে মিষে আছে আমাদের প্রাণ৷আর সেই নদীই আজ সর্বদিক দিয়ে অবোহেলীত৷যেমন:বেআইনি ভাবে নদীর পাড় বেদখল,অযথা নদীতে বর্জ্য ফেলা, মিল কারখানার দূষিত পানি খাল দ্বারা নদীতে মিষানো৷আগে দেখা যেত নদীর মাঝে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খনন হতো অহরহ,বর্তমানে তো চোখেই পরেনা এই স্বপ্নের ড্রেজার৷বর্ষার মৌষুমে দেখা যেত খরস্রোতা নদীর ঢেউ আর ঢেউ! পাড়া পাড়ের সময় নৌকার মাঝিকে মিনতী করে বলা হতো যে,মাঝি ভাই সাবধাণে চালাও তোমার নাও৷এখন আর বলতে হয়না মাঝি ভাই সাবধানে চালাও৷বর্তমানে এই শীতলক্ষ্মা নদীর অবস্থা খুবই আশঙ্কা জনক!তাই আমাদের এই শীতলক্ষ্মা নদী বাচাতে হলে,সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে৷পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্ত্পক্ষদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা দরকার৷সই সঙ্গে বেআইনি ভাবে নদীর পাড় বেদখল,বর্জ্য ফেলা,দুষিত কেমিক্যালের পানি যাতে নদীতে না মিষিতে পারে সেই ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া,ও সবার সজাগ দৃষ্টি থাকা একান্ত জরুরী৷বাচাও নদী বাচাও দেশ,নদী মাতৃক বাংলাদেশ৷