ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

২৭ চৈত্র ১৩৯৯ বঙ্গাব্দ, ১০ এপ্রিল ১৯৯৩ ইং রোজ রবিবার। ঠিক সকালবেলা বাইর হলাম, বড়দা’র বাসা থেকে। আগেই নাস্তা সেরে জামাকাপড় পড়ে রেডি হয়েছিলাম। জামাকাপড় পড়তেই বড়দাদা জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় যাবি?” আমি বললাম, “দাদা, আমি কানাইদের বাসায় যাচ্ছি। আজই মনে হয় রওয়ানা দিতে পারি, আমার জন্য আশীর্বাদ রাখবি।” বড়দাদা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল, “যা, ভগবানকে স্মরণে রাখবি, আর দেখেশুনে চলবি।”

অবশ্য দাদাকে আগেই ভারতের ব্যাপারে বিস্তারিত খুলে বলেছিলাম। তাই এখন আর নতুন করে কিছু বলতে হল না। এরপর দাদার বাসা থেকে বিদায় নিয়ে কানাইদের বাসায় আসলাম। তখন ঠিক দুপুরবেলা, কানাইদের বাসায় চলছে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব। কানাইর মা আমাকেও খেতে দিলেন, আমিও দু’মুঠো খেলাম।

কানাই আমাকে জিজ্ঞেস করল, “সাথে টাকাপয়সা কিছু এনেছিস?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ আছে কিছু, তা হাজার খানিক হবে।”
কানাই বলল, “তা চলবে, ওখানে গেলে-তো আর টাকার অভাব হবে না। আমি নিজেই তোকে মাসেকখানি চালাতে পারব।”
আমি কানাইকে জিজ্ঞেস করলাম, “রওনা দিবি কয়টা বাজে?”
কানাই বলল, “যেই গাড়ি করে আমরা যাচ্ছি, সেই গাড়ির সুপারভাইজার এই মহল্লার। সুপারভাইজার আসলেই আমরা রওনা দিব।”

সন্ধ্যা হবার সাথে-সাথে কানাই-সহ সবাই রেডি হয়ে আছি। বাসের সুপারভাইজার আসলেই রওনা দিব ভারতের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যার একটু পরেই বাসের সুপারভাইজার কানাইদের বাসায় আসল। কয়জন যাবে এবং কী কী নেওয়া হবে, তার একটা বিবরণ যেনে নিলেন। সাথে নেওয়ার জিনিসগুলোর বিবরণ জেনে কিছুক্ষণ পর সবাই রওনা দিললাম। প্রথমে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা-গাবতলি, সেখান থেকে উঠালাম কেয়া পরিবহনে। যাওয়া হবে বেনাপোল বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারে, বর্ডার পার হয়ে ভারত। বেনাপোল যেতে-যাতে রাত ভোর হয়ে গেল, বাস থেকে নামলাম সকাল ৭ টায়। বাসের বেশিরভাগ যাত্রীদেরই ছিল বৈধ পাসপোর্ট, ছিল না শুধু আমাদের ক’জনের।

পাসপোর্ট না থাকলেও কোনও সমস্যা নেই, আছে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুপারভাইজার। বাস টার্মিনালে যাওয়ার সাথে-সাথেই বর্ডার পাড় করার দালাল রেডি। সুপারভাইজার দালালের কাছে আমাদের চারজনকে বুঝিয়ে দিলেন। দালালকে পাড় করার বিনিময়ে দিতে হবে, জনপ্রতি ২০০ টাকা। দালালের সাথে কথা পাকাপাকি হয়ে গেল বাসের ভেতরেই। এরপর সাথে নেওয়া জিনিসপত্রের ব্যাগগুলো আর আমাদের বহন করতে হয়নি; যা করার দালালের লোকজন করেছে। দালালদের ভ্যানগাড়ি করে আমাদের নিয়ে গেল দালালদের বাড়িতে।

ভারত বর্ডার সংলগ্ন বাড়ি, মনোরম পরিবেশ আর সৌন্দর্যময় জায়গা। অন্যান্য গাছগাছালির মধ্যে সেখানে বাঁশগাছই বেশি। বাসস্ট্যান্ড থেকে যাওয়ার সময় দেখা যায়, বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়েই রাস্তা। রাস্তাও বেশ সুন্দর, আঁকাবাঁকা চিকন রাস্তায় বাইসাইকেলের ছড়াছড়ি। দেখে মনে হয়, এ-যেন সাইকেলের রাজত্ব। সেখানে যার কিছুই নেই, তার একটা বাইসাইকেল অবশ্যই আছে। ওখানকার দৈনন্দিন জীবন চলার একমাত্র সঙ্গী হল, বাইসাইকেল। বেনাপোল বর্ডার সংলগ্ন মানুষের হাটবাজার, মালামাল পরিবহণ-সহ সবকিছুই বাইসাইকেলের ওপর নির্ভর। সাইকেল দিয়েই নেওয়া হচ্ছে বর্ডার পারাপারের খবরাখবর ও যাত্রীদের। সময়-সময় বর্ডার নিরাপত্তায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের কড়া নজরদারিও থাকে। সেসময় পাসপোর্ট বিহীন মানুষকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ওইরকম সমস্যায় পড়ে গেলাম আমরাও, বর্ডার ক্লিয়ার নাই, তাই। বর্ডার সংলগ্ন দালালদের বাড়িতেই বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে তিনদিন।

তিনদিন বন্দি থাকার পর যেদিন বর্ডার পার হবো, সেদিন বিকালবেলার কথা। দালাল এসে আমাদের জানিয়ে দিল, আজ বর্ডার পার করা হবে। ঠিক তা-ই হল, সন্ধ্যার সময়ই দালালদের তাড়াহুড়ো বেড়ে গেল। সেদিন ঝামেলা একটু কম হয়েছে আমাদের। কারণ, আমরা চারজন ছাড়া অন্য কোনও ভারত যাবার যাত্রী ছিল না, তাই। মনে হয় এটিই ছিল, বর্ডারে তিনদিন বিরতির মূল কারণ। দালালদের ছিল যাত্রী সংগ্রহের একটা পন্থা। বর্ডার উত্তপ্ত, লাল সিগনাল, বিএসএফ-এর কড়া নজরদারি এসব ছিল ভুয়া। বর্ডারে তিনদিনের কষ্টের কথা মনে পড়লেই আমার শরীর এখনও শিউরে ওঠে। তিনদিন আটকা থাকা অবস্থায়, দালালদের ঘর থেকেও বাইর হতে দেয়নি। তিনদিনের থাকা খাওয়ার খরচও দেওয়া হয়েছে দালালদের। এ ছাড়া তাদের কোনও কথার অবাধ্য হওয়া যাবে না; কথার অবাধ্য হলেই মুশকিল। তাদের কথামত সেদিন সন্ধ্যার পর গেলাম একটা খালপাড়ে।

বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে যখন খালপাড় গেলাম, তখন খালে কোনও নৌকা ছিল না। রাতের জোৎস্নার আলোতেই পথ চলছি দালাল-সহ আমরা চারজন। তখন খালের স্বচ্ছ পানিতে দেখা যায়, জোৎস্নার ঝিকিমিকি । খালের প্রস্থতা কম হলেও খালটি ছিল দেখতে খুবই সুন্দর। খালের উঁচু দুই পাড়েই গাছগাছালি ভরা। ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারে কাটাতারের বেড়া থাকে, কিন্তু খালপাড়ে নাই। খালের ওপারে থেকে বর্ডার সীমান্তরক্ষীদের ক্যাম্প। রাত তখন আনুমানিক ৮টা, নিরব নিস্তব্ধ এক জনশূন্য এলাকা। দালালদের একজন মুখ দিয়ে খুব জোরে শীষ দিল। শীষ দেওয়ার সাথে-সাথে দুইজন লোক-সহ একটা নৌকা আসল। দালালরা বললেন, “তাড়াতাড়ি গিয়ে নৌকায় উঠেন। আর নৌকার মাঝিকে ২০০ টাকা দিয়ে দিবেন। ওপারে যাওয়ার পর, নৌকার মাঝিই সব ব্যবস্থা করে দিবে।”

আমরা নৌকায় গিয়ে উঠে বসলাম, মাঝি নৌকা ছেড়ে দিল। নৌকা ঘাটে ভিড়তেই দেখা যায়, দুইজন লোক দাঁড়িয়ে আছে অপেক্ষায়। নৌকার মাঝি লোক দুইজনকে ভালো করে বলে-কয়ে বুঝিয়ে দিলেন। যেন যাওয়ার সময় কোন প্রকার অসুবিধা না হয়। নৌকার মাঝিকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে, ওই দুইজন লোকের সাথে রওনা দিলাম। যাদের সাথে আমরা যাচ্ছি, তাদেরও দিতে হবে ৪০০ টাকা। তাদের কাজ হলো, বনগাঁ যাওয়ার গাড়ীতে উঠিয়ে দেওয়া।

চারিদিকে শুধু সবজি খেত, সবজি খেতের মাঝখান দিয়েই পথ। রাতের জোৎস্নার আলোতেই হাটতে লাগলাম। বাড়িঘর খুব একটা নাই, বর্ডার এলাকায় বেশিরভাগ জায়গাই ফসলি জমি। আছে কদ্দুর পর-পর বিএসএফ এর ক্যাম্প আর দু’একটা বাড়ি। আমার খুব ভয়-ভয় লাগছে, যদি বিএসএফ এর ছোঁড়া গুলি গায়ে এসে লাগে! সেই ভয়ে আমি কাঁপছি। দালাল-সহ, আমরা যাচ্ছি খুব সাবধানে। প্রায় আধাঘণ্টা হাটার পর, শোনা যাচ্ছে গাড়ির শোঁ-শোঁ শব্দ। আমি তখন প্রভুকে ডাকছি মনে-মনে, হে প্রভু! তুমি রক্ষা কর! এভাবেই একসময় একটা পাকা সড়কের সামনে সবাই এসে দাঁড়ালাম। বনগাঁ যাবার গাড়ি আসার আগেই ভারতীয় দালালদের ৪০০ টাকা বুঝিয়ে দিলাম। বনগাঁ যাবার গাড়ি আসতেই দালাল হাত নেড়ে সিগনাল দিল, গাড়ি থামল। দালাল দুইজন আমাদের সাথে নেওয়া ব্যাগগুলো বাসে উঠিয়ে দিল। বাস থেকে সবাই নামলাম, বনগাঁ রেলস্টেশন। আমরা যাব শিয়ালদা, ট্রেন ছাড়বে রাত ১০ টায়। রেলস্টেশনের সামনে যখন গেলাম, তখন রাত ৯ টা। শিয়ালদা যাবার ট্রেন ছাড়তে আরও একঘণ্টা বাকি।

অনেক পথ হেটে আসার পর বড্ড খিদা পেয়েছে আমার। তাই আমি কানাইকে বললাম, “হে রে কানাই! এখান থেকে কিছু খেয়ে নিলে হয় না? আমার খুব খিদে পেয়েছে রে!”

আমার সাথে তাল মিলিয়ে কানাইর দু’বোনও বলল, “সত্যি দাদা, খুব খিদা লেগেছে, কিছু খেয়ে নিলে ভালো হয়।” কানাই বলল, “এখানে কিছু এদিক সেদিক ব্যাপার আছে, সবাই একসাথে যাওয়া যাবে না। সবাই একসাথে গেলেই বিপদে পড়তে হবে। আর নানারকম ঝামেলাও হবে। কারণ, এখানকার মানুষ খুবই চালাক, আমাদের দেখেই বুঝে ফেলবে আমারা বাংলাদেশী। তখন হয়ত পুলিশের ঝামেলায়ও পড়তে পারি।”

কানাইর দু’বোন বলল, “তা-হলে কী কিছু খাওয়া যাবে না?” কানাই বলল, “আগে স্টেশনের ভেতরে যাই, পরে দেখা যাবে।” আমি বললাম, “তা-হলে চল, স্টেশনের ভেতরেই যাই!”

সাবাই আস্তেধীরে রেলস্টেশনে দিকে রওনা দিলাম। ভেতরে গিয়ে নিরিবিলি এক জায়গায় সাথে নেওয়া ব্যাগগুলো রাখলাম।
এরপর কানাই আমাকে বলল, “তুই ব্যাগগুলোর সামনে একটু দাঁড়া, আমি ওদের নিয়ে হোটেলে যাই। ওদের নিয়ে আসার পর, তোকে নিয়ে আবার বাইরে যাব।” আমি বললাম, “যা আমি আছি এখানে, একটু তাড়াতাড়ি আসবি।”

কানাই স্টেশনের বাইরে যাবার আগে বলল, “কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বুঝে শুনে জবাব দিবি। আর কেউ যদি জিজ্ঞেস করে যে, কোথায় যাবেন? তা-হলে বলবি, শিয়ালদা যাব। যদি জিজ্ঞেস করে কোত্থেকে এসেছেন? তা-হলে বলবি, বনগাঁ হাই স্কুলের পূর্বপাড় থেকে এসেছি। বেশি কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে বলবি, ‘আপনার এতো দরকার কী? উল্টো তাকেই প্রশ্ন করে বসবি যে, আপনার বাড়ি কোথায়? কোথায় যাবেন? এখানে কেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তা-হলে দেখবি, প্রশ্নকারী ব্যক্তি তোর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এদেশ হল শক্তের ভক্ত, নরমের যম, বুঝলি।”

কানাই ওর দু’বোনকে নিয়ে স্টেশনের বাইরে গেল কিছু খেতে। আমি একা দাঁড়িয়ে আছি, সাথে নেওয়া ব্যাগগুলো আমার পাশে। আমার ভেতরটা কেমন যেন ভয়ে কাঁপছে আর এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি। স্টেশনে থাকা ট্রেনের টিটিকে দেখলেও আমার শরীর ছমছম করছে। ‘বাংলাদেশ থেকে এসেছি, সাথে নেই পাসপোর্ট। আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধী, একবার ধরা খেলে আর রক্ষা নাই। যদি ধরা পড়ে যাই, দেশে রেখে আসা দুটো সন্তানের দশা কী হবে? ওদের কে দেখবে, স্ত্রীর কী গতি হবে? বিনা পাসপোর্টে কেন-ই-বা আসলাম! না আসলেও তো হতো।’ আমার চিন্তার শেষ নাই, কানাইও আসছে না। সিগারেটে অভ্যস্ত লোক আমি, সাথে একটা সিগারেটও নেই। আমি যেন এক সঙ্গীহীন মানুষ, আমার ধারেকাছেও কেউ নেই।

এমন অনেককিছু ভাবতে-ভাবতে একসময় কানাই ওর দু’বোনকে নিয়ে হাজির হল। ওদের দেখে আমার যেন প্রাণ ফিরে এলো। আমার এখন সাহস লাগছে, শরীরে রক্ত সঞ্চালন শুরু হয়েছে। এতক্ষণ যেন আমার শরীরের সমস্ত রক্ত বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। আমাকে একা রেখে বাইরে গিয়ে কানাইও ভাবছিল আমার কথা। ‘কেউ নাকি কিছু জিজ্ঞেস করছে আমাকে, আমি যদি আবার উল্টাপাল্টা কিছু যদি বিলে ফেলি? তা-হলে তো মহা বিপদ। ভারতের পুলিশের হল রাজার হাল, সহজে দেখা যায় না। আবার কাউকে ধরলে আর ছুটানো যায় না। আমাকে পুলিশে যদি কিছু জিজ্ঞেস করে? ভারতে বাটপারের অভাব নাই, সব জায়গায়, সবখানে বাটপারদের রাজত্ব। যদি কোনও বাটপারের কবলে পড়ি?’ এমন চিন্তা নিয়ে তাড়াতাড়ি করে কানাই চলে এলো।

কানাই এসেই আমাকে জিজ্ঞেস করল, “কি রে? ভয়ে ছিলি না কি? আমি তো তোর জন্য খুবই চিন্তায় ছিলাম। তুই এখানে নতুন, তোর ভাষাও বাংলাদেশী। কথা বললেই ধরা খাওয়ার জোগাড়, আবার কোনও জায়গার নামও জানিস না। এসব চিন্তা করে আমি তাড়াতাড়ি চলে এলাম। এখন বল, তোকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেছে?”

আমি হাসি দিয়ে বললাম, “আ-রে না, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি, আর জিজ্ঞেস করলে জবাব দিতাম। তবে তোদের আসতে দেরি দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, যদি কোনও বিপদে পড়িস, তা-হলে তো মহাবিপদ হবে। এখন তোদের দেখে একটু ভালো লাগছে, এতক্ষণ শরীরটা অস্থির লাগছিল। এবার আমাকে কিছু খাওয়া? আমার যে বড্ড খিদা পেয়েছে রে।”

আমার কথা শুনে কানাই বলল, “এখন-তো এখানে ওদের একা রেখে স্টেশনের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। আমি তোকে দেখিয়ে দিচ্ছি, তুই বরং একা গিয়েই ঝটপট কিছু খেয়ে আয়। ওখানে আটার রুটি, চা-বিস্কুট সবই আছে, তুই তাড়াতাড়ি যা। ঝটপট না করলে সমস্যা হবে, কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন আসবে। ট্রেন আসলে আর বেশি দেরি করে না, যাত্রী উঠতে নামতে যতক্ষণ। কারেন্টের ট্রেন, হুইসেল দিলেই ছুটলো, তুই যা তাড়াতাড়ি করে কিছু খেয়ে আয়।”
কানাইর কথা শুনে আমি প্রথমে ভয় পাচ্ছিলাম, পরে সাহস জুগিয়ে বললাম, “স্টেশনের গেইটে থাকা গার্ড কিছু জিজ্ঞেস করবে?”

কানাই বলল, “না-না, গার্ড কিছুই জিজ্ঞেস করবে না। তুই তাড়াতাড়ি গিয়ে খেয়ে আস, ট্রেন আসার সময় হয়ে গেল।” আমি বললাম, “আচ্ছা যাচ্ছি!”

আমি যাওয়ার আগে কানাই জিজ্ঞেস করল, “বর্ডার থেকে যেই টাকা বদল করে দিয়েছি, সেই টাকা থেকে কিছু টাকা আলাদা করে রাখ। সব টাকা বাইর করার দরকার নাই, ভারতের বাড়ি, টাকার খুব দাম!”

আমি কানাইর কথামত কিছু টাকা সামনের পকেটে রাখলাম। আর বাদবাকি টাকা প্যান্টের ভেতরের পকেটে রাখলাম। ভগবানকে ডাকতে-ডাকতে গেলাম গেইটের বাইরে।

চলবে…