ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 
24_tongifire_amo_100916_0006

খবর ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখলাম যা, এখনো দেখা যাচ্ছে, শনিবার সকালে গাজীপুর টঙ্গী বিসিক এলাকায় একটি প্যাকেজিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্ততঃ ২৪ জন নিহত ও ৪০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে ৷ তার মধ্যে দুইজন পথচারী নারী ও একজন রিকশা চালক নিহত হয়েছেন বলে জানা যায় ৷ এটাই হতে পারে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার খবর ৷ শনিবার পবিত্র ঈদুল-আযহা’র ছুটি হওয়ার কথা ছিল, ওই কারখানায় মোট শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০০শ জনের মত ৷ ঈদের বেতন বোনাস হয়ে গেছে আরো একদিন আগে, বেশির ভাগ শ্রমিক ঈদের ছুটিতে ছিল ৷ একটা কারখানায় শিফট বাই শিফট ডিউটি থাকে সেটা আমাদের সবাই’র জানা, কারখানার শেষ শিফট ছিল শুক্রবার রাতে শুরু হয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত, সেই সময়ের মধ্যেই হল এই দুর্ঘটনা ৷ হতভাগা শ্রমিকেরা ডিউটি শেষ করে উপভোগ করবে ঈদের ছুটির আনন্দ, সেই আনন্দ নিরানন্দ হয়ে লাশ হতে হল শ্রমিকদের ৷ যেই ডিপার্টমেন্টে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে, সেই ডিপার্টমেন্টের শ্রমিক সংখ্যা ছিল ৭৫ জনের মত, বিস্ফোরণের অগ্নিকাণ্ডে সবাই হতাহত ৷ কী কারণে এই ভয়াবহ বয়ছ বিস্ফোরণ, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্তকমিটি গঠন করেছেন সরকার ৷ এতে মালিকপক্ষের কোন গাফিলতি আছে কিনা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে আশা করি ৷

তাদের আর ঈদ উপভোগ হল না, কাউকে যেতে হল চিরদিনের বাড়ি, কেউ গেল হাসপাতালে ৷ তাঁদের পরিবার পরিজনেরও সব আনন্দ নিরানন্দ হয়ে গেল একটি দুর্ঘটনায়, কোরবানি ঈদের দুইদিন আগেই প্রিয়জনের হল জান কোরবান ৷ ইতিমধ্যে দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছেন, যারা নিহত হয়েছেন তাঁদের পরিবার পাবে ২ লাখ টাকা, ও অহত ব্যক্তিরা পাবে চিকিৎসা সেবা ৷ এটা খুবই ভাল উদ্যোগ নিয়েছেন আমাদের দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয় ৷ মন্ত্রণালয়ের সাথে সাথে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছেন যে, নিহতের পরিবারকে দিবে ২০ হাজার টাকা, আর আহতদের দিবেন ৫ হাজার টাকা ৷ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও মানবিক উদ্যোগ, গরিবের প্রতি সহানুভূতি ৷

এখন কথা হচ্ছে, ওই কারখানার একটা শ্রমিকের বেতন কত ছিল? সবার জানা মতে বর্তমানে একটা কারখানার একটা হেলপারের বেতনও প্রায় দশ হাজার টাকা ৷ দশ হাজার টাকা করে বেতন হলে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুই বছরে হয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ৷ নিহত ব্যক্তি যদি দুইবছর বেঁচে থাকতো তাহলে কামাই করতো ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, আর এখন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়াতে পাচ্ছে মাত্র এককালীন ২ লাখ টাকা ৷ তাও খারাপ নয়, “ভিক্ষার চাউল আকাড়াও ভাল”, এই টাকা দিয়ে একটা গরিব পরিবার একটা ছোটখাট ব্যবসা করে মোটামুটি ভাবে চলে যেতে পারবে আশা করি ৷

প্রশ্ন হল, সরকার মৃত শ্রমিকদের দিবে অনুদান, জেলা প্রশাসনও দিবে অনুদান নিহতদের অসহায় পরিবারদের জন্য ৷ যেই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিকেরা হতাহত হয়েছেন, সেই কারখানার মালিকপক্ষ হতাহতদের কী দিবেন সেটা এখনো শোনা যাচ্ছে না ৷ আর অগ্নিকাণ্ডে ভবন ধসে পড়ে পথচারি মহিলা দুইজন ও নিহত রিকশা চালক কী পাবে সেটাও শুনছি না ৷ আশা করি জেলা প্রশাসন সেই ব্যাপারেও একটা সিদ্ধান্ত নিবেন, যাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারবর্গ যেন ঠিকমতো সঠিক অনুদান সমান ভাবে পায় ৷ কেউ যেন নিরাশ না হয় সেই কামনাই করছি ৷

images-15

ছবি সংগ্রহ: গুগল,