ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

img_20161222_1030232

ছবিটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ড, গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে তোলা ৷ এখানে পুরুষ আর মহিলা ভোটাররা আলাদা আলাদা ভাবে যার যার মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করে ৷ আমিও এই কেন্দ্রেই ভোট দিয়েছি, বিদ্যালয়টির তৃতীয় তলায় ৷ আজ ২২ ডিসেম্বর, রোজ বৃহস্পতিবার ছিল নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন ৷ সকাল থেকেই পাড়া-মহল্লার দেখা যায় সাজ-সাজ ভাব আর উৎসাহ উদ্দীপনা ৷ মহল্লায় বসবাসকারী ভোটার মহিলারা ভোর থেকেই সংসারের নিয়মিত কাজগুলো সেরে ফেলতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ৷ কারণ: সকাল আট ঘটিকা হতে শুরু হবে ভোট গ্রহণ তাই এই ব্যস্ততার কারণ৷ এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ১০ নং ওয়ার্ডের মহিলা-পুরুদের ব্যস্ততা একরকম-ই চোখে পড়ে ৷
img_20161222_1029212

ছবি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০নং ওয়ার্ডের গোদনাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলা থেকে তোলা ৷ ছবিতে দেখা যায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে মহিলা ভোটারা ভোট প্রয়োগের জন্য দাঁড়িয়ে আছে এরমধ্যে গতরাতে ছিল এক অন্যরকম পরিস্থিতি ৷ নারায়ণগঞ্জবাসীকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশ এলো, রাত দশটার মধ্যেই যেন সকল দোকানপাট বন্ধ করে ফেলা হয়, তখন রাত নয়টা ৷ বিজিবির এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে মহল্লার সব দোকানদার, তাদের দোকান বন্ধ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে ৷ রাত ৯.৩০মি: এর সময়, মহল্লার মসজিদের মাইকে বিজিবির সদস্যরা আবারও ঘোষণা দেয় দোকান বন্ধ করার জন্য, যেই কথা, সেই কাজ ৷ রাত দশটার পর শহরের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রর সামনে আর কোন দোকানপাট খোলা থাকতে দেখা যায়নি ৷
img_20161222_1003342

ছবিটি ২২ডিসেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০নং ওয়ার্ড গোদনাইল রসূলবাগ থেকে তোলা ৷ ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য যার-যার স্লিপ সংগ্রহে ব্যস্ত, আইডি কার্ডের নম্বরের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছে ভোটার নম্বর ৷  তারপর রাত শেষে সকাল থেকে শহরের কোথাও কোন গাড়ি চলতে দেখা যায়নি ৷ গাড়ি চলছে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বহনকারি গাড়ি আর আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনী ও মিডিয়া সংবাদিকদের গাড়ি ৷ এছাড়া আর একটা যাত্রী বহনকারী রিকশাও চলতে দেখা যায়নি ৷ সবখানেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীও ছিল তৎপর ৷ খানিক পরপর র‌্যাব-পুলিশের গাড়ির বহর আর মিডিয়া সংবাদিকদের ভিডিও ক্যামেরাসহ কেন্দ্রে কেন্দ্রে আনাগোনা ৷ আরো দেখা যায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতাকারী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আনাগোনা আর প্রতিটা চাদোকানে আড্ডা ৷ প্রার্থীদ্বয়ের অনুসারিরা ভোটারদের সাথে কথা বলছে, বোঝাচ্ছে ও দিক নির্দেশনা দিচ্ছে ৷ প্রিয় মার্কা আর প্রিয় প্রার্থীর প্রতীক নিয়েও অনেককে বসে থাকতে দেখা যায় ভোট কেন্দ্রে বাহিরে অধীর আগ্রহে ৷
img_20161222_1143232img_20161222_1057492img_20161222_1339372

প্রথম ছবিতে প্রিয় প্রতীক নিয়ে বসে আছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডের দুইজন কর্মী ৷ দ্বিতীয় ছবিতে চার-পাঁচজনকে তাদের প্রিয় প্রার্থীর মার্কা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ৷ তৃতীয় ছবিও ঠিক ওইরকম, তারাও দাঁড়িয়ে আছে ভোটারদের একটু বোঝানোর জন্য ৷ তারা যে ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছে, তাকে বোঝাচ্ছে, আর যেই ভোটার ভোট দিয়ে আসছে তাকে জিজ্ঞেস করছে ৷ এছিল শুধু কেন্দ্রের বাহিরের অবস্থা৷ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০নং ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্র  তিনটি (৩) ৷ যথাক্রমে: (১) লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়, (২) গোদনাইল দক্ষিণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (আজিম মার্কেট) (৩) গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় ৷ এসব ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত ৷ নিম্নে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০নং ওয়ার্ডের তিনটি ভোট কেন্দ্রের কিছু চিত্র সংযুক্ত করা হলো ৷
img_20161222_0924422img_20161222_0925122img_20161222_1034262img_20161222_1058462img_20161222_1100232img_20161222_1120082img_20161222_1122502img_20161222_1142302img_20161222_1118482img_20161222_1141492

এসব উৎসাহ উদ্দীপনা আর আনন্দ বেদনা ও হতাশার দৃশ্যগুলি ছিলো দেখার মত ৷ যার-যার ধান্দা সে-সে নিরবে করে যাচ্ছে যার-যার কাজ ৷ সম্মানিত পাঠকবৃন্দ ও আমার প্রাণপ্রিয় সহ-ব্লগার/লেখকবৃন্দ, আমি আমার ভোট দিয়েছি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৷ সেখানে আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও সেই ভোট কেন্দ্রে কয়েকটি ছবি তুলতে পেরেছি ৷ ছবি তোলার সময় অবশ্য আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যবৃন্দরা আমাকে ছবি তুলতে বারণ করে, পরে আমি নিজেকে বিডিনিউজ এর একজন নাগরিক সংবাদিক ও ব্লগার পরিচয় দেয়ার পর সম্মানিত আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনী আমাকে কয়েকটা ছবি তুলতে দেয় ৷ তার জন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছি, তারাও আমার ধন্যবাদ স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করে ৷ আমি আমার ভোট কেন্দ্রে যেসব ছবিগুলো তুলতে সক্ষম হয়েছি সেগুলি নিম্নরূপ।
img_20161222_1020392 img_20161222_1025562img_20161222_1022552
গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করে চলে আসি আমার অফিসের সামনে, সেখানে একটা ভোট কেন্দ্র আছে তাহলো লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র ৷ এই লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের কিছু ছিবি সংগ্রহের জন্য স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করি ৷ স্কুলের প্রধান ফটকের ভিতরে দুইজন পুলিশ বাহিনী সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় বসা ছিল যা আমি ভিতরে ঢোকার সময় খেয়াল করতে পারিনি ৷ যাই হোক, বুকপকেট থেকে মোবাইলটা বাহির করে যখন লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের ছবি তুলবো তখন কর্তব্যরত ওই দুইজন পুলিশ থেকে একজন পুলিশ দৌঁড়ে এসে আমার মোবাইটা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ৷ আমি বললাম ‘প্লিজ’ দয়া করে আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন যে, আপনি এমন করছেন কেন? সম্মানিত পুলিশ সদস্য আমাকে কোন কিছু না বলেই, আমার শরীরে ধরার চেষ্টা করে ৷ আমি বলতে লাগলাম দেখুন, এটা আমার স্থায়ী এলাকা এবং আমি এখানকার-ই স্থায়ী বাসিন্দা, আমি শুধু একটা ছবি তুলবো বিডিনিউজ ব্লগে আজকের নির্বাচন নিয়ে কিছু লেখার জন্য ৷ কিন্তু সম্মানিত পুলিশ সদস্য আমার কোন কথাই শুনলো না, এক পর্যায়ে খুব বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করে আমাকে ঘাড়ে ধরে স্কুলের গেইটের বাহির করে দেয় ৷

পিয় পাঠকবৃন্দ ও আমার সহ-ব্লগারবৃন্দ, আমি খুব কষ্ট পেয়েছি তবে কোন দুঃখ পাইনি ৷ দুঃখ পাইনি এ কারণে যে, সম্মানিত পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ তারা তাদের কর্তব্য পালন করেছেন ৷ আর আমি কষ্ট পেয়েছি এ কারণে যে, আমি যে বিডিনিউজ ব্লগের একজন নাগরিক সংবাদিক ব্লগার/লেখক, আমার কাছে তার কোন প্রমাণ নেই ৷ যাই হোক, তারপরেও আমি আনন্দিত হলাম যে, দেশের বহু কাঙ্ক্ষিত এই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ভোটের দিনের কিছু ছবি সংবলিত একটা পোস্ট আমি আমার বিডিনিউজ ব্লগে দিতে পেরেছি তাই ৷ প্রিয় পাঠকবৃন্দ, এই লেখাটা লিখেছি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ১০নং ওয়ার্ডের লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাহিরে একটা চা দোকানে বসে ৷ বর্তমানে সময় এখন দুপুর ২.৩০মি: এখনো এই ১০ নং ওয়ার্ডের তিনটি ভোট কেন্দ্রই প্রচুর ভোটারের উপস্থিতি লক্ষণীয় ৷ কে হারবে কে জিতবে তা শোনার জন্য অপেক্ষা করুন আর সন্ধ্যার পর চোখ রাখুন যে কোনো টেলিভিশনের পর্দায় ৷ পরিশেষে শুধু বলছি, বাকীটা সময় যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ বা প্রয়োগের এবং গণনার সমাপ্তি ঘটে, এই কামনা রইল ৷