ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

Elephant01

পাহাড়ি ঢলে ভারতীয় একটা বন্য হাতি ২০০ কিলেমিটার পথ ভাসতে ভাসতে আমাদের বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় ৷ এটা আমাদের জন্য একটা সু-ভাগ্যের ব্যাপার, যেহেতু এটা ভারতীয় একটা বন্য হাতি। সেই বন্য হাতিকে নিয়ে আমাদের কত ব্যস্ততা, কত ভালবাসা, যেন স্বর্গ থেকে প্রেরিত এক দেবতা। আমরা রাষ্ট্রীয় ভাবে এটিকে আদর সোহাগ দিয়ে চোখে-চোখে রাখছি, এই দেবহাতি’র যেন কোন প্রকার সমস্যা না হয়।

24195-untitled-2

এর মধ্যে কিছুদিন আগে এই দেবহাতি’র খোঁজে ভারত থেকে পশুবিশেষজ্ঞ একটি দল বাংলাদেশে আসে হাতিটাকে ফিরিয়ে নেওয়া জন্য। সেই বিশেষজ্ঞদেরও সমাদর করে, রাখতে হচ্ছে আমাদের, যাতে আমাদের বদনাম না হয় ভারতের কাছে। আমরা সেই বন্য হাতিটিকে আর উদ্ধার কাজে আসা অতিথিদের খেদমতের ত্রুটিবিচ্যুতি করি নাই। আমরা যা করেছি, শুধু ভারতের একটু ভালবাসা পাওয়ার জন্যই করেছি।

এই ভালবাসার অবদান ভারত আমাদের দিবে কি? মনে হয় না। কারণ, এই ভারত তো বর্তমানে আমাদের জন্য এক হৃদয়হীনা একটা দেশ। যা ভালবাসা দিয়েছিল, সেই মহান মুক্তিযোদ্ধের সময়, তখন হয়তো ভারতের স্বার্থও ছিল, স্বার্থ যখন অাদায় হয়ে যায়, তখন কি আর ভালবাসা থাকে? থাকে না, তখন হয়ে যায় পর। সময় সময় শত্রুও হয়ে যায় সেই পরম বন্ধুটি, দুশমনিও করতে থাকে ক্ষণেক্ষণে।

তাই যদি না হত, তাহলে বন্ধ হয় না কেন বর্ডার হত্যা? ফেলানীকে কেন জীবন দিতে হল বর্ডারের কাঁটাতারের বেড়ায়? এখনো চলছে অহরহ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ।

images-10

আমারা তাদের যতই ভালবাসি, তাঁরা কিন্তু আমাদের মোটেই ভালবাসেনা। যদি ঠিকই আমাদের ভালবাসে, তো এই বন্যহাতির ভালবাসার বিনিময়ে বন্ধ হোক সীমান্ত হত্যা। তোমরা ভালবাসা যদি না ই জান, তবে আমাদের কাছ থেকে ভালবাসা শিখে নাও, যেমন দিয়েছি হাতিটাকে ভালবাসা! সেটা দেখে তোমরা শিখো ভালবাসা কারে কয়!

আমরা জাগ্রত বাঙ্গালী, জেগে ওঠার কৌশল আমরা জানি, আমাদের আছে অফুরন্ত ভালবাসা, আমরা ভালবাসা দিয়েই করব বিশ্ব জয়।