ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

IMG_20160815_111424~2

১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোকদিবস ২০১৬ই ৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়নগঞ্জ সিটি ১০ নং ওয়ার্ডের বাংলাদেশ সমবায় শিল্প সংস্থা (সীঃ) অভ্যন্তরে এক কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়, এই কাঙালি ভোজের উদ্যোক্তা সংস্থার অভ্যন্তরে বসবাসকারী মোঃ শাহ-জাহান মিয়া ৷এখানে চাউল-ডাউল দিয়ে খিচুড়ি করা হয়, মাঝে মাঝে সাথে মাংস মিশ্রিত করে রান্না করা হয় ৷ কথা ছিল নিরামিষ খিচুড়ি করবে, কিন্তু তা আর হল না ৷ টাকার অংক একটু ভারি হওয়াতে মাংসের ব্যবস্থা হয়ে গেল, মাংস না দিলে তো খিচুড়ি মজাই হবে না ৷ তারপর সংস্থার অভ্যন্তরে থাকা কিছু হিন্দুদের অনুরোধে গোমাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস মিশ্রিত করে খিচুড়ি রান্না করা হয় ৷ যা ধনী-গরিব,ফকির-মিসকিনদের মাঝে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় ৷তারমধ্যে যেসব হিন্দুরা মাংস খায়, তাঁরা খেয়েছে, আর যারা নিরামিষ ভোজি তাঁরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছে ৷

IMG_20160815_111442~2

 

এদেশে আরো বহু জায়গা আছে, যেখানে ১৫ই আগষ্টের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা হয়, সেখানে গোমাংস মিশ্রিত করে খিচুড়ি বা বিরিয়ানী রান্না হয়, যা হিন্দু মানুষের খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও খেতে পারে না এই গোমাংসের কারণে ৷ কিছু কিছু হিন্দুদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকীর খিচুড়ি বা বিরিয়ানী খাইছেন? প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়, ক্যামনে খাইমু, ওরা সব কিছুর মধ্যে গরুর মাংস দেয় ৷ খাওনের তো ইচ্ছা আছিলো, ওইডা দিয়াই ত নষ্ট ডা করছে, ধর্মীয় নিষেধের জন্য আর খাইতে পারলাম না ৷ আয়োজকদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, হিন্দুদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করা আছে কিনা? প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়, হাঁ আছে! তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা আছে, ভিন্ন ভাবে ৷ ভিন্ন ভাবে বলতে বোঝা যায়, একই ডেকে, একই বাবুর্চি দিয়ে রান্না করে আলাদা করে রাখা হয়, যা হিন্দুদের জন্য ৷ এখন কথা হল, আলাদা কেন হবে, একসাথে হতে পারেনা? একসাথে হলে আরো বেশি ভালো হয়, যা হওয়ার দরকার ছিল নিরামিষ ৷

অথচ এই হিন্দুদের নাকি পিঠে-বুকে লেখা থাকে আওয়ামী লীগ, লেখা থাকে জাতির জনকের নাম ৷ সেই হিন্দুরাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর তবারক খেতে পারেনা ৷ গোমাংস না দিলে কি খিচুড়ি শুদ্ধ হবে না? যেই টাকা খরচ করে গোমাংস দেওয়া হয়, তার চেয়ে মুগ ডাউল আর সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করলে আশা করি আরো ভালো হবে ৷ এদেশে বহু হিন্দু আছে যারা নিরামিষ ভোজি, তাঁরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে, আর শাহাদাৎ বার্ষিকীর আয়োজকরা ভুড়ি ভরবে ৷

এদেশে বহু হিন্দু আছে তাঁরা জাতির জনকের একনিষ্ঠ ভক্ত, তাঁদেরও তো তাঁর শাহাদাৎ বার্ষিকীর তবারক খেতে মন চায়, খেতে পারেনা একমাত্র গোমাংসের কারণে ৷ এখন বোঝা যায় জাতির জনকের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে হিন্দুরা ছাড়া ধনী-গরিব সবাই কাঙ্গালি ৷ তাই হচ্ছে কাঙালি ভোজ আর ভুড়ি ভোজ।