ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

গত ৮ই মে রোজ রবিবার রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে আমার মোবাইলে একটা কল আসলো, কল রিসিপ করে বললাম নমস্কার ৷ অপর পান্ত থেকে একজন ভদ্রমহিলা’র গলার আওয়াজ পেয়ে চমকে উঠলাম ৷ নমস্কার গ্রহণ করে’ই জানতে চাইলো আমি নিতাই’দা না কি ! বললাম হ্যাঁ আমি নিতাই বাবু ৷ কিন্তু আপনি ? হাসির সুরে বললো, দাদা আমি আইরিন সুলতানা ৷ আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার দশা, আমি হতভম্ব হয়ে বললাম দিদি আপনি আমার নমস্কার আবার পুনরায় গ্রহন করুন ৷ আইরিন সুলতানা দিদি হেসে দিয়ে বললো’ আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে, এখন শুনুন’ আগামী ১৩ই মে রোজ শুক্রবার বিকাল ৩:০০ ঘটিকার সময় সংসদ্‌ ভবনের সামনে চন্দিমা উদ্যানে আমারা বিডি নিউজের সকল ব্লগার’রা এক’সাথে একটা আড্ডার আয়োজন করেছি৷ আপনিও আসবেন আশা রাখি ৷ আমি বললাম, সম্মানিত দিদি, ওইদিন কে’কে ওখানে আসছেন? আইরিন সুলতানা দিদি বললেন, দাদা সবাইকে’ই জানানো হয়েছে তবে যারা-যারা আসতে ইচ্ছুক তারা’তো অবশ্য’ই আসবে ৷ আর এ বিষয়ে আমাদের সম্মানিত ব্লগার তানজির খানের একটা পোষ্ট দেখুন ব্লগে ৷ পোষ্টের শিরোনাম কৃষ্ণচূড়া আড্ডাঃ কৃষ্ণচূড়ায় মেতে আছে পথিক আর পথ, সঙ্গে জারুল আর সোনালু ফুলেল নগর রথ ৷ আমি বললাম আচ্ছা দিদি আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আসার জন্য, বাকী’টা মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে ৷

আইরিন দিদিকে নমস্কার জানিয়ে ফোনালাপ শেষ করে ভাবতে লাগলাম আপন মনে ৷ খানিক পরে বিডি নিউজ ব্লগে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম তানজির খান দাদার আমন্ত্রণী পোষ্টখানা ৷ পোষ্টখানা পড়ে দেখলাম, বুঝলাম, একটা মন্তব্য দিলাম, মন্তব্যে লিখলাম তানজির দাদা, আমার আসার ইচ্ছা আছে, আমার প্রতি আপনাদের হৃদয়ের টান থাকলে না এসে কী আর পারবো ! পরদিন আমার একজন বন্ধুকে বললাম, আমার সঙ্গে যাবে না’কি চন্দিমা উদ্যানে? ও’বললো কেন? কী ব্যাপার ! বললাম আমাদের একটা আড্ডা আছে ওখানে ৷ আমার বন্ধু প্রথমে বললো যাবো, দুদিন পরে বললো যাবো না ৷ আমি বললাম ঠিক আছে’ না যাও ! আমি একা’ই যাবো, আর কী করা ৷ দিন যাচ্ছে আর মনের ভাবনাও বাড়ছে ! ভাবনা শুধু একটা’ই আমার দুটো কান নিয়ে ৷ তার মানি হলো, আমার একটু শ্রবণ শক্তি কম তাই ৷

কাজী শহীদ শওকত দাদাকে ফোন করে বললাম, দাদা আপনি অবশ্য’ই আসবে কিন্তু ! কাজী শহীদ শওকত দাদা বললেন ঠিক আছে দাদা আসবো ৷ আমি হাঁফ-ছেড়ে বাঁচলাম ৷ আরো জানালাম কুর্দিস্তান প্রবাসী আমাদের প্রিয় ব্লগার সৈয়দ আশরাফ মহি-উদ্-দ্বীন ভাইকে ৷ জানালাম এই কারণে যে, তানজির খান দাদার পোষ্টখানা পড়ে সেখানে একটা মন্তব্য দেওয়ার জন্য ৷ আরো জানালাম প্রিয় ব্লগার জাকির হোসেইন দাদাকে, তাকেও কৃষ্ণচূড়া আড্ডায় যোগদান করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম, জাকির দাদার হাতে সময়ের অভাব বিধায় তিনি আড্ডায় যোগদানে অপারগতা স্বীকার করলেন ৷ আর কী করা ! শুক্রবার সকাল-সকাল অফিসে গিয়ে তাড়াতাড়ি অফিসের কাজ শেষ করে ফোন করলাম কাজী শহীদ শওকত দাদার কাছে ৷ কাজী শহীদ শওকত দাদা বললেন, জ্বী’দাদা আমি রেডি হবো ১১/১২ টার সময়, তবে শতভাগ নিশ্চিত থাকবেন আমি আসবো’ই ৷

অফিস থেকে বাসায় ফিরলাম ১১টায়, স্নান’ধূতি করে জামাকাপড় পড়তে পড়তে দেখি আকাশের অবস্থা বেগতিক ৷ আমার স্ত্রী বললো, তুমি যেতে পারবে’তো? আমি বললাম দেখি সৃষ্টিকর্তা কী করেন ! বাসা হতে বাহির হলাম ১২ টায়, বাসষ্ট্যান্ড পৌঁছতে না পৌঁছতে’ই নামলো মুশলধারায় বৃষ্টি ৷ একটা দোকানে অবস্থান নিলাম, আবার ফোন করলাম কাজী শহীদ শওকত দাদার কাছে, কাজী শহীদ শওকত দাদা বললেন আমি দাদা বাসষ্ট্যান্ড আছি, বাসে উঠবো কিছুক্ষণ পর ৷ আমার মনের চিন্তা দূর হলো, আমি বললাম দাদা আমিও বাসের অপেক্ষায় আছি ৷ এই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভিজে-ভিজে বাসষ্ট্যান্ড পৌঁছে বাসে উঠি ৷ বাস চলছে আর বৃষ্টিও হচ্ছে, সেই বৃষ্টি শেষ হয়েছে ফারম গেইট আসার পর ৷ ফারম গেইট নেমে একটা রিক্সা নিয়ে সোজা চলে গেলাম চন্দিমা উদ্যান৷ রিক্সা থেকে নেমেই কাজী শহীদ শওকত দাদাকে ফোন করলাম, কাজী শহীদ শওকত দাদা বললো দাদা’ আমি বর্তমানে আব্দুল্লাহ পুর আছি, আসতে আরো ১ ঘন্টা লাগতে পারে ৷ একথা শুনে নিজের কাছে নিজে একা হয়ে গেলাম, কারণ হলো, এখানে’তো আমাকে আর কেউ চিনবে’না ৷ কার সাথে কথা বলবো, কার হাত ধরে হাটবো্ ইত্যাদি ইত্যাদি ৷

খানিক পর ফোন করলাম আইরিন সুলতানা দিদির কাছে, দিদি ফোন রিসিপ করে বললো, দাদা আপনি এখন কোথায়? আমি বললাম দিদি আমি’তো চন্দিমা উদ্যানের মূল’ফটকের সামনে’ই দাঁড়িয়ে আছি ৷ দিদি বললেন দাদা আপনি সোজা চলে আসুন লেকের উপর ব্রিজের সামনে, আমরা ব্রিজের উপরে’ই আছি ৷ দিদির কথা শুনে আমি সামনে হাঁটতে লাগলাম, অনেক খানি হাঁটার পর পিছন থেকে ডাক পড়লো এক পুলিশ ভাইয়ে’র ৷ বললো এই যে,দাঁড়ান ! কোথয় যাচ্ছেন আপনি? আমি হাঁটতে হাঁটতে জবাব দিলাম এখানে আমাদের একটা আড্ডা আছে’তো তাই যাচ্ছি সামনে ৷ পুলিশ ভাই বললো এখানে আড্ডা ! কোথায়? আমি বললাম এই যে চন্দিমা উদ্যানে ৷ পুলিশের সাথে কথা বলতে বলতে’ই আইরিন সুলতানা দিদির ফোন, তখন আমি ব্রিজের খুব সামনা-সামনি,আইরিন সুলতানা দিদি হয়তো ফলো করেছে, পুলিশ বেচারা আমার পিছু লেগেছে, তখন পুলিশের সামনে’ই আইরিন সুলতানা দিদির সাথে কথা বলছি ৷ ব্রিজের দিকে তাকাতে’ই দেখছি আইরিন সুলতানা দিদি হাত নেড়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন ৷

পুলিশ ভাই এই দৃশ্য দেখে’ই আমার কাছ থেকে পিছু হটে ৷ ব্রিজের উপর গিয়ে দেখতে পেলাম আইরিন সুলতানা দিদির সাথে আরো দুজন ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে, আগে আইরিন সুলতানা দিদিকে নমস্কার জানালাম, পরে কিছু একটা জিজ্ঞেস করার আগে’ই আইরিন সুলতানা দিদি পরিচয় করিয়ে দিলেন দুজনের সাথে ৷ একজন আমার গুরুমহাশয় জুলফিকার জুবায়ের সাহেব, আরেক জন যার আমন্ত্রণে এই চন্দিমা উদ্যানে আসা, তিনি হলেন সম্মানিত তানজির খান সাহেব ৷ সাথে আরো দুটো সোনামণি ছিল, তাদের দিকে আমি বেশি একটা ফলো করিনি ৷ কিছুক্ষণ পর আসলেন মহাগুরু সম্মানিত মোনেম অপু সাহেব, প্রণাম করলাম, আশীর্বাদ নিলাম ৷ জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছি, কী করছি ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ এর কিছুক্ষণ পর আসলেন কাজী শহীদ শওকত দাদা, হাসিমুখে সবার সামনে উপস্থিত ৷ তখন আমরা সবাই হাততালি দিয়ে কাজী শহীদ শওকত দাদাকে স্বাগত জানা’ই ৷ এরপ আস্তে আস্তে চন্দিমা উদ্যানের দিকে অগ্রসর হতে লাগলাম সবাই৷

আসতে আসতে’ই সাথের সোনামণিদের নাম জানা হলো, শ্রাবণ ও সুমনা, এখনো লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত ৷ তবু ব্লগের প্রতি ভালবাসা’ ব্লগারদের প্রতিও ভালবাসা তাদের অনেক ৷ তাইতো এত কষ্ট আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই কৃষ্ণচূড়া আড্ডায় যোগদান ৷ যেতে যেতে আমাদের সাথে যোগ হলেন আশিক ও ফারুখ, হাতে হাত মিলালাম কথা বললাম ৷ এই কৃষ্ণচূড়া আড্ডায় যোগদান করে আমার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাহলো “আন্তরিকতা” আমি দেখলাম আমরা যেন এক মায়ের পেটের ভাইয়ের মত ৷ যেন কতদিনের পরিচিত আমরা ! কত’না ভালবাসা আমার এই সহ ব্লগার ভাইদের অন্তরে ৷ চন্দিমা উদ্যানের রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ ভাবে বসলাম আমরা সবাই, এর মধ্যে আসলেন সম্মানিত মজিবর রহমান দাদা ও শফিক মিতুল দাদা ৷

আড্ডা আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠলো, একজন একজন করে কিছু কথাও রাখলেন সংক্ষিপ্ত ভাবে, আমি খানিক পর-পর শুধু ভিডিও করেই যাচ্ছি অনবরত সাথে ছিবিও উঠাচ্ছি ৷ এভাবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যামণির আগমন টের পাচ্ছি আমি, ভাবলাম আর’তো এই আনন্দধাম লগ্ন উপভোগ করতে পারলাম না’ জীবিকার টানে ৷ গন্তব্যে আমাকে পৌঁছাতে হবে তাড়াতাড়ি, দেরি না করে বললাম তানজির খান দাদার কাছে ৷ আমার কথা শুনে তানজির খান দাদা বললেন, তো ঠিক আছে যদি থাকতে নাইবা পাড়েন, তবে’তো আর ধরে রাখা যাবে না দাদা ৷ তখন সবাই আস্তে আস্তে সামনের দিকে অগ্রসর হলাম, চন্দিমা উদ্যানের সামনে ঢাকা-মিরপুর সড়কের কাছে আসলাম আমরা সবাই ৷

আইরিন সুলতানা দিদির সাথে ছিল চানাচুর ভাজা, চিপ্ স ও কিছু সুস্বাদু লজেন্স, সেগুলি সবাই মিলে খেলাম ৷ সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম, কিন্তু বিদায় নিয়ে আসতে পারলাম না মহাগুরু মোনেম অপু, গুরুমহাশয় জুলফিকার জুবায়ের, তানজির খান ও সম্মানিত মজিবর রহমান দাদা এ ক’জনের সাথে দেখা করে ৷ নারায়নগঞ্জ ফিরলাম রাত ৭:৩০ মিনিটের সময় ৷ পৌঁছার সাথে সাথে’ই আমার কর্ম শুরু করে রাত ১২টায় বাসায় গেলাম ৷ বাসা এসে’ই ভিডিও গুলো এডিটিং করা শুরু করে দিলাম নিজের মত করে ৷ এই কৃষ্ণচূড়া আড্ডা চির শরণীয় করে রাখতে ভিডিও গুলো ইউটিউবে আপলোড করতে লাগলাম পরদিন সকাল থেকে ৷ এক এক করে প্রথমে তিন খানা, পরে আরো তিন খানা, মোট ছয়’খানা ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করলাম যাতে এই কৃষ্ণচূড়া আড্ডা শরণীয় হয়ে থাকে সারাজীবন ৷ আশা করি থাকবেও সারাজীবন, এতে আর কোন প্রকার হেরফের হবেনা ৷ জীবনের শেষ সময়ও হয়তো ভিডিও গুলো দেখতে পারবো ৷ এই স্মরণীয় কৃষ্ণচূড়া আড্ডায় গিয়েছি খালি হাতে, এনেছি অনেক কিছু আমার হৃদয় ভরে ৷ যদি সবাই উপস্থিত থাকতো তবে আরো আনন্দ হতো, আরো স্মরণীয় হয়ে থাকতো এই ১৩ই মে ২০১৬ ইংরেজীর কৃষ্ণচূড়া আড্ডা ৷ DSCN9190CH6-1

CH7 CH5 CH4 CH3 IMG_20160513_153444 DSCN9177 IMG_20160513_173201CH2aDSCN9256DSCN9226DSCN9199received_m_mid_1463365704779_eb76e9594825a5f658_1CH8DSCN9163DSCN9160DSCN9217