ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

আমরা মানুষ, মান+হুশ= মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি এই দুনিয়ার মাঝে। আমরা মানুষ তাই, অনেক সময় বেহুঁশ হয়ে জরিয়ে পরি নানা অপকর্মে, জরিয়ে পরার আগে আমরা একটুও চিন্তা করিনা যে, এই বেহুঁশের অপরাধের মাত্রা কতটুকু ছাড়িয়ে যাবে। এই বেহুঁশের মধ্যে একটা আছে ‘লোভ’। একটা কথা আছে, “লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু”, মানুষের প্রতিটি কর্মের মধ্যেই লোভ মিশ্রিত।

যেমন: প্রেমিকাকে পাওয়ার লোভ; প্রেমিকাকে পেতে হলে অনেক কঠিন কর্মও কেতে হয়। প্রাচুর্য গড়ার লোভ; প্রাচুর্য গড়তে হলে অনেক অনেক কষ্টসাধন করতে হয়। ক্ষমতার লোভ; ক্ষমতা পেতে হলে তো বহু ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার লোভ; ডাকাতি বা ব্যাংক লুট, তাও কম পরিশ্রমের ব্যাপার নয়। ব্যবসায় বেশি মুনাফার লোভ; কথায় কথায় কসম খাওয়া, মিথ্যে কথা বলে ক্রেতার কাছ থেকে বেশি দাম আদায় করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

লোভ ছাড়া মানুষ অর্থহীন, প্রতিটি মানুষের লোভ আছে, কারো সু’লোভ, কারো কু’লোভ। কেউ করে কুকর্ম, কেউ করে সুকর্ম। কেউ নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েও পরের উপকারের জন্য থাকে সদা ব্যস্ত, কেউ নিজের স্বার্থ হাছিলের জন্য থাকে ব্যস্ত। নিজের স্বার্থচিন্তা করে, নিজের রক্তের সাথেও করে বেঈমানি। লোভ কতপ্রকারের হতে পারে তা আমার জানা নাই, তবে এই পৃথিবীতে যতপ্রকার কর্ম আছে, লোভ হয়তো ততপ্রকারের। লোভ আছে, কর্ম আছে, কর্ম নাই লোভের প্রয়োজন নাই।

কেননা, কর্ম ছাড়াও মানুষের জীবন অর্থহীন, কারণ: সব মানুষেই যে কোন একটা কর্মের ওপর নির্ভরশীল। পাগলেরও একটা কর্ম আছে, তাঁরও কর্ম করে চলতে হয়, আর সব চাইতে বেশি কর্মমুখী মানুষ হল যারা বেকার তাঁরা। একজন বেকার মানুষ, একজন কর্মজীবী মানুষের চেয়েও বেশি কর্মমুখী হয়ে ঘোরাঘুরি করে থাকে বেকারত্ব দূর করার জন্য।

এখন কথা হচ্ছে লোভ! একটা কর্ম করার আগে আশা জাগে, লোভ জাগে, লালসা জাগে কর্মফলের প্রতি, সেই কর্মফল ভালো হতে পারে, খারাপও হতে পারে। কর্ম আন্দাজ যদি লোভের পাল্লা বেশি ভারি হয়, তো বিপদ। কর্ম করি শুধু সৃষ্টিকর্তার নামে, সেই কর্মফল হবে সুখকর, মধুময়। লোভ করি শুধু সৃষ্টিকর্তাকে পাবার, তাহলে এই দুনিয়ায় পাব স্বর্গসুখ।

“ভাবিয়া কর কাজ, করিয়া ভেবো না”
“সর্বকর্মেই সৃষ্টিকর্তা, চেখ মেলিয়া দেখ না”।