ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

দীর্ঘদিন প্রেম-প্রেম খেলা শেষ করে, বহু কষ্টে মা’কে রাজি করিয়ে লোকটা কেবল বিয়েটা করল ৷ অভাবের সংসারে নববধূ, নবজীবনের সূচনায় যখন মশগুল, তখনই পড়ে গেল বেকারের রাহুগ্রাসে ৷ ছোটখাট একটা চাকরি করে, মা’কে নিয়ে শহরের এক মহল্লায় ভাড়াবাসায় থাকত কোনরকম ভাবে ৷ দুইটাকা আয় না থাকলেও ঋণ ছিলনা কোথাও ৷ এখন ঘরে নববধূ, তার উপর আবার চাকরি নেই ৷ চাকরিটা ছিল ব্যক্তিমালিকানাধীন, কাজ করলে মুজরি, কাজ না করলে মুজরি নাই ৷ ঘরে বৃদ্ধ মা’ সন্তানের কষ্টতো মায়ের সহ্যই হয় না ৷ ঘরে চাউল নেই, ডাউল নেই, তৈল নেই ৷ বৃদ্ধ মা’ মানুষের ঘর হতে হাওলাৎ করতে করতে অনেক করেছে ৷ এখন আর কারো কাছে হাওলাৎ পায় না ৷ হাওলাতের জন্য গেলেই, আগের পাওনা পরিশোধ করার তাগিদ দেয় ৷ হাওলাৎ না পেয়ে, নিরাশ হয়ে ঘরে এসে নিরালে বসে চুপিচুপি কান্না ছাড়া, আর কিছুই করার নেই মায়ের ৷ লোকটার চাকরি না থাকার কারণে, শহরে ঘুরে ঘুরে অনেক রকমের দিনমজুরির কাজও করতে হয়েছে ৷ দিনমজুরির কাজ তো একদিন পেলে পরের দিন আর হয় না, কখনো রিকশা, কখনো রাজযোগালি, কখনো বা ঠেলাগাড়ি ৷ এখন আর ওইসব কাজ করতে লোকটার আর ভাল লাগছে না ৷ কিন্তু কী করবে? কাজ না করলে তো অভাব পিছু ছাড়ছে না কিছুতেই ৷

লোকটা ভীষণ চিন্তায় পরে গেল, উপায়ান্তর না দেখে বিয়েতে কন্যাসম্প্রদানে দেওয়া শ্রীআংটিখানা বিক্রি করে দেয়, যার মূল্য হিসেবে পায় ১২০০/=টাকা ৷ এই ১২০০/=টাকা হাতে পেয়ে লোকটা চিন্তায় অস্থির ৷ বিয়েতে মেয়ের বাবার দেয়া আংটিখানাও শেষ করে দিলাম? এখন এই টাকা দিয়ে কিছু একটা যদি না করা যায়, তো সব শেষ ৷ না, শেষ হবে কেন? এইটাকা দিয়েই কিছু একটা করতে হবে লোকটাকে, ভাবতে লাগল লোকটা আপন মনে ৷ এমন সময় বাড়িতে এক ফেরিওয়ালার আগমন ৷ মেয়েদের প্রসাধনী বিক্রেতা, মানে লেইছ,ফিতাওয়ালা ৷ নতুন বউ গ্রামের মেয়ে, স্বামীর কিছু না থাকলেও তাতে কি শহরেতো বসবাস? এটাই মেয়েটার জন্য একটা বিদেশ ৷ বাড়ির ভিতরে ভাড়াটিয়া মেয়েরা ফেরিওয়ালাকে ডেকে এনে, বাড়ির উঠানে পাটি বিছাইয়ে দিল, ফেরিওয়ালার প্রসাধনীর গাট্টিখানা রাখার জন্য ৷ বাড়ির সব মেয়েরা ফেরিওয়ালাকে ঘিরে রেখে তাঁদের পছন্দের প্রসাধনী কিনছে ৷ কেউ চুড়ি, কেউ টিপ, কেউ পাউডার, কেউ স্নো ৷ তখন শহরের আনাচেকানাচে এত কসমেটিক্সের দোকান ছিল না ৷ শহরের নিম্ন আয়ের পরিবারের মেয়েদের, সাজগোজর জিনিসের জন্য একমাত্র সম্বল ছিল এই লেইছ,ফিতাওয়ালা ৷ ব্যবসাও ভালো ছিল তাদের ৷ দেড়টাকার কেনা একটা লিপিষ্টিক, বিক্রি করতো তিন-চার টাকা ৷ সারাদিন ঘুরে দুইশ টাকা বিক্রি করতে পারলেই হলো, ব্যাস, আর কি লাগে!! অর্ধেক অর্ধেক লাভ ৷ নববধূ ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে ৷ নববধূরও মন চায় কিছু কিনতে, কিন্তু টাকা পাবে কোথায়? শুনেছে স্বামীর চাকরি নেই ৷ পাঁচটা টাকা চাইতে গেলে যদি গালমন্দ শুনতে হয়? এই ভেবে নববধূ আর স্বামীর কাছে গিয়ে পাঁচটা টাকা চাওয়ার সাহস পাচ্ছে না ৷ মন খারাপ করে ঘরের দরজায়ই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে বাড়ির মেয়েদের কেনা-কাটা ৷ শাশুড়ী চেয়ে চেয়ে দেখছে বউমার মন খারাপের দৃশ্যটা ৷ শাশুড়ী মা’ও তো কোন এক সময় যুবতী মেয়ে ছিল ৷ যা, এখন মেয়ে থেকে বুড়ি বা বৃদ্ধ৷ শাশুড়ী নববধূকে বলছে, বউমা তুমি কিছু কিনবে নাকি? স্নো,পাউডার? যাও দেখি কি কিনবে তুমি ৷ শাশুড়ী’মা তখন ছেলেকে বলল, তোর কাছে কি দশটা টাকা হবে? ছেলে বলল, কেন মা? বলল, বাড়িতে লেইছ,ফিতাওয়ালা আসছে ৷ বউ’মাকে দিবো কিছু কিনবে, থাকলে দে তো!! ছেলে দশটি টাকা মায়ের হাতে দিয়ে বলল, মা তুমি গিয়ে কিনে দাও ৷ ওর কাছে জিনিসের দাম বেশি নিবে, গ্রামের মেয়ে তো তাই ৷

মা দশটাকা হাতে নিয়ে বউমাকে সাথে করে ফেরিওয়ালার কাছে আসলো ৷ একপাতা ক্লিপ, একপাতা টিপ, একটা লিপস্টিক হাতে নয়ে বলছে মা’ আমার আর কিছু লাগবে না, এগুলি হলেই চলবে ৷ শাশুড়ী মা’ বললেন, আচ্ছা বউ মা’ তুমি ঘরে যাও, আমি দাম দিয়ে আসছি ৷ বউ মা’ ভীষণ খুশি, ঘরে গিয়ে তাঁর স্বামীকে বলছে, দেখ দেখ মা’আমাকে কত কী কিনে দিয়েছে? বউ এর কথায় লোকটা বেশি আনন্দিত হলো না ৷ আগামীকাল কী করবে সেই চিন্তায় অস্থির, বউ এর কথা কি তখন ভাল লাগে? মনে মনে বিরক্ত হয়ে, ঘর থেকে বের হলো ৷ সামনেই ফেরিওয়ালা সওদা বিক্রি করছে মেযেদের কাছে ৷ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো লোকটা ৷ মনে মনে ভাবতে লাগলে, আমারও তো একজন পরিচিত লোক আছে, যিনি ফেরি করে সংসার চালায় ৷ লোকটা তো আমার সাথেই চাকরি করেছে একসময় ৷ মালিকদের আচার-ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে, এখন মহল্লায় মহল্লায় লেইছফিতা ফেরি করে ৷ এই ভেবে লোকটা ওই পরিচিত ফেরিওয়ালার পথ অনুসরণ করতে লাগলে ৷ পরিচিত ফেরিওয়ালা থাকে শহর থেকে একটু দূরে, এই দশমিনিটের পথ ৷ পরিচিত ফেরিওয়ালা লোকটা খুবই ভালো মানুষ, মন মানসিকতাও ভালো ৷ পরের বিপদে নিজের কিছু না থাকলেও ঝাঁপিয়ে পড়ে ৷ লোকটার কাছে যাওয়ার সাথে সাথেই, ফেরিওয়ালা লোকটা বুঝে গিয়েছে যে, লোকটা কেন এসেছে ৷

আগেই জেনেছে চাকরি নাই, কারখানা বন্ধ ৷ লোকটা ফেরিওয়ালাকে নিজের বেকারত্বের বর্ণনা দিয়ে বললেন, এখন কী করি ভাই, একটা বুদ্ধি দিন ৷ ফেরিওয়ালা জিজ্ঞেস করলেন, আমার মত ফেরি করতে পারবেন? জবাবে লোকটা বলল, হাঁ বেশ পারবো!! ফেরিওয়ালা বলল, আপনার কাছে টাকার সংখ্যা কত আছে? লোকটি বলল, এই ধরুন, হাজার খানিক!! তা-ও অতি কষ্ট করে জোগার করিছি ৷ বিয়েতে মেয়ের বাড়ি থেকে পাওয়া আংটিখানা লোকের কাছে বন্ধক রেখে ১২০০/=টাকা সংগ্রহ করেছি ৷ তার মধ্যে দুইশ টাকা খরচ করে ফেলেছি সংসারে, এখন আছে হাজার খানিক টাকা ৷ ফেরিওয়ালা বলল, যা আছে হয়ে যাবে আশা করি ৷ আজকে বিকালবেলা আমার সাথে যেতে পারবেন? লোকটা বলল, কোথায়? ফেরিওয়ালা বলল, যেখান থেকে আমরা ফেরিওয়ালারা মাল ক্রয় করে আনি, সেখানে ৷ লোকটা বলল, পারবো পারবো মানে! একশতবার পারবো ৷ ফেরিওয়ালা বলল, বেশ’তো তাহলে আপনি এখন বাসায় চলে যান ৷ বিকালবেলা ঠিক পাঁচটায় আমার এখানে চলে আসবেন ৷ এর মধ্যে ফেরিওয়ালা লোকটার ফেরি করার জন্য যা কিছুর প্রয়োজন সব ঠিকঠাক করে রাখল ৷

লোকটা ফেরিওয়ালার কথা মত লোকটা বাসায় চলে আসে ৷ বাসায় ফিরে গা’ গোসল করে, হাল্কা-পাতলা কিছু খেয়ে, ঠিক পাঁচটায় রওনা দিল ফেরিওয়ালার বাড়ি ৷ ফেরিওয়ালা লোকটাকে সাথে নিয়ে রওনা দিল, চকবাজারের উদ্দেশে ৷ লেইছ,ফিতা যারা বিক্রি করে, তাঁরা চকবাজার হকার মার্কেট থেকেই মাল ক্রয় করে থাকে ৷ মহিলাদের সাজ-গোজ আর বিলাসিতার যেত মালামাল আছে, তার বেশির ভাগই হচ্ছে চকবাজারের মাল ৷ দুইজনে গেলেন চকবাজার, লেইছ,ফিতার মাল কিনতে ৷

ফেরিওয়ালা দেখে-শুনে লোকটাকে বর্তমানে যেসব মাল বেশি বিক্রি হয়, সেসব মালগুলি কিনে দিল ৷ ফেরিওয়ালার নিজের জন্যও কিনলো, উনার যা যা দরকার, সেসব মালগুলি ৷ কিনা-কাটা করে দুইজনে বাড়ি ফিরে এলো ৷ বাড়ি ফিরে ফেরিওয়ালা লোকটার জন্য আগেই চারটে ব্লু-ক্রস দুধের বাক্স খরিদ করে ঘর রেখেছিল, যেটা ছাড়া আর ফেরিওয়ালা করা সম্ভব হবে না ৷ লোকটাকে সাথে নিয়েই বাক্স চারটে মাঝখান দিয়ে কাটলো ৷ মানে একটা বাক্সকে কেটে অর্ধেক অর্ধেক করলো ৷ সেই দুইপার্টের বাক্স, একটকর ভিতরে আরেকটা ঢুকিয়ে, বাক্সটাকে হাফবাক্স তৈরি করে ফেলল ৷ সেই একেক বাক্সের ভিতরে একেক ধরণের মাল দিয়ে সাজিয়ে দিয়ে, একটা বড় আকারের মোটা কাপর দিয়ে খুব সুন্দর করে বেঁধে দিলো ৷ কোন বাক্সে চুড়ি, কোন বাক্সে ফিতা, কোন বাক্সে স্নো-পাউডার-আলতা এইসব দিয়ে ৷ আবার কানেরদুলের জন্য একটা হতের সুকেশও আগে থেকে কিনে রেখেছে ৷ সেই সুকেসের ভিতরে সাজিয়ে দিল, কানের দুল, মাথার বেন্ড, চুলের খোঁপা ইত্যাদি ইত্যাদি দিয়ে ৷ ওইসব মাল বাক্সে ঠেসে দিয়ে, ফেরিওয়ালা লোকটাকে বলল, দেখুনতো, আপনার কাঁধে নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরতে পারবেন কিনা? লোকটা দেখল, দেখে বলল, হাঁ গুরু, আমি পারবো কোন অসুবিধা হবে না ৷

ফেরিওয়ালা বলল, তাহলে এখন এই লেইছ,ফিতার গাট্টিখানা নিয়ে সোজাসুজি বাসায় নিয়ে যান ৷ সকালবেলা নাস্তা-পানি সেরে, আস্তে আস্তে গ্রামের দিকে রওনা হবেন বিক্রির জন্য ৷ চকবাজার থেকে মাল কেনার পর, হাতে টাকা আছে প্রায় একশ টাকার মতো ৷ তখন প্রতি কেজি চাউলের মূল্য ছিল, পাঁচটাকা থেকে সাড়ে পাঁচটাকা ৷ লোকটা ভাবছে এই একশ টাকা দিয়ে অন্তত তিনদিন চলতে হবে ৷ এইসব ভাবতে ভাবতে গুরুর আশীর্বাদ নিয়ে, গুরুর বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে,ফিরতে লাগল নিজের গন্তব্যের উদ্দেশে ৷ লজ্জা হচ্ছে লোকটার, ভীষণ লজ্জা ৷ হাঁটতে হাঁটতে লোকটার ছোটবেয়ায় স্কুল জীবনের, ষষ্ঠশ্রেনীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের একটা কবিতা কথা মনে পড়ে যায় ৷ “নবীর শিক্ষা” লিখেছিলেন “শেখ হাবিবুর রহমান
তিন দিন হতে খেতে না পাই, নাই কিছু মোর ঘরে,
দারা পরিবার বাড়িতে আমার উপোস করিয়া মরে ৷
নাহি পাই কাজ তাই ত্যাজি লাজ বেড়াই ভিক্ষা করি,
হে দয়াল নবী, দাও কিছু মোরে নহিলে পরাণে মরি ৷
আরবের নবী করুণার ছবি ভিখারির পানে চাহি,
কোমল কণ্ঠে কহিলা, তোমার ঘরে কি কিছুই নাহি?'
বলিল-সে, আছে শুধু মোর কম্বল একখানি,
কহিল রসূল, এক্ষণি গিয়া দাও তাহা মোরে আনি ৷
সম্বল তার কম্বলখানি বেচিয়া তাহার করে,
অর্ধেক দাম দিলেন রসূল খাদ্য কেনার তরে ৷
বাকি টাকা দিয়া কিনিয়া কুঠার, হাতল লাগায় নিজে,
কহিলেন যাও কাঠ কেটে খাও দেখ খোদা করে কি যে ৷
সেদিন হতে শ্রম সাধনায় ঢালিল ভিখারি প্রাণ ,
বনের কাষ্ঠ বাজারে বেচিয়া দিন করে গুজরান ৷
অভাব তহার রহিল না আর রহিল সে সুখী ভবে,
নবীর শিক্ষা করেনা ভিক্ষা মেহনত কর সবে ৷

তখন সেই লজ্জাকে উপেক্ষা করে চলে আসলো নিজের বাসার সামনে ৷ লোকটা যে, ফেরি করবে বা লেইছফিতা বিক্রি করবে, তাঁর বাসার কেউ জানে না ৷ লোকটা যখন লেইছফিতার গাট্টিখানা নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো, তখন বাড়ির সবাই অবাক হয়ে গেল ৷ কৌতুহলী ভাড়াটিয়ারা তাকে দেখার জন্য, তাঁর বাসার সামনে ভিড় জমাতে লাগল ৷ লোকটার মা’ জিজ্ঞেস করলো, এটা কী? বলল, মা’ চাকরিতো সহসা আর হচ্ছে না, তাই বলে কি বসে থাকবো? একটা কিছু করে সংসার তো চালাতে হবে!! তাই আমি মনস্থির করে লেইছফিতার মাল নিয়ে এসেছি বিক্রি করার জন্য ৷ লোকটার বৃদ্ধ মা’ তখন শুধু বলল, তুই বাবা পারবিতো? পারলে ভালো, চুরিতো নয় ৷ ঘরের নতুন বউ বললো তুমি কি পারবে এইসব বিক্রী করতে? লোকটা বলল, না পারার কী আছে? তুমি চিন্তা করবে না, আমি ঠিকই পারবো ৷ না পারলেও তো করতে হবে, না হয় এই শহরের ভাড়াবাড়িতে থাকব কী করে ৷ মানূষের সাধ্যের বাহিরে কিছুই নেই, ইচ্ছা করলেই উপায় হয় ৷ আমারও ইচ্ছার বলে উপায় হয়ে যাবে, এই লেইছফিতার গাট্টিখানা নিয়ে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে-ঘুরে কিছু করার ৷ কাল সকালে বিক্রীর জন্য মহল্লায় মহল্লায় বেরুবো গাট্টিখানা নিয়ে দেখি কী হয় ৷

যে কথা, সেই কাজ ৷ সকালবেলা সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে, গুরুর নাম মুখে নিয়ে ঘর থেকে যাত্রা করে বাহির হলো ৷ যেই বাড়িতে ভাড়া থাকে, সেই বাড়িতেই বিক্রি শুরু করে দিল, কিছু মাল বিক্রি করে চলে গেল অন্য মহল্লায় ৷ নতুন ফেরিওয়ালা, নতুন মাল, বিক্রীও হচ্ছে ভাল ৷ এভাবে সারাদিন ঘুরে ঘুরে প্রায় তিন চারশ টাকা বিক্রি করে ফেলল, প্রথম দিনে ৷ পরদিন সকালবেলা আবার বেরুলো গাট্টিখানা নিয়ে মহল্লায়, সেদিনও প্রায় তিন চারশ টাকা বিক্রি হলো ৷ আবার চকবাজার থেকে কিছু মালামাল কিনে আনল, বিক্রির জন্য ৷ এভাবে চলতে থাকল ফেরিওয়ালার সংসার, রইলনা অভাব, দূর হলো হতাশা, বন্ধ হলো পাছে লোকের কিছু বলা ৷ এমনি করে চলতে চলতে, একবছর পর আবার লোকটার চাকরির খবর হল, কারখানা চালু হল ৷ পুনরায় চাকরিতে যোগদান করলেন ৷ ইচ্ছা আর পরিশ্রম করার কারণে, লোকটা বেকারত্বের কাছে পরাজয় বরণ করেনি ৷ সেই লেইছ,ফিতাওয়ালা আজও বেঁচে আছে, আমাদের মাঝে ৷ “পরিশ্রমে ধন আনে, পূর্ণে আনে সুখ ৷
আলস্যে দরিদ্রতা আনে, পাপে আনে দুঃখ
৷ অলসতায় মানুষকে ধ্বংস করে, পরিশ্রমে এনে দেয় সুখ ৷