ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

p20170923-141929
সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাসার সামনে দোকানে বসে অপেক্ষায় থাকত। অপেক্ষা শুধু আমাকে এক নজর দেখার জন্য। আমি প্রতিদিন সকাল ৯ টায় অফিসের কাজে যাই। রাস্তার সাথেই চা-দোকান, উত্তর-দক্ষিণে রাস্তা। আমি বাসা থেকে বের হবো উত্তর দিক থেকে। যেই রাস্তা দিয়ে আমি আসবো, সেদিকে চেয়ে বসে থাকে বড়দাদা। আমার সাথে কোনও কথার দরকার নেই, তবু আমাকে না দেখে আর বাসায় যায় না। আমরা ভাইবোন হলাম ছয়জন। তারমধ্যে দাদাই সবার বড়, আমি হলাম সবার ছোট। ছোট বলেই সবার কাছে ছিলাম আদরের। চার বোনের বিয়ে হয়ে গেছে বহু আগে। এক বোন মৃত্যুবরণ করে পরলোকে আর এক বোন ভারতে। দু’বোন বর্তমানে বাংলাদেশে আছে।

দাদা বিয়ে করেছে ১৯৭৩ সালে, নোয়াখালীর একটা গ্রামে। দাদার বিয়ের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ৯বছর। এখনো আমার মনে আছে, দাদার বিয়ের দিনে আনন্দের কথা। আমার চার বোনের বিবাহ এই দাদার হাতেই দেওয়া।

আমার বড়দা’র নাম, শ্রী নিমাই চন্দ্র পাল। বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। কাজ করতেন টেক্সটাইল মিলে। কাপড়ের মিলে কাজ করেছেনও অনেক বছর। বয়সের ভারে অনেক বছর আগে থেকেই মিলের কাজ ছেড়ে দিয়েছিল। সন্তানাদি তিনজন, একজন ছেলে আর দুইজন মেয়ে। ছেলে বড় আর দুই মেয়ে ছোট। ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে দাদার প্রথম স্ত্রী মারা যায়। স্ত্রীর মৃত্যুতে দাদা একপ্রকার ভেঙ্গে পড়ে। তখন সবেমাত্র বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিল। ছোট মেয়েটার বয়স তখন ১৫ বছর মাত্র। বড় ছেলে বিয়ের উপযুক্ত হলেও বিয়ে আর করেনি। জরিয়ে গেল সমবয়সীদের সাথে নেশার জগতে।

দাদা তখন বাসা নিয়ে থাকতো নারায়ণগঞ্জ নন্দিপাড়া। মাকে নিয়ে আমি থাকতাম শহরের বাইরে নগর খাঁনপুরে। একসময় দাদাকে নিয়ে আমি পড়ে যাই দুশ্চিন্তায়। কারণ, দাদাকে শেষ বয়সে দেখবে কে? ছেলের কোনও গ্যারান্টি নাই। মেয়ে দুইজন থাকবে বাপের কুল ছেড়ে অন্য কুলে। দাদাকে মেয়েরা যদি না দেখে? শেষ বয়সে যদি বিছানায় পড়ে যায়? দাদাকে নিয়ে আমি এমন চিন্তাভাবনায় ছিলাম জর্জরিত। এসব ভেবে আমি দাদাকে একটা বিয়ে করার প্রস্তাব দেই। দাদা প্রথমে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয়। স্ত্রী মৃত্যুর একবছর পর দাদা বুঝতে পারে যে, তার বিয়ে করা দরকার।

অভাবের সংসারে ছোট মেয়ে কাজ করে একটা নীট কারখানায়। ঘরের রান্নাবান্নার কাজ দাদাকেই করতে হতো। ছোট মেয়ে আর ভাদাইমা ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। হাট-বাজার, রান্নাবান্না, জামাকাপড় ধোয়া সহ সব কাজই দাদার করতে হতো। দাদার এসব কাজ আর করতে ভালো লাগে না। তাই একদিন লোক মারফৎ আমাকে একটা পাত্রী দেখতে বলে। আমি দাদার প্রস্তাবে স্বাগত জানিয়ে পাত্রী দেখতে শুরু করি। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই আমি পাত্রীর সন্ধান করে ফেলি। কোনও দাবিদাওয়া ছাড়াই দাদার বিয়ে সম্পন্ন হলে গেল। এর কিছুদিন পর ছোট মেয়ের বিয়ের ঘর আসে। তখন ছোট মেয়ের বয়স ১৬ বছর। মোটামুটি বিয়ের বয়স হয়েছে কেবল। ছোট মেয়ের বিবাহ সম্পাদনের কাজও আমার ঘাড়ে পড়ে। তখন দাদা টেক্সটাইল মিলে চাকরি করে। বেতন সীমিত আর ডিউটি ১২ ঘণ্টা। যেই টাকা বেতন পেতো, তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হতো। কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন বড় ছেলের মৃত্যু। দাদা হয়ে গেল নিঃস্ব, এতিমের মতো।

দাদা আরও ভেঙ্গে পড়ে চিন্তায়। মৃত্যুর পর তার চিতায় প্রদীপ জ্বালানোর কোনও লোক রইল না। দ্বিতীয় সংসারে আর ছেলেপেলে হওয়ার আশংকা নাই, হবেও না। বয়সের ভারে আর পুত্র শেকে কাজ করতেও অক্ষম হয়ে যায়। স্ত্রী কাজ নিলো একটা রিং টুইস্টিং মিলে। সংসার চলে দ্বিতীয় স্ত্রীর রোজগারে। আর সরকার ঘোষিত বয়স্কভাতায়। এদিকে প্রচুর ধূমপানের কারণে দাদা শ্বাসকষ্টেও ভুগতে লাগল। মাঝেমধ্যে আমি কিছু সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি। তবে মাঝেমধ্যে কিছু ঔষধের খরচ বাবদ। গত দু’বছর আগে একবার দাদার অবস্থা বেগতিক। শীতের দিনে শ্বাসকষ্ট এমনিতেই বেড়ে যায়।

একদিন রাত ৯ টায় কান্নাকাটি পড়ে গেল। আমার কাছে ফোন করে বৌদি বলল, ‘ঠাকুরপো তুমি কোথায়?’ আমি বললাম, আমি তো অফিসে। কেন, কি হয়েছে বৌদি? বৌদি বলল, ‘তুমি যেভাবেই পার, তাড়াতাড়ি আস। তোমার দাদার অবস্থা বেশি ভালো না। আমরা এখন নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে আছি।’

সেদিন আমার হাসপাতালে যেতে সময় হয়েছিল, প্রায় রাত ১১ টা। হাসপাতাল গিয়ে জানলাম, দাদাকে অতিসত্বর ঢাকা মেডিকেল নিতে হবে। না নিলে আর হয় না। মানে মেডিকেল না নিলে দাদা আর বাঁচবে না। তাড়াতাড়ি করে হাসপাতাল থেকে একটা এম্বুলেন্স নিয়ে রওনা দিলাম। সাথে বৌদি-সহ আরও চার-পাঁচজন। ঢাকা মেডিকেল যেতে বেজেছিল রাত ১ টার মতো। আমার সাথে ছিল, নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের একজন কর্মচারী। তাকে বাবুদা বাবুদা বলেই সম্মোধন করি, থাকি একই মহল্লায়। বাবুদা সাথে-সাথে দাদার ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলে। সে সময় ঢাকা মেডিকেলে দাদা দুইদিন চিকিৎসাধীন থেকে ভালো হয়েছিল। সেই চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে দাদা, দুইবছর পার করল। মাঝেমধ্যে টুকটাক চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও বেশি একটা সমস্যা হয় নাই।

এবার দাদার জীবনের শেষ চিকিৎসার জন্য গেলেন, নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে। তারিখ ছিল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭  রোজ মঙ্গলবার। হাসপাতাল যাবার পর ডাক্তার দাদাকে আর ভর্তি করায় নাই। বললেন, ‘ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যান, না হয় বাসায়।’ সাথে যাওয়া বৌদি আর বায়াইনের বুঝতে অসুবিধা হলো না। আমি তখন নিজের অফিসে কর্মরত ছিলাম। সময়ের অভাবে আর দাদার সাথে যেতে পারিনি। কিন্তু আমার মনটা ঠিক হাসপাতালেই ছিল। সাথে যাওয়া বৌদি ও বেয়াইন দাদাকে বলছে, ‘চলেন ঢাকা মেডিকেল যাই।’

দাদা যাবে না। আবার বলছে, ‘না হয়, চলেন বাসায় যাই।’ তাও যাবে না। হাসপাতালের ট্রলিতে বসছে তো বসছেই, আর নড়েচড়ে না। এদিকে ডাক্তার, নার্স-সহ সবাই দাদাকে আর বসা থেকে নড়াতে পারছে না। এ অবস্থায় সাথে যাওয়া বৌদি আর বেয়াইন আমার কাছে বারবার ফোন করছিল।

আমি ফোনকল পেয়েও অফিসের ঝামেলায় আসতে পারছি না। আর হাসপাতেলের ব্যাপার-স্যাপার। টাকা-পয়সারও দরকার থাকতে পারে। শুধু গেলেই তো আর হবে না! প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে; তাই আমার দেরি। তারপরও ফোনের পর ফোন, ‘তুমি আস, তুমি আস।’ আমি হাসপাতাল গেলাম বেলা দেড়টায়। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে তখনো দাদা ট্রলিতে বসা। শুধু এদিকওদিক তাকাচ্ছে, কাউকে কিছু বলছে না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেও কারোর কথার কোনও উত্তর দিচ্ছে না। ট্রলি থেকে ওঠছেও না। এদিকে ডাক্তার, নার্স-সহ সবাই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে, ‘রুগী সরাচ্ছে না কেন? তাড়াতাড়ি ট্রলি খালি করে রুগী সরাও।’ বলছে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্স।

আমি রিকশা থেকে নেমে যখন সামনে গেলাম। দাদা আমাকে দেখেই ট্রলি থেকে দু’পা নামাচ্ছে। তখন আর তাকে কারোর বলতে হয়নি যে, উঠুন। দাদা নিজে নিজেই প্রস্তুতি নিচ্ছে, পায়ে জুতো পড়ার জন্য। আমি দাদার একহাত আমার কাঁধের ওপর রেখে হাসপাতালের বাইরে আসলাম। সামনেই একটা ইজিবাইক পেয়ে গেলাম। দাদাকে ধরাধরি করে ইজিবাইকে নিয়ে বসালাম। সাথে আছে বৌদি ও বেয়াইন। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে ইজিবাইক ছাড়ল। চলছে ইজিবাইক, দাদাকে নিয়ে বাসার দিকেই রওনা দিলাম। দাদার মাথাটা ছিল আমার ডানহাতের ওপর। ১৫ মিনিট পরই লক্ষ্য করলাম, দাদার শ্বাস উঠে গেছে খুব জোরে। এ অবস্থায় একটু জলের খুবই প্রয়োজন, কিন্তু জল পাবে কোথায়? তখন সব গাড়িই জ্যামে পড়া। জলের জন্য যেতে হলে অনেক দূরে যেতে হয়। ইজিবাইক থেকে সামনে পিছে সমান দূরত্ব। আমি চিৎকার করে বলতে লাগলাম, কেউ একটু জল দিবেন, জল।

আমার চিৎকারে সারা দিলেন, পাশে ইজিবাইকে বসা এক মহিলা। তার ব্যাগ থেকে আমাকে এক বোতল জল ফিকে দিলেন। আমি বোতলের মুখটা খুলে দাদার মুখে জল দিলাম; দিলেন বৌদি আর বেয়াইনও। এই ছিল আমার দাদার পৃথিবীর শেষ খাবার। দাদার জন্য আর কোনদিন খাবারের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন হবে নে কোনও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের। দরকার হবে না বাসস্থানের, লাগবে না কোনও দেখাশোনার লোক। দাদা আমার দিকে একনজর তাকাল, কিন্তু কিছুই বলতে পারেনি। আস্তে-আস্তে আমার কোলেই দাদা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।

ভাবছি, মৃত্যু এতো কঠিন? কঠিন হলেও এতো সহজ? মুহূর্তেই সব শেষ? হ্যাঁ হয়েছেও তাই। জন্মিলে মরিতে হয়, কথাটা চিরসত্য ও বাস্তব।

জন্মগ্রহণ করলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। মৃত্যুর হাত হতে পরিত্রাণ লাভের উপায় নাই। মৃত্যু কাহাকও উপেক্ষা করে না। অগণ্য গণ্য পরিবেষ্টিত লোক সংহারকারী বিবিধ অস্ত্র-শাস্ত্র সমন্বিত সম্রাট হতে বৃক্ষতলবাসী ছিন্নকন্তা-সম্বল ভিখারী পর্যন্ত সকলকেই একদিন মৃত্যু মুখে পতিত হতে হবে।

উপরোল্লিখিত উক্তি গীতায় বর্ণিত। আমার দাদাও আজ সেই পথে পতিত, আমিও মৃত্যু পথের পথিক। হয়ত আজ, না হয় কাল আমাকেও যেতে হবে এই নশ্বর সংসারের মায়ামমতা ত্যাগ করে।

পথিমধ্যেই শুরু হয়ে গেল কান্নাকাটি আহাজারি। বাসায় নেবার সাথে-সাথেই তার মেয়ে নাতি-নাতীনদের কান্নাকাটিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে গেল। আসতে লাগল তার দারিদ্র্য জীবনের সমবয়সী বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী। এরপর সন্ধ্যা ৭ টায় দাদার মরদেহের শবদাহ (অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া) সৎকার করার জন্য শুরু হলো প্রস্তুতি। সবাই মিলেমিশে নিয়ে গেলাম, নারায়ণগঞ্জ পৌর শ্মশান ঘাটে। সেখানে আমার মা এবং আমার ছেলেকেও রেখেছি।

অন্ত্য+ইষ্টি = জীবনের শেষ যজ্ঞ। আগেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে, দাদার মরদেহ দাহ করা হবে। যেহেতু আমরা যোগী বা নাথ নই, আবার সন্ন্যাসী বা বৈষ্ণবও নই। তাই দাদার মরদেহ দাহ করাই শ্রেয়। আমাদের হিন্দুধর্মে কবর দেয়া বা সমাধি দেয়া নিষিদ্ধ নয়। স্মৃতিশাস্ত্রে স্পষ্টভাবেই এটা অনুমোদিত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে এখনও এটা প্রচলিত আছে। যেমন- নাথ বা যোগী সম্প্রদায় এবং সন্ন্যাসী ও বৈষ্ণবদের সমাধি দেয়া হয়। অনেক জায়গায় দেখা যায় কারও অপমৃত্যু হলে তার মরদেহ সমাধি দেয়া হয়, পোড়ানো হয় না।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নিয়ম:
মরদেহ দাহের আগে ঘি মাখিয়ে মরদেহ স্নান করানো হয়। তারপর চন্দন মাখিয়ে তার দু’কান, নাকের দুটি ছিদ্র সহ মরদেহের দশ ইন্দ্রিয় বন্ধ করতে হয়। তার মানে হলো, দেহের সব কয়টি ছিদ্রই বন্ধ করে দিতে হয়। (আগে এই দশ ইন্দ্রিয় বন্ধ করা হতো সোনা বা কাঁসার টুকরা দ্বারা। এখন সোনা বা কাঁসার অভাবে তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় তুলা দিয়ে)। এরপর মৃত দেহকে নব বস্ত্র পরাতে হয়, ব্রাহ্মণ হলে দিতে হয় পৈতা।

এরপর মরদেহ চিতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থাকে চন্দনকাঠ বা আমগাছের খড়ি সাজানো স্তুপ। (আগেকার রাজা মহারাজাদের চন্দনকাষ্ঠ দিয়েই দাহ করা হতো)। এখনও সেই নিয়ম বলবত আছে, সামান্য হলেও দিতে হয়।

মরদেহ চিতার সামনে নিয়ে সাজানো খড়ির স্তুপের চারদিক তিনবার প্রদক্ষিণ করা হয়। পরে মরদেহ খড়ির উপর উত্তরমুখী করে শোয়াতে হয়। এই তিনবার প্রদক্ষিণ করে পুত্র, প্রধানত জ্যেষ্ঠপুত্র। পুত্র যদি না থাকে, তাহলে কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আমার দাদার কোনও পুত্র ছিল না, তাই মেয়ের ঘরের ছেলেকে দিয়েই মুখাগ্নি করানো হয়েছে।

মুখাগ্নি:
সাজানো শুকনো খড়ির স্তুপে শোয়ানো আছে মরদেহ। যিনি মুখাগ্নি করবেন, তিনি একগোছা পাটখড়ি জ্বালিয়ে হাতে নিবেন। তাকে ধরে রাখবেন সাথে যাওয়া নিকটাত্মীয় যেকেউ। মরদেহের চারদিক সাতবার ঘুরে-ঘুরে এক একবার মরদেহের মুখে আগুন লাগাবে। এই নিয়মটাকেই বলা হয়, মুখাগ্নি বা মুখে আগুন।

দাহকালে চিতায় জ্বলন্ত আগুনে বারবার ধূপের গুড়া ছিটানো হয়। কারণ, মরদেহ দাহ করার সময় যেন কোনও প্রকার দুর্গন্ধ বাইর না হয়, তাই।

দাহকার্য শেষ হলে যিনি মুখাগ্নি করেন, তিনি সাত কলসি এবং অন্যরা এক এক কলসি জল দিয়ে চিতার আগুন নেভান। এরপর অদগ্ধ দেহাংশ, ভস্ম ইত্যাদি মাটির পাত্রে সংগ্রহ করে জলে ভাসানো হয়। স্নান করে বাড়ি ফিরে নিমপাতা দাঁতে কেটে আগুন, লোহা, মটর ডাল ইত্যাদি (মতান্তরে পাথর, আগুন, জল, সাদা সরষে) স্পর্শ করে বাড়িতে ঢুকতে হয়।

দাদার মরদেহ দাহ করে বাসায় ফিরলাম, ১৯ সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার রাত ১২ টায়।

পরিশেষে:
আমার বড়দা’র মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন দাদার বিদেহী আত্মা স্বর্গবাসী করে। সেই সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভুতি জ্ঞাপন করছি। এবং আমার বড়দা’র বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। সবাই আশীর্বাদ করবেন, দাদা বিদেহী আত্মা যেন স্বর্গবাসী হয়।